ঢাকা, বুধবার - ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

ডায়েরির পাতায় পাতায়

ছবিঃ সংগৃহীত

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

ডায়েরি যেন ছবির অ্যালবামের মতো! নিত্যকার স্মৃতির পসরা নিয়ে সাজিয়ে তোলে পাতাগুলো। লাল, নীল, সবুজ কথার ডালপালা ব্যক্তিকেই এঁকে রাখে কালির অক্ষরে। আজকের আমি মাস কিংবা বছর পরে কেমন থাকব তা জানতেই অনেকে হাতে তুলে নেন ডায়েরি। বাহারি দুই মলাটের ভাঁজে ভাঁজে নিঃসংকোচে নিজেকে মেলে ধরেন স্মৃতিকাতর মানুষ। কত মান-অভিমান, আত্মোপলব্ধি, হাসি-কান্না, দুঃখ জেঁকে বসে ডায়েরির পাতাজুড়ে। সে ডায়েরি আবার অন্যের চোখের আড়ালে কোথায় রাখি, কেমন করে রাখি তা নিয়েও তৈরি হয় কত মজার গল্প।

ডায়েরি যে শুধুই মানুষের আবেগ-অনুভূতির জায়গা, তা কিন্তু নয়। বছর শেষে হালখাতায় প্রতিষ্ঠানের লাভ-ক্ষতির হিসাব, গৃহিণীর মাসকাবারি বাজারের হিসাব, সিনেমার চিত্রনাট্য, নাটকের ডায়ালগ, শিল্পীর স্কেচ, কবি-সাহিত্যিকদের গান, কবিতা কিংবা গল্প-উপন্যাসের প্লট, এমনকি প্রেমিক-প্রেমিকার চিঠির কাগজ তো এই ডায়েরিই জোগান দিয়ে থাকে। কেউবা ডায়েরিতে এসবের কোনো কিছু না করলেও ফিবছর এ দোকান, সে দোকান ঘুরে পছন্দের আকার-নকশার ডায়েরি কিনে কিনে জমাতে ভীষণ ভালোবাসেন।

আরও পড়ুন  ডিমের ডজন ৬৫ টাকা

এই সময়ে এসেও স্মৃতি উদ্‌যাপনের সবচেয়ে প্রাচীন উপায় হলেও ডায়েরির আবেদন এতটুকুও কমেনি, বললেন চিত্রশিল্পী ও কবি সঞ্চয় সুমন। নিত্যদিন ডায়েরি লেখার বিষয়টি ভীষণ পছন্দের হলেও নিজের লেখা হয় না তেমন। তিনি যেহেতু ছবি আঁকেন, তাঁর সংগ্রহে রয়েছে নানা নকশার বিভিন্ন আকারের স্কেচবুক। যখন ভালো লাগে স্কেচবুকে এঁকে রাখেন ছবির ভাবনা। সেই ভাবনাই পরে রংতুলিতে ক্যানভাসে আঁকেন বড় পরিসরে। তো স্কেচবুক, নোটবুক বা ডায়েরির আবেদন কি একই? সঞ্চয় বলেন, এ দুটোই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠের মতো। কেউ লিখতে ভালোবাসে বলে সে তার ডায়েরিতে নিজের ভাবনা, ভালো লাগা, মন্দ লাগা লিখে রাখে। আমি আঁকতে ভালোবাসি। আমার ভাবনাকে আমি পেনসিলের টানে এঁকে রাখি।

