ঢাকা, -

আলোচিত সংবাদ

চট্টগ্রামে ‘ছোট সাজ্জাদ-সরওয়ার গ্রুপ’র মধ্যে গোলাগুলি, নিহত ২

ছবি- সংগৃহীত

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় বালুমহাল নিয়ে বিরোধের জেরে গোলাগুলির ঘটনায় দু’জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়াও আহত হয়েছেন আরও দু’জন। ছোট সাজ্জাদ ও সরওয়ার গ্রুপের মধ্যে বালুমহাল নিয়ে বিরোধের জেরে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয়রা।

শনিবার (৩০ মার্চ) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

গুলি করে হত্যা করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন নগরীর বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন।

নিহতরা হলেন- মো. আব্দুল্লাহ ও প্রাইভেটকার চালক মানিক।

রবিন নামে একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ছাড়াও হৃদয় নামে একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ছোট সাজ্জাদ ও সরওয়ার গ্রুপের মধ্যে বালুমহাল নিয়ে বিরোধের জেরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ছোট সাজ্জাদকে গ্রেপ্তার করতে সহযোগিতা করার সূত্র ধরে ঘটনার সূত্রপাত হয়।

সরওয়ার গ্রুপ বালুমহাল দেখে ফেরার পথে সাজ্জাদ গ্রুপ অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা করে। সরওয়ার গ্রুপ প্রাইভেটকার নিয়ে যাওয়ার পথে রাজাহালী এলাকায় তাদের প্রাইভেটকারের পেছনে ধাওয়া করেন ছোট সাজ্জাদ গ্রুপের সদস্যরা।

আরও পড়ুন  আখাউড়ায় মাদক কারবারির ছুরিকাঘাতে আহত পুলিশ

ঘটনার একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, প্রাইভেটকার পেছন থেকে নগরেীর বাকলিয়া থানার নতুন বিজ্রের পর থেকে ধাওয়া করে চার থেকে পাঁচটি মোটরসাইকেল। পেছন থেকে একাধিকবার প্রাইভেটকার লক্ষ্য করে এবং ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। প্রাইভেটকার থেকেও পিস্তল নিয়ে মহরা দেন সন্ত্রাসীরা।

নগরীর চকবাজার থানার বাকলিয়ার এক্সেস রোড চন্দপুরা অংশে এসে প্রাইভেটকারে গুলি করে। গুলিতে সামনের সিটে বসা চালকসহ দুজন গুলিবিদ্ধ হন। সেখান থেকে ৪ জনকে উদ্ধার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কতর্ব্যরত চিকিৎসক দু’জনকে মৃত ঘোষণা করেন। গুলিবিদ্ধ অন্য দু’জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

প্রাইভেটকারে থাকা হৃদয় নামে একজন গুলিবিদ্ধ বলেন, কর্ণফুলী নদীর পাড়ে বালুমহাল দেখতে একটি প্রাইভেটকার নিয়ে গিয়েছিলেন আব্দুল্লাহসহ ৬ জন। সেখান থেকে রাত সোয়া দুইটার দিকে বের হয়ে তুলাতলী এলাকায় এলে পেছন থেকে চার থেকে পাঁচটি মোটরসাইকেল আমাদের ধাওয়া করে। পেছন থেকে আমাদের লক্ষ্য করে একাধিক স্থানে একাধিক বার গুলি করে। এক্সেস রোড চন্দনপুরা এলাকায় এলে ছোট সাজ্জাদের সেকেন্ড ইন কমান্ডার হাসান ও খোরশেদরা গুলি করে সামনে চালকের সিটে থাকা একজন ও পাশের সিটের জন গুলিবিদ্ধ হন। আমি পেছনের সিটে শুয়ে গিয়ে কোনরকম বেঁচে গেছি এবং হাতে গুলিবিদ্ধ হয়েছি। এ ছাড়াও গাড়িতে থাকা রবিনও গুলিবিদ্ধ হয়েছে। গাড়িতে থাকা ইমন ও সরওয়ার গাড়ি থেকে পালিয়ে গেছেন।

আরও পড়ুন  হংকংয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত সংখ্যা বেড়ে ৪৪; নিখোঁজ ২৭৯

ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিন দেখা গেছে, প্রাইভেটকারটির (চট্টগ্রাম মেট্টো-গ ১২-৯০৬৮) পেছনের গ্লাসে তিনটি গুলি ও পেছনে একাধিক গুলির চিহ্ন রয়েছে। গাড়ির চালকের সিটে ও পাশের সিটেও রক্ত লেগে রয়েছে। গাড়ির একাধিক কাগজপত্র রক্তের মধ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে।

চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল কবির বলেন, বাকলিয়া থানার রাজাখালী থেকে একটি প্রাইভেটকারকে ধাওয়া করে মোটরসাইকেল আরোহীদের একটি গ্রুপ। চন্দনপুরায় গুলির ঘটনা ঘটে। গুলিতে দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মরদেহ হাসপাতালে রয়েছে।

আরও পড়ুন  যশোরে বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যা

অন্যদিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, মরদেহ দুটি জরুরি বিভাগের লাশঘরে রয়েছে। জরুরি বিভাগের প্রবেশ পথে স্বজনরা আহাজারি করছেন।

চট্টগ্রামে চাঞ্চল্যকর এইট মার্ডার মামলার আসামি আসামি ‘শিবিরক্যাডার’ হিসেবে পরিচিত সাজ্জাদ আলী খানের একসময়ের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ সারোয়ার হোসেন বাবলা। তিনি নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার খোন্দকার পাড়ার কালা মুন্সির বাড়ির আব্দুল কাদেরের ছেলে।

৪ বছর জেল খেটে পালিয়ে যান ভারতে। সেখানে পালিয়ে থাকা ‘বড়ভাই’ সাজ্জাদের দেখভালে ছিলেন দু’বছর।

২০২০ সালে দেশে ফিরেই গ্রেপ্তার হন ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। পরে বের হয়ে চার বছর পালিয়ে ফের গ্রেপ্তার হন ২০২৪ সালের জুলাইয়ে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, নগরেীর ডবলমুরিং, পাঁচলাইশ ও বায়েজিদ বোস্তামি থানায় হত্যা, চাঁদাবাজি, অস্ত্রবাজি, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধে মোট ১৮টি মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সবগুলোতে জামিনে রয়েছেন তিনি।

সবশেষ গত বছরের ২৭ জুলাই সারোয়ারকে গ্রেপ্তার করেছিল চান্দগাঁও থানা পুলিশ। পরে তিনি জামিনে বেরিয়ে আবারও জড়িয়ে পড়েন পুরোনো অপকর্মে।

আলোচিত সংবাদ

এ বিভাগের আরও

সর্বশেষ