চট্টগ্রাম রাউজানের নোয়াপাড়ায় সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী আটক হওয়ার খবরে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করার কর্মসূচি পালন নিয়ে বিএনপি’র দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। দুই গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মারামারি হয় বলে জানান স্থানীয়রা।
বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকালে পথেরহাটে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত তারা ৩০-৪০টির মত গুলির শব্দ শুনেছেন।
স্থানীয়রা জানান, গত কয়েকদিন থেকে নোয়াপাড়ায় দুটি গ্রুপ নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। প্রতিরাতে এলাকায় গুলির শব্দ শোনা যায়। গতকাল উভয় গ্রুপ পথেরহাটে উপস্থিত হলে চরম উত্তজনা দেখা দেয়। উভয় পক্ষ নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নিয়ে মিষ্টি বিতরণ ও শ্লোগান দিতে গেলে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে মিছিল করতে গেলে শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। এর মধ্যে চলে গোলাগুলি। শেষ বিকালে একজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গুলিবিদ্ধ যুবক সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত পথেরহাটে রাস্তার পাশে পড়ে কাতরাচ্ছিলেন। ঘটনার সময় আতংকিত লোকজনকে বাজার থেকে এদিক ওদিক ছুটোছুটি করতে দেখা যায়। বাজারের সব দোকান বন্ধ করে ব্যবসায়ীরা চলে যান।

এমন পরিস্থিতির মধ্যে কাপ্তাই সড়কে যানবাহন বন্ধ হয়ে যায়। কাপ্তাইমুখী যানবাহন মদুনাঘাটে আর শহরমুখী যানবাহন ব্রাহ্মণহাটের দিকে দাড়িয়ে পড়লে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় জানজট সৃষ্টি হয। চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।
জানা যায়, বিচ্ছিন্ন ভাবে কিছু ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। শেষের দিকে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পড়লে দুই গ্রুপ আশেপাশে নিরাপদ অবস্থানে চলে যায়। পুলিশের উপস্থিতির মাঝে গুলির ঘটনা না ঘটলেও দুই পক্ষই সতর্ক অবস্থানে ছিলেন বলে জানা যায়। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
নোয়াপাড়ার ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে রাউজান থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই নাফিজ ইকবাল বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ রয়েছে। পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে। একজনকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, রাউজান থানার আগের ওসিকে প্রত্যাহার করে নেয়ার পর থেকে এখনো কাউকে দেয়া হয়নি। এ কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এলাকাবাসী উৎকণ্ঠায় রয়েছে।