স্কেচবুকের সুবিধা হলো, এখানে ছবি আঁকার পাশাপাশি লিখতেও পারা যায়। দুটোই ভাবনার জায়গা এবং দুটোই একদিন মহামূল্য স্মৃতি হয়ে ধরা দেয়। এমনি একটি প্রতিষ্ঠান ‘প্রকৃতি’। ডায়েরি বানিয়ে তাদের বিপণিকেন্দ্র সোর্স ছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করছে। প্রতিষ্ঠানটি কলাপাতা, ঘাস, কচুরিপানা, খড়, আনারসের পাতা, পাটের আঁশ, গার্মেন্টসের ফেলে দেওয়া টুকরোটাকরা দিয়ে মণ্ড তৈরি করে। পরে এই মণ্ড দিয়েই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে দুই ধরনের কাগজ বানানো হয়। হ্যান্ড মেইড কাগজ ও কার্ট্রিজ কাগজগুলো দিয়েই তৈরি হয় ডায়েরির ভেতরের অংশ। বাইরের মলাটে ব্যবহার করা হয় শাড়ির আঁচল, নকশিকাঁথার কাজ, স্ক্রিন প্রিন্ট, ব্লক, বাটিক, এমব্রয়ডারি অনেক রকমের বাহারি নকশা। জানালেন, প্রকৃতির পরিচালক ও ডিজাইনার সুরাইয়া চৌধুরী। দামও হাতের নাগালে। বিভিন্ন আকার এবং নকশাভেদে এসব ডায়েরি পাওয়া যায় ১৪০ টাকা থেকে শুরু করে ৪৫০ টাকায়।

আরও পড়ুন  ৫ দিনেই পাবেন ফর্সা ও উজ্জ্বল ত্বক

ডায়েরি নিয়ে কথা হয় আজাদ প্রোডাক্টসের মহাব্যবস্থাপক মোস্তফা কামালের সঙ্গে। তিনি জানান, ডায়েরিগুলোর মলাটে স্ক্রিন প্রিন্ট বা আর্টওয়ার্কের ওপর ল্যামিনেট করা হয়।  ডায়েরির পাতাগুলো হয় মসৃণ বা অফসেট কাগজের। ডায়েরির পাতায় ব্যবহৃত কাগজ কতটা মোটা বা পাতলা, মলাটের নকশা এবং ডায়েরির ছোট, বড়, মাঝারি আকৃতির ওপর নির্ভর করে এসব ডায়েরির দাম। এ ডায়েরিগুলো ১৬০ টাকা থেকে শুরু করে ৮০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন  শাকিব অনুমতি দিলে ঈদে দেখা মিলবে অপুর

অনলাইনভিত্তিক দোকান ‘যথাশিল্প’ চমৎকার নকশার ডায়েরি বানিয়ে থাকে। যথাশিল্পের ব্যবস্থাপক নাহাদ-উল-কাসেম জানান, তাঁদের প্রতিষ্ঠান হ্যান্ড মেইড এবং কার্ট্রিজ—দুই ধরনের কাগজ দিয়ে ডায়েরি বানায়। মলাটের নকশার ক্ষেত্রে নান্দনিকতাকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়। ডায়েরিতে মূলত স্ক্রিন প্রিন্ট এবং নকশিকাঁথার বা সুতার কাজ থাকে।

নাহাদ-উল-কাসেম জানান, হ্যান্ড মেইড কার্ট্রিজ কাগজে লিখতে গেলে বিশেষ ধরনের কোনো কলমের দরকার পড়ে না। সাধারণ বলপয়েন্ট কলমেই লেখা যায়। বিভিন্ন আকার এবং নকশার ওপর ভিত্তি করে ১৫০ টাকা থেকে ৪২০ টাকার মধ্যেই বেঙ্গল বই, ঢাকা বাতিঘর এবং অনলাইনে পাওয়া যাবে যথাশিল্পের চমৎকার সব ডায়েরিগুলো।

এ ছাড়াও আড়ং, যাত্রাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিরীক্ষাধর্মী চমৎকার নকশার ডায়েরি করে থাকে। আছে নিউমার্কেট। সেখানেও এসব নকশার বাইরে বাহারি ধরনের ডায়েরি কেনা যাবে ১৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে।

ট্যাগঃ

আলোচিত সংবাদ