ঢাকা, রবিবার - ২১শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

আলোচিত সংবাদ

বিএনপি’র ইফতার মাহফিলে সাংবাদিক হেনস্থা, মহাসচিবের দুঃখ প্রকাশ

ছবিঃ সংগৃহীত

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

রাজধানীর মিরপুরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সামনে সাংবাদিকদের হেনস্থা করেছে দলটির কিছু নেতাকর্মী।

শুক্রবার (৩১ মার্চ) মিরপুর ২ নং ওয়ার্ড কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে এ ঘটনা ঘটে। লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি এই আয়োজনে অংশ নেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

অনুষ্ঠানে নেতাকর্মীদের ব্যাপক সমাগমের কারণে সাংবাদিকদের দাঁড়ানোর জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়ে। এ সময় একপাশে দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করেন সংবাদকর্মীরা। এক পর্যায়ে দলটির কিছু কর্মী তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে মারমুখী আচরণ শুরু করে। এতে কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়। পরে মঞ্চ থেকে নেতারা এসে পরিস্থিতি সামাল দেন। ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, সাংবাদিক ভাইদের সঙ্গে কয়েকজন ব্যক্তির একটা অনাকাঙ্খিত, অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছে। সেজন্য আন্তরিকভাবে দূঃখ প্রকাশ করছি। আমি আপনাদের কাছে প্রশ্ন করতে চাই, আপনারা কি সত্যিকার অর্থেই দলকে ভালোবাসেন? মনে হয় না। তাহলে আজকে এই ঘটনা ঘটতো না। আপনারা অতিথিদেরকে সম্মান করতে জানেন না। আমি অত্যন্ত দুঃখিত। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাহেব বক্তৃতা করছেন, সেই সময়ে আপনারা এই সমস্ত ঘটনা ঘটিয়েছেন। আমি অনুরোধ করবো দয়া করে শৃঙ্খলার সঙ্গে এখানে থাকেন। ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, বিএনপির নেতৃবৃন্দকে অনুরোধ করব- আপনারা দয়া করে শৃঙ্খলাবদ্ধ হন। শৃঙ্খলা ছাড়া কোনো যুদ্ধে জয়লাভ করা যায় না, কোনো বিজয় লাভ করা যায় না।

আরও পড়ুন  ওয়াসা ভবনে সাংবাদিক প্রবেশে বাধা: নিন্দা জানিয়েছে ইউডিজেএফবি

তিনি বলেন, আমি নিজে দেখেছি, কারা কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। এরা কারা? এখানে আওয়ামী লীগের দালালেরা ঢুকেছে, এখানে সরকারের দালালরা এসেছে। সাংবাদিক ভাইদের কাছে আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে, দলের পক্ষ থেকে আবারো ক্ষমা চাচ্ছি।

এরপরও কিছু উচ্ছৃঙ্খল নেতাকর্মী হৈচৈ শুরু করলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন ‘এরা কারা? চুপ, থামো।’ সাংবাদিকদের জায়গা নির্দিষ্ট না করায় নেতাদের প্রতিও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

আরও পড়ুন  সাংবাদিক নীতিমালা সংশোধনে ৮ দফা দাবিতে সিইসিকে স্মারকলিপি

ইফতার মাহফিলে দেওয়া ভাষণে নওগাঁয়ে র‌্যাব হেফাজতে সুলতানা জেসমিনের মৃত্যুর দায় পুরোপুরি সরকারের বলে মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, আজকে কেউ বাদ যাচ্ছে না। শুধু বিএনপির লোকেরাই নয়, সাধারণ মানুষও বাদ যাচ্ছে না। নওগাঁর একজন নারী, তিনি সরকারি কর্মচারী। কী কারণে তাকে র‌্যাব তুলে নিয়ে গেলো, এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। তুলে নিয়ে যাওয়ার ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে নির্যাতনে তার মৃত্যু হয়েছে। তাকে মেরে ফেলা হয়েছে।

তিনি বলেন, এখন তারা বলছে, এটা ভুল হয়েছে। এক মন্ত্রী বলছেন, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের অপপ্রয়োগ করা হয়েছে। এই অপপ্রয়োগের ফলে একজন নিরাপরাধ অসহায় নারীর জীবন পর্যন্ত চলে গেলো। এর দায় কে নেবো? এই দায় সম্পূর্ণ সরকারকে নিতে হবে।

আরও পড়ুন  ভারতে মুক্তি পাচ্ছে বাংলাদেশের 'ভুবন মাঝি'

প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান এবং সাংবাদিক শামসুজ্জামান শামসের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অসংখ্য সাংবাদিক ভাইদের ওপর নির্যাতন চলছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে ভোট দেওয়ার স্বাধীনতা, কথা বলার স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, কোনো কিছুই অবশিষ্ট নেই। প্রতি মুহূর্তে আমাদের সেই চ্যালেঞ্জগুলো সামনে নিয়ে এগোতে হচ্ছে।

জহিরুল হকের সভাপতিত্বে ইফতারপূর্ব সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বক্তব্য করেন বিএনপির মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, সদস্য সচিব আমিনুল হক, যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি ইয়াছিন আলি প্রমুখ।

ট্যাগঃ

আলোচিত সংবাদ