ঢাকা, রবিবার - ১৯শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রয়োগ স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ

ছবিঃ সংগৃহীত

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

অবিলম্বে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রয়োগ স্থগিত করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক।

শুক্রবার (৩১ মার্চ) এক বিবৃতিতে তিনি এ আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে ভলকার তুর্ক বলেন, আমি উদ্বিগ্ন যে বাংলাদেশজুড়ে সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের গ্রেপ্তার, হয়রানি ও ভীতি প্রদর্শন এবং অনলাইনে সমালোচকদের কণ্ঠরোধ করতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ব্যবহার করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমি পুনরায় কর্তৃপক্ষের প্রতি অবিলম্বে এর প্রয়োগ স্থগিত এবং এ আইনকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে এর বিধানাবলিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার আহ্বান জানাচ্ছি। আমার অফিস এরই মধ্যে এ ধরনের সংশোধনে সহায়তা করার জন্য বিস্তারিত প্রযুক্তিগত ব্যাখ্যা প্রদান করেছে।

আরও পড়ুন  মোদীকে নিয়ে করা বিবিসি'র প্রামাণ্যচিত্র নিষিদ্ধ করেছে ভারত

বিবৃতিতে বলা হয়, ২০১৮ সালের ১ অক্টোবর কার্যকর হওয়ার পর থেকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ২ হাজারের বেশি মামলা হয়েছে। সবশেষ ২৯ মার্চ বাংলাদেশের দৈনিক সংবাদপত্র প্রথম আলোর সাংবাদিক শামসুজ্জামান এর শিকার হয়েছেন। বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। সঙ্গে তার ল্যাপটপ, ফোন ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করে নেওয়া হয়। তার জামিনের আবেদনও নাকচ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশের পথে প্রধানমন্ত্রী

দ্বিতীয় আরেকটি মামলায় প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান এবং একজন আলোকচিত্রী সাংবাদিককেও আসামি করা হয়েছে। বাংলাদেশে জীবনযাপনের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সৃষ্ট সংকট নিয়ে একটি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ মামলা করা হয়।

গত ফেব্রুয়ারিতে পরিতোষ সরকার নামের এক তরুণকে এই আইনের আওতায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে ফেসবুক পোস্টে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।

ভলকার তুর্ক আরও বলেন, আমার দপ্তর থেকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের যে ধারাগুলো মানুষের মতপ্রকাশের অধিকার ক্ষুণ্ণ করে, সেগুলো নিয়ে ধারাবাহিকভাবে উদ্বেগ জানিয়েছে।

আরও পড়ুন  মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছে, এই বিজয় জনগণের: শেখ হাসিনা

তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ সরকার এই আইনের অপপ্রয়োগ বন্ধে সুরক্ষাকবচ রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু যখন গ্রেপ্তার করা অব্যাহত রয়েছে, তখন তাদের এই প্রতিশ্রুতি যথেষ্ট নয়। খোদ এই আইনকেই যথাযথভাবে ঢেলে সাজানো দরকার।

এ আইনে যেসব মামলা হয়েছে সেগুলো পর্যালোচনার জন্য একটি স্বাধীন বিচারিক প্যানেল গঠনের জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ভলকার তুর্ক।

ট্যাগঃ