ঢাকা, -

আলোচিত সংবাদ

ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও আইআরজিসি কমান্ডার নিহত: রয়টার্স

ছবি- সংগৃহীত

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

পারমাণবিক কর্মসূচি বিষয়ক আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার জেরে হঠাৎই ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে তেহরানসহ ইরানের পাঁচটি প্রধান শহরে যৌথভাবে ভয়ংকর এই হামলা চালায় মিত্র দুই দেশ।

হামলায় বিশেষভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কার্যালয় ও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বাসভবনকে। পাশাপাশি মন্ত্রী ও সামরিক প্রধানদের বাসভবন, প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের স্থাপনাসহ অন্যান্য স্থাপনাকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

এসব হামলায় এরই মধ্যে ইসরায়েল ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ এবং বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুরকে হত্যা করতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করেছে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স। ইসরায়েলের সামরিক অভিযান সম্পর্কে অবগত দুজন এবং একজন আঞ্চলিক সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থাটি।

তবে, এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কিছু জানানো হয়নি। এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির অবস্থা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

আরও পড়ুন  ভারতের আশীর্বাদ ছাড়া ক্ষমতায় আসা যায় না, এটা দুঃখজনক: ক্রীড়া উপদেষ্টা

তবে, ইরানি এক কর্মকর্তার বরাতে বার্তাসংস্থা রয়টার্স বলছে, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তেহরানে নেই; তাকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানও সুস্থ রয়েছেন এবং কোনো সমস্যা নেই বলে নিশ্চিত করেছে মেহের নিউজ এজেন্সি ও ইসনা নিউজ এজেন্সি।

এদিকে শুধু ইরানের শাসকগোষ্ঠীই নয়; ইসরায়েলি হামলার টার্গেটে পরিণত হয়েছে কোমলমতি শিশুদের স্কুলও। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে চালানো ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৫১ শিক্ষার্থীর প্রাণ ঝরে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টার দিকে হামলাটি চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরের শাজারে তায়্যিবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয় লক্ষ্যবস্তু হয়। হামলায় নিহত ৫১ শিক্ষার্থীর সবার বয়স ৭ থেকে ১২ বছরের মধ্যে।

হামলার সময় স্কুলটিতে প্রায় ১৭০ ছাত্রী উপস্থিত ছিল। হামলার পর অনেক শিক্ষার্থী ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছে বলেও জানা গেছে।

আরও পড়ুন  কক্সবাজারে চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীকে হত্যার মুলহোতাসহ আটক ২

উল্লেখ্য, ইরানে হামলার সাথে সাথেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক ভিডিও বার্তায় ঘোষণা করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘বড় ধরনের যুদ্ধাভিযান’ চালিয়েছে। আমরা বারবার একটি চুক্তি চেয়েছি। আমরা চেষ্টা করেছি।  তিনি বলেন, আমরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস ও ক্ষেপণাস্ত্র কারখানা জ্বালিয়ে দিতে যাচ্ছি। এটা পুরোপুরি ধ্বংস করা হবে।

অবশ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ এই হামলার পর চুপ করে বসে নেই ইরান। তাৎক্ষণিকভাবে জবাব দেওয়া শুরু করেছে তারাও। ইসরায়েলে বৃষ্টির মতো আঘাত হানছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র। শুধু ইসরায়েলেই নয়; যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর জবাব দিতে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত তাদের সামরিক ঘাঁটিগুলোতেও হামলা শুরু করেছে দেশটি। এরই অংশ হিসেবে কাতার, সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে ইরান।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) নিশ্চিত করেছে, ইরান থেকে ছোড়া অসংখ্য ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশসীমায় শনাক্ত করা হয়েছে। এই ভয়াবহ পাল্টা হামলার পর পুরো ইসরায়েলজুড়ে বিপদ সংকেত বা সাইরেন বেজে উঠেছে এবং নাগরিকদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন  কক্সবাজারে ‘রাষ্ট্র সংস্কার’র নামে গোপন বৈঠক, আটক ১৯

আইডিএফের পক্ষ থেকে জারি করা জরুরি সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের বড় ধরনের ঢেউ আমাদের সীমান্তের দিকে ধেয়ে আসছে।  আমাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং বিমান বাহিনী এই হুমকিগুলো প্রতিহত করার জন্য সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে কাজ করছে।

আইডিএফ আরও সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শতভাগ নিখুঁত নয়, তাই বড় ধরনের প্রাণহানি এড়াতে জনগণকে অবিলম্বে আইডিএফের সুরক্ষা নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।  তেল আবিবসহ ইসরায়েলের প্রধান শহরগুলোতে এখন মুহুর্মুহু সাইরেন আর বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে, যা দেশটিকে এক নজিরবিহীন সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এরই মধ্যে এক বিবৃতিতে হুঙ্কার দিয়েছে, শত্রু চূড়ান্তভাবে পরাজিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের অভিযান নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে।

আলোচিত সংবাদ

এ বিভাগের আরও

সর্বশেষ