ঢাকা, রবিবার - ২১শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

চট্টগ্রামে উড়াল সড়ক নির্মাণে ‘অনিয়ম’ পেয়েছে সংসদীয় তদন্ত কমিটি

ছবি- ভয়েস অফ এশিয়া

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

চট্টগ্রাম নগরীতে দ্রুত গতির উড়াল সড়ক (এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে) নির্মাণে ‘কিছু অনিয়মের’ তথ্য উঠে এসেছে। এই এলিভেটেড এক্সেপ্রেসওয়ে বা দ্রুত গতির উড়ালসড়ক নির্মাণ নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছিল, তা তদন্ত করতে গঠিত গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির অনুসন্ধানে অসঙ্গতি পাওয়া যায়।

তদন্তে গঠিত উপ-কমিটির আহ্বায়ক চট্টগ্রাম-১১ আসনের সংসদ সদস্য এম এ লতিফ সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) বেলা ১২টার দিকে এই এলিভেটেড এক্সেপ্রেসওয়ের পতেঙ্গা প্রান্ত থেকে পরিদর্শন শুরু করেন এম এ লতিফসহ তদন্ত কমিটির আরেক সদস্য বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. মজিবুর রহমান। তাদের সঙ্গে তদন্ত কমিটির আরেক সদস্য সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য পারভীন জামান অনুপস্থিত ছিলেন।

নগরীর লালখান বাজার অংশে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পিলারে ফাটল ও নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে এই ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। তারা লালখান বাজার মোড়ে এসে পরিদর্শন কার্যক্রম শেষ করেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) প্রকল্প পরিচালক মাহফুজুর রহমান।

আরও পড়ুন  রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গোলাগুলি, নিহত নৈশ প্রহরী

পরিদর্শন শেষে এম এ লতিফ সাংবাদিকদের বলেন, আমরা পতেঙ্গা অংশ থেকে লালখান বাজার পর্যন্ত বিভিন্ন অংশ দেখেছি। এক্সপ্রেসওয়ের ওপরে দুই পাশের সীমানা দেয়ালে যে কলাম লাগানো হয়েছে, সেগুলো মানসম্মত মনে হয়নি। ‘ফিনিশিংয়ে’ কিছু সমস্যা আছে। দুয়েক জায়গায় রড বেরিয়ে পড়েছে। অসঙ্গতিগুলো প্রকল্প পরিচালক ও কনসালটেন্টকে দেখানো হয়েছে। এই বিষয়ে আমরা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করব। এক্সপ্রেসওয়ের মূল কাঠামোর কাজ শেষ হলেও র‍্যাম্পের কাজ এখনও না হওয়ায় যান চলাচলের জন্য খুলে দিলে সুফল পাওয়া যাবে না।

চট্টগ্রাম নগরীর লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড ও চীনের র‍্যাঙ্কিন যৌথভাবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে।

আরও পড়ুন  কক্সবাজারের শীর্ষ 'সন্ত্রাসী' সাহাব উদ্দিন অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার

২০১৭ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন হওয়ার সময় তিন হাজার ২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রকল্পটি ৩ বছরের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। ২০২২ সালে নকশা ‘সংশোধন’ করে আরও এক হাজার ৪৮ কোটি টাকা ব্যয় বৃদ্ধি এবং মেয়াদ ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। প্রায় ১৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে সংশোধিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা।

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ নিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে আলোচনা হয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে। পরে ১০ জুন এসব অভিযোগগুলো তদন্ত এবং নির্মাণকাজের গুণগতমান যাচাই বাছাইয়ে এই উপ-কমিটি গঠন করে দেয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক এম এ লতিফ বলেন, আমাদের তদন্তে তিন মাস সময় আছে। নির্মাণকাজে কোথাও কোন অনিয়ম হয়েছে কি না, তা সব দেখে প্রতিবেদন জমা দেব। এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প। কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না।

আরও পড়ুন  কমিশনের একটাই নির্দেশনা, অবাধ সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচন: ইসি

প্রকল্পের নির্মাণকাজ চলাকালে গত মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ৪টি পিলারে ফাটল ধরে। ৪টি পিলারই লালখান বাজার অংশে। তবে ফাটলে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে কোনো ক্ষতি হবে না বলে দাবি করেছে প্রকল্পের বাস্তবানকারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) প্রকল্প পরিচালক মাহফুজুর রহমান।

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান বলেন, শতভাগ গুণগত মান নিশ্চিত করে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ করা হয়েছে। সব কাজে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে হয়েছে। পরিদর্শনে স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবেক গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদও এসেছেন।

এ প্রকল্প যখন অনুমোদন হয়, তখন তিনি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। তিনি বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছিলেন। মূলত সে অনুযায়ী কাজ হয়েছে কিনা, তা দেখতে আসছেন।