ঢাকা, -

আলোচিত সংবাদ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম ইরানকে তাক করে টর্পেডো ছুড়ল যুক্তরাষ্ট্র

ছবি- সংগৃহীত

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে আবারও সমুদ্রের নিচ থেকে ছোড়া টর্পেডোর আঘাতে একটি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস হওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। ভারত মহাসাগরে শ্রীলঙ্কার কাছে মার্কিন নৌবাহিনীর সাবমেরিন থেকে ছোড়া টর্পেডো হামলায় ইরানের যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস ডেনা ডুবে গেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

গত বুধবার চালানো ওই হামলার ঘটনায় জাহাজটি তলিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। তবে হামলায় অংশ নেওয়া সাবমেরিনটির নাম এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

সেদিন সকালে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর একটি ভিডিও প্রকাশ করে। সেখানে দেখা যায়, ইরানের যুদ্ধজাহাজটির পেছনের অংশে একটি টর্পেডো আঘাত হানছে এবং সঙ্গে সঙ্গে বিশাল জলরাশি আকাশের দিকে উঠে যাচ্ছে। আঘাতের পর জাহাজটির মূল কাঠামো দ্বিখণ্ডিত হয়ে যেতে দেখা যায়।

আরও পড়ুন  টেকনাফে দুর্বৃত্তদের এলোপাতাড়ি গুলিতে শিশুসহ গুলিবিদ্ধ ৫

পেন্টাগনের এক ব্রিফিংয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, এই হামলাকে নীরব মৃত্যু হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন বিষয়টি পেশাদার দৃষ্টিভঙ্গিতে ব্যাখ্যা করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যবহৃত টর্পেডোটি তাৎক্ষণিক প্রভাব তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।

শ্রীলঙ্কার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলার পর সমুদ্রে ভাসতে থাকা ৩২ জন ইরানি নাবিককে উদ্ধার করা হয়েছে। জাহাজটিতে মোট ১৮০ জন ক্রু ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইউএস নেভি হিস্ট্রি অ্যান্ড হেরিটেজ কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ১৯৪৫ সালের ১৪ আগস্ট মার্কিন সাবমেরিন ইউএসএস টর্স্ক থেকে শত্রুপক্ষের একটি জাহাজে টর্পেডো ছোড়া হয়েছিল। সেই হামলায় জাপানের একটি ৭৫০ টনের জাহাজ ডুবে যায়।

আরও পড়ুন  অনুমতি পেল আ. লীগ-বিএনপি, জামায়াত মাঠে নামলে কঠোর ব্যবস্থা

এরপর থেকে স্নায়ুযুদ্ধের সময় থেকে বর্তমান পর্যন্ত মার্কিন সাবমেরিনগুলো নানা সংবেদনশীল গোয়েন্দা মিশনে ব্যবহৃত হলেও সরাসরি কোনো জাহাজ ডোবাতে টর্পেডো ব্যবহার করা হয়নি।

তবে ১৯৯১ সালের অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম থেকে শুরু করে ইরাক, আফগানিস্তান, সোমালিয়া, লিবিয়া, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী এবং গত জুনে ইরানের ইস্পাহানে পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলায় সাবমেরিন থেকে নিয়মিত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বা টমাহক মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  খালেদা জিয়াকে আল্লাহ জান্নাতের মেহমান হিসেবে কবুল করুন: জামায়াত আমির

জেনারেল ড্যান কেইন জানান, ইরানের যুদ্ধজাহাজ ডোবাতে মার্ক ৪৮ হেভিওয়েট টর্পেডো ব্যবহার করা হয়েছে। ১৯৭২ সালে প্রথম অন্তর্ভুক্ত হওয়া এই টর্পেডোটি সময়ের সঙ্গে আধুনিকায়ন করা হয়েছে।

প্রায় ৩৮০০ পাউন্ড ওজনের এই টর্পেডো সোনার ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তু খুঁজে বের করে এবং জাহাজের নিচে গিয়ে বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের ফলে তৈরি হওয়া গ্যাসের বুদ্বুদ জাহাজের মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়। এতে জাহাজটি দ্রুত দুই টুকরো হয়ে ডুবে যায়।

প্রতিরক্ষা দপ্তরের শেয়ার করা একটি ছবিতে দেখা যায়, পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আগে যুদ্ধজাহাজটির সামনের অংশটি খাড়াভাবে ওপরের দিকে উঠে আছে।

সূত্র- নিউইয়র্ক টাইমস

আলোচিত সংবাদ

এ বিভাগের আরও

সর্বশেষ