ঢাকা, শুক্রবার - ১২ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ, বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের অবস্থান যদি এমন হয়

ছবিঃ সংগৃহীত

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন ওআইসি ভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতদের নিয়ে বৈঠক করেছেন, যখন ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর নৃশংস হামলা বর্বরতার জন্য একদিনের শোক পালন করেছেন, জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করেছেন তখন বাংলাদেশের সবচেয়ে বিশ্বস্ত এবং পরীক্ষিত বন্ধু ভারত ইসরায়েলের প্রতি সহযোগিতা এবং সমর্থন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে।

বিশ্ব রাজনীতির এই বৈপরীত্য অবস্থান কি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাব পড়বে? বাংলাদেশ নিয়ে কি ভারত নতুন হিসেব নিকেশ করবে? এই প্রশ্নটি এখন সামনে এসেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য সমস্যা নতুন করে মাথাচাড়া দেওয়ার পর বিশ্ব রাজনীতিতে আবার নতুন ধরনের মেরুকরণ ঘটছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় ভারত এবং বাংলাদেশ অভিন্ন অবস্থানে ছিল। দুইটি রাষ্ট্রই রাশিয়ার প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ অবস্থান অটুট রেখেছিল। রাশিয়া ভারতের দীর্ঘদিনের বন্ধু। বিশেষ করে যতক্ষণ পর্যন্ত ভারত মুক্ত বাজারের অর্থনীতিতে না গেছে ততক্ষণ পর্যন্ত রাশিয়াই ছিল তাদের প্রধান মিত্র।

অন্যদিকে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের পর সবচেয়ে বেশি সহায়তাকারী দেশটির নাম তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন বা রাশিয়া। এই কারণেই দুটি দেশই একটি নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছিল রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে। যে কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ পশ্চিমা দেশগুলো বাংলাদেশের ওপর অনেকটাই নাখোশ। ভারত এই সময় মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাশিয়া থেকে তেল সহ বিভিন্ন আমদানি রপ্তানির কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু ভারতের মতো বড় শক্তিকে চোখ রাঙানোর মতো ক্ষমতা বিশ্বে এখন কারও নেই। আর এই কারণেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেকগুলো দেশ তা নীরবে হজম করেছে।

আরও পড়ুন  নির্বাচনকালীন সরকার গঠনে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী

এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের চেয়ে আলাদা অবস্থানে আছে তার একটি বড় কারণ হলো রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। কারণ ওই সময় রাশিয়ার পক্ষে ভারতের সহানুভূতিশীল অবস্থানের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের দায়িত্ব ভারতের ওপর ছেড়ে দিতে রাজি হয়নি বলে অনেকে মনে করছেন। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে পুরো ঘটনা এবং দৃশ্যপট পাল্টে গেছে। এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মিত্রে পরিণত হয়েছে ভারত। কারণ  ইউরোপের দেশগুলো গাজার ওপর যে নারকীয় হত্যাকাণ্ড এবং মানবিক বিপর্যয় তা মেনে নিতে পারছে না। তাদের দেশগুলো এর প্রতিবাদ জানাচ্ছে। অনেকে গাজায় সাহায্য দিচ্ছে। সেখানে ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের পক্ষে শর্তহীন সমর্থন জানাচ্ছে। এই সমর্থনের ফলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে দুটি ঘটনা ঘটছে। প্রথম ঘটনাটি হলো, ভারতের প্রভাব বাংলাদেশের রাজনীতিতে আরও বাড়বে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক রাজনীতির কৌশলগত কারণেই আবার ভারতকে কাছে টানতে চাইবে এবং মধ্যপ্রাচ্য যেহেতু বাংলাদেশের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ সেই জন্য মধ্যপ্রাচ্যের স্বার্থে ভারতের সঙ্গে একটা আপস সমঝোতা করবে। সেই আপস সমঝোতার বিষয়বস্তু বাংলাদেশও হতে পারে।

আরও পড়ুন  নির্বাচনের আগে সব থানার ওসিকে বদলির সিদ্ধান্ত

দ্বিতীয়ত এই ঘটনার ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক নিয়ে ভারত নতুন করে প্রশ্ন তুলতে পারে। এমনিতেই ভারত গত কিছুদিন ধরেই চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের গভীর বাণিজ্যিক সম্পর্ক বিশেষ করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কিছু খোলামেলা বক্তব্য নিয়ে অস্বস্তি প্রকাশ করে আসছে। এখন মধ্যপ্রাচ্যের ইস্যুতে যদি বিশ্ববাজারে অর্থনৈতিক মন্দা নতুন করে বাড়ে, তেলের দাম বাড়ে তখন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় যদি চীনের প্রতি বেশি ঝুঁকে যায় তার প্রতিক্রিয়া কি হবে সেটি ভারত হিসেবে নিকেশ করবে। আর এই সমস্ত হিসেবে নিকেশের ফলে বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের নতুন হিসেবে নিকেশ হবে কিনা তা অনেকে ভাবছেন।

আরও পড়ুন  এলপি গ্যাসের দাম বাড়ল

তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারতের বাংলাদেশ নীতি এক এবং অভিন্ন। ভারতে যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, বাংলাদেশ নীতি তাদের পাল্টাবেনা। বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের একটি রাজনৈতিক শক্তি, যারা ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদেরকে মদদ দেয় না, যারা বাংলাদেশে অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে লালন করে তার বিকল্প ভারত ভাবে না, ভাবতে চায় না। কারণ ভারত জানে প্রতিবেশী পাল্টানো যায় না। আর প্রতিবেশী যদি বৈরী হয় তাহলে যে কি সমস্যা হয় তা ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ভারত ভালোভাবেই বুঝেছে। তাই বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের অবস্থান আপাতত পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনা নেই বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

বিধান বিশ্বাস, সম্পাদক।

ট্যাগঃ