এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে তৃণমূল আনন্দিত, খুশি এবং উল্লাসিত। মনোনয়নের কতগুলো পদক্ষেপ তৃণমূল পছন্দ করেছে। এর ফলে আওয়ামী লীগ আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
যে সমস্ত কারণে এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে তৃণমূলের মধ্যে আনন্দ উল্লাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে-
এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়নের ক্ষেত্রে মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠেনি। টাকার বিনিময়ে মনোনয়ন পাওয়া, টাকা লেনদেন ইত্যাদি একেবারেই অনুপস্থিত ছিল। এর প্রধান কারণ হল পুরো মনোনয়ন বিষয়টি তদারকি করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মনোনয়নের ব্যাপারে আওয়ামী লীগের বেশিরভাগ নেতাই একেবারে অন্ধকারে ছিলেন। তারা জানতেনও না কে মনোনয়ন পাচ্ছেন বা কিভাবে মনোনয়ন পাচ্ছেন। এটি মনোনয়ন বাণিজ্য বন্ধের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মনে করে।
আওয়ামী লীগ এবারের মনোনয়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি নির্ভর করেছিল জরিপের ওপর। বিভিন্ন উৎস থেকে অন্তত এক ডজন জরিপ তৈরি করা হয়েছিল এবং এই সমস্ত জরিপের ভিত্তিতে মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কাজেই এসব জরিপের ফলাফল নিয়ে কেউ বিচার বিশ্লেষণ করেননি। একটি বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে এটিতে তৃণমূল খুশি।
অন্যান্যবার মনোনয়নের ক্ষেত্রে দেখা যায়, নানা রকম হিসেব নিকেশ মেলানো হয়। নির্বাচনে জয় পরাজয় মাথায় রেখে অনেক সময় যোগ্য প্রার্থীকে বাদ দিয়ে হাইব্রিড অনুপ্রবেশকারীদের মনোনয়ন দেয়া হয়। গতবার এ রকম বহু ঘটনা ঘটেছিল। কিন্তু এবার নির্বাচনের মনোনয়নের ক্ষেত্রে মাঠের নেতাদের প্রাধান্য দিয়েছেন। গত পাঁচ বছরে যারা রাজপথে শক্তিশালী অবস্থান নিয়ে কাজ করেছে, তাদেরকে মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সভাপতি আগ্রহ দেখিয়েছেন। আর এই সূত্র ধরেই এবার মনোনয়ন পেয়েছেন জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, বাহাউদ্দিন নাছিমের মতো নেতৃবৃন্দ।
এটি আওয়ামী লীগের জন্য একটি বড় ইতিবাচক দিক বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ৷ আর এর ফলে তৃণমূলের মধ্যে এক ধরনের উল্লাস এবং আনন্দ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এবার মনোনয়নের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সভাপতি অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে ছিলেন। যারা দলের মনোনয়ন নিয়ে এমপি হয়ে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জড়িত ছিলেন, বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন, দলের স্বার্থ সুরক্ষা করতে পারেনি, দলের মধ্যে বিভক্তি করেছেন, দলকে বিতর্কিত করেছেন। এরকম ব্যক্তিদেরকে মনোনয়ন দেয়য়া থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বিতর্কিত ব্যক্তিদেরকে মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। এটি আওয়ামী লীগের জন্য একটি বড় ইতিবাচক দিক।
বিভিন্ন সময় যারা দলকে বিভক্ত করেছিলেন তাদেরকে মনোনয়ন না দিয়ে আওয়ামী লীগ একটি শক্ত বার্তা দিল বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এর মধ্যে দিয়ে শেখ হাসিনা সুস্পষ্টভাবে জানিয়েদিলেন, আগামীবার যদি আওয়ামী লীগ দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পায় তাহলে তিনি কি রকম ভাবে দেশ পরিচালনা করবেন সে সম্পর্কে তিনি তার মনোভাব স্পষ্ট করলেন নেতাকর্মীদের কাছে।
অন্যান্যবার আওয়ামী লীগের মনোনয়নের ক্ষেত্রে মহাজোট, ১৪ দলীয় জোটকে ছাড় দেওয়া হয়। এবার তেমনটি করা হয়নি। এবার তিনশ আসনেই মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হচ্ছে। পরবর্তীতে হয়তো অনেক প্রার্থীকে বসিয়ে দেওয়া হবে বা কোনো কোনো জায়গায় আসন ভাগাভাগি হবে। তবে তিনশ আসনের মনোনয়ন দেওয়ার মধ্য দিয়ে সংগঠনের একটি ইতিবাচক চাঙ্গা ভাব লক্ষ্য করা যাবে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী।














