ঢাকা, শনিবার - ১৩ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

গণমাধ্যম ও সংখ্যালঘু প্রতিনিধিদের সঙ্গে মার্কিন প্রাক নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দলের বৈঠক

ছবিঃ সংগৃহীত

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

গণমাধ্যম, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের কাছে আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে ভোটের পরিবেশ সম্পর্কে জানতে চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দল।

মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর) দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে পৃথক বৈঠকগুলো অনুষ্ঠিত হয়।

আজ নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের মধ্য দিয়ে সফরের তৃতীয় দিন শুরু করে মার্কিন প্রাক নির্বাচনী পরিবেশ মূল্যায়ন দল। দুপুরের পর তারা বিভিন্ন সংবাদপত্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রথমে বৈঠক করেন। এতে অংশ নেন প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান, ঢাকা ট্রিবিউনের প্রধান সম্পাদক জাফর সোবহান এবং বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের সম্পাদক ইনাম আহমেদ।

বৈঠকের পর সোহবার হাসান সাংবাদিকদের জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক-নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল আমাদের কাছে নির্বাচনের পরিবেশ সম্পর্কে জানতে চেয়েছে। আমরা আমাদের মতো নির্বাচনের পরিবেশ সম্পর্কে জানিয়েছি। আমরা বলেছি, নির্বাচন নিয়ে দুই পক্ষের (আওয়ামী লীগ ও বিএনপি) দুই অবস্থান। দুই পক্ষ আলোচনায় না বসলে এই সমস্যার সমাধান হবে না।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আমাদের মিডিয়ার স্বাধীনতার প্রসঙ্গে কথা হয়েছে। মিডিয়ার স্বাধীনতা, দেশের নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে। আমরা জানিয়েছি মাঠে যা দেখছি, যা শুনছি তা বলার চেষ্টার করেছি। যে বাধা আছে তা অতিক্রম করার চেষ্টা আছে আমাদের সাংবাদিক বন্ধুদের।

আরও পড়ুন  বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস

জাফর সোবহান বলেন, মার্কিন প্রতিনিধিরা বলেছেন, তারা বাংলাদেশে একটি ভালো নির্বাচন চান। সুষ্ঠু নির্বাচন চান, সেটা কীভাবে হতে পারে সেজন্য রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সঙ্গে তারা বসেছেন। এরই অংশ হিসেবে গণমাধ্যমের সঙ্গেও কিছু কথা বলছেন। তারা আমাদের আইডিয়া জানতে চেয়েছেন। আমরা বলেছি আমরাও সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। আমরা তাদেরকে প্রস্তাব দিয়েছি ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দল একসঙ্গে বসে সংলাপের মাধ্যমে যদি তারা ঐক্যমতে আসেন তাহলে আমাদের সবার জন্য ভালো হয়। এছাড়াও স্বাধীনভাবে রিপোর্ট প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছি।

এরপর মার্কিন প্রতিনিধি দল সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এতে অংশ নেন সরকার দলীয় সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নাজমা আক্তার ও সেলিমা আহমাদ, বিএনপি’র নিলোফার চৌধুরী মনি, জাতীয় পার্টির শেরীফা কাদের এবং জাসদের সহসভাপতি আফরোজা হক রীনা।

আরও পড়ুন  রাশিয়া গেলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং

বৈঠকের পর নিলুফার চৌধুরী মনি জানান, প্রাক-নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দল নির্বাচনী সহিংসতার শঙ্কা নিয়ে জানতে চেয়েছেন। তবে সরকারি দলের সংসদ সদস্য বলেন, এমন কোন শঙ্কা প্রকাশ করা হয়নি।

সন্ধ্যার পর মার্কিন প্রতিনিধিরা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি ও সংখ্যালঘু বিষয়ক গবেষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

এতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের অন্যতম সভাপতি অধ্যাপক নিমচন্দ্র ভৌমিক ও ব্রতী’র নির্বাহী পরিচালক শারমিন মুরশিদ।

বৈঠকের পর নিমচন্দ্র ভৌমিক জানান, তারা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘুদের উদ্বেগের ইস্যুগুলো জানতে চেয়েছেন। আমরা বলেছি, সংখ্যালঘু নির্যাতন নতুন ইস্যু না। ২০০১ সালেও ছিল। এমনকি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়েও ছিল। তবে সহিংসতামুক্ত নির্বাচন হলে সংখ্যালঘুরা নিরাপদে থাকবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন পর্যবেক্ষক দল বুধবার (১১ অক্টোবর) আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন।

আরও পড়ুন  সারাদেশে ১ কোটি ৪১ হাজারের বেশি পশু কোরবানি

এছাড়াও সফরকালে তাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ভোটের পরিবেশ ও পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে গত ৭ অক্টোবর ঢাকায় এসেছে মার্কিন এই প্রাক নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দল।

ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) ও ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউটের (এনডিআই) বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ মিশনটি যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা-ইউএসএআইডি’র সহায়তায় পরিচালিত হচ্ছে। পর্যবেক্ষক দলে রয়েছেন সাবেক দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী কার্ল এফ. এন্ডারফার্থ, সাবেক ডেপুটি ইউএসএআইডি প্রশাসক বনি গ্লিক, মালয়েশিয়ার প্রতিনিধি পরিষদের সাবেক সদস্য মারিয়া চিন আবদুল্লাহ, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাবেক সহযোগী কাউন্সেল জামিল জাফর, এনডিআই এশিয়া-প্যাসিফিক বিষয়ক আঞ্চলিক পরিচালক মনপ্রীত সিং আনন্দ ও আইআরআইয়ের এশিয়া-প্যাসিফিক ডিভিশনের সিনিয়র ডিরেক্টর জোহানা কাও।

তারা ১৩ অক্টোবর সফর শেষে ঢাকা ছাড়বেন। প্রতিনিধি দলটি সফর শেষে একটি বিবৃতির মাধ্যমে নির্বাচন নিয়ে তাদের উদ্বেগ থাকলে তা জানাবে এবং বাস্তবসম্মত সুপারিশ তুলে ধরবে।

ট্যাগঃ