সারাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলেও কুষ্টিয়া-২ আসনে কারচুপির ভোটে নিজে পরাজিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু।
তিনি বলেন, তাই আমি মনে করি কুষ্টিয়া-২ আসনে আমি জনগণের ভোটে নয় কারচুপির ভোটে পরাজিত হয়েছি। আশা করি এর তদন্ত হবে এবং প্রতিকার হবে।
মঙ্গলবার (৯ জানুয়ারি) কুষ্টিয়ার মিরপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে ইনু অভিযোগ করেন, ভোটগ্রহণের সাতদিন আগে থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থীর মাস্তান বাহিনী ভোটারদের মাঝে আতঙ্ক ছড়ায়। এছাড়া ১৮টি কেন্দ্রে অস্বাভাবিক ভোট পড়েছে, যা কর্তৃপক্ষের নজরে আনার পরও কোনো প্রতিকার মেলেনি। অবশ্য এসব ঘটনা ও ফলাফল ১৪ দলীয় জোটের উপর কোন প্রভাব ফেলবে না বলেও জানান ইনু।
এবার নৌকা নিয়ে ১৪ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে হেরে যান তিনি।
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ১৪ দলের শরিকদের ছয়টি আসনে ছাড় দিয়েছিলো আওয়ামী লীগ। যেসব আসনে ছাড় দেওয়া হয়েছিলো তার মধ্যে কেবল রাশেদ খান মেনন আর রেজাউল করিম তানসেন জিততে পেরেছেন।
২০০৮ সাল থেকে গত তিনটি সংসদ নির্বাচনে ১৪ দলের শরিকদের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি করে ভোটে অংশ নেয় আওয়ামী লীগ। গত নির্বাচনেও জোটসঙ্গীদের ১৩ আসন ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। জোটের অন্যান্য দলের সিংহভাগ প্রার্থীই আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-২ আসনে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে নৌকা দেওয়া হয়। দলটির আরও দুইজনকে আওয়ামী লীগ ছাড় দেয়। তাদের মধ্যে রেজাউল করিম তানসেন বগুড়া-৪ আসনে নৌকা প্রতীকে জয়ী হয়েছে। আর জাসদ নেতা মোশাররফ হোসেন লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে নৌকা নিয়ে ভোট করেও জিততে পারেননি।
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন গত তিনবার ঢাকা-৮ আসন থেকে নির্বাচন করেছে সংসদে গেছেন। এবার আওয়ামী লীগ তাকে ছাড় দেয় বরিশাল-২ আসনে। সেখানে প্রায় ৯০ হাজার ভোটের ব্যবধানে তিনি জয়ী হয়েছেন। তবে ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা আগের মতই রাজশাহী-২ আসনে নৌকা নিয়ে ভোট করেও হেরেছেন।
এর বাইরে জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে পিরোজপুর-২ আসন ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। এবার তাকে হারতে হয়েছে।
কুষ্টিয়া-২ আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে ইনু পেয়েছেন ৯২ হাজার ৪৪৫ ভোট। ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী কামারুল আরেফিন এক লাখ ১৫ হাজার ৭৯৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন এ আসনে।
সংবাদ সম্মেলনে ইনু বলেন, বিচ্ছিন্ন, বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া সারা দেশে ভোট সুষ্ঠু হয়েছে। এই মতের সাথে আমি একমত। দ্বিতীয়ত, আমি মনে করি, বিচ্ছিন্ন, বিক্ষিপ্ত যে কারচুপির ঘটনা ঘটেছে। তার মধ্যে দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য আমরা এলাকা কুষ্টিয়া-২ পড়েছে। এখানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মস্তান বাহিনী ভোটের সাত দিন আগে থেকে যে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে সেটাও বন্ধ করা সম্ভব হয়নি এবং ভোটের দিন ১৬১ কেন্দ্রের মধ্যে অস্বাভাবিক ভোট প্রদান লক্ষ্য করা গেছে। যা কারচুপির মাধ্যমে করা হয়েছে। এ বিষয়ে বারবার প্রতিবাদ করার পরেও, কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরেও প্রশাসনের কর্মকর্তারা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
১৪ দলীয় জোট নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ইনু বলেন, নির্বাচনী বিষয় নিয়ে জোটের রাজনৈতিক বিষয়ে প্রভাব পড়বে না। জোটের বিষয়ে আমরা ঐক্যমতে আছি। জোটের শরিকদের মধ্যে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে বিভ্রান্তি-বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেটা অবশ্যই নিষ্পত্তি করতে হবে। সাথে সাথে জোটের প্রার্থীর এলাকা আওয়ামী স্বতন্ত্র প্রার্থীর যে হুমকি-ধামকি অত্যাচার শুরু হয়েছে তা বন্ধ করতে হবে। তা না হলে জোটের অভ্যন্তরে সুষ্ঠু পরিবেশ থাকবে না।
তিনি বলেন, ঢাকায় গিয়ে জোটের বৈঠকে কথা হবে। যেহেতু আমরা জোটের শরিক সেহেতু এলাকায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে সাংঘর্ষিক অবস্থা থাকা উচিত না। জোটের প্রার্থীর বিরদ্ধে অনেকক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব বিরোধিতা করেছে। এটা আমরা নজরে আনবো। এটা তাদের দলীয় বিশৃঙ্খলা, সমাধান করার আহ্বান জানাবো।
ইনু বলেন, আমার এলাকায় আওয়ামী নেতৃত্ব নৌকার বিরুদ্ধে ভোট করেছে। এখানে কেন্দ্রে দুই-একজন নেতা সরাসরি জড়িত বলে আমার কাছে অভিযোগ এসেছে।














