মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট শুক্রবার ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে রায় দিয়ে চারটি দেশ- কিউবা, হাইতি, নিকারাগুয়া ও ভেনেজুয়েলা থেকে আসা প্রায় ৫ লক্ষ অভিবাসীর অস্থায়ী আইনি সুরক্ষা (মানবিক প্যারোল) বাতিলের পথ প্রশস্ত করেছে। এছাড়া, আরও ৩৫০,০০০ ভেনেজুয়েলান অভিবাসীর টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) প্রত্যাহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ফলে মোট প্রায় ১০ লক্ষ অভিবাসী নতুন করে নির্বাসনের মুখোমুখি হতে পারেন।
রিপাবলিকান নেতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারণায় অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ক্ষমতায় ফিরে তার প্রশাসন ডেমোক্র্যাটিক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে চালু হওয়া বিভিন্ন অভিবাসন-বান্ধব নীতি বাতিলের চেষ্টা করছে। আদালতের নথিতে উঠে এসেছে, ট্রাম্প অতীতে হাইতিয়ান অভিবাসীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা গুজব ছড়িয়েছিলেন যে তারা পোষা প্রাণী খেয়ে ফেলছে।
গত এপ্রিলে বোস্টনের একজন ফেডারেল বিচারক ইন্দিরা তালওয়ানি (ওবামা-নিযুক্ত) ট্রাম্প প্রশাসনের প্যারোল বাতিলের সিদ্ধান্তকে সাময়িকভাবে বন্ধ করেছিলেন। তবে, সুপ্রিম কোর্ট এখন নিম্ন আদালতের সেই রায় স্থগিত করেছে, ফলে অভিবাসীদের সুরক্ষা হ্রাস পেল। যদিও এটি চূড়ান্ত রায় নয়, মামলাটি এখন আপিল কোর্টে বিবেচিত হবে।
সুপ্রিম কোর্টের লিবারেল বিচারপতিরা এ রায়ের বিরোধিতা করেছেন। বিচারপতি কেন্টানজি ব্রাউন জ্যাকসন সতর্ক করে লিখেছেন, এই সিদ্ধান্ত অর্ধ মিলিয়ন মানুষের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলেছে। বিচারপতি সোনিয়া সোটোমায়রও ভিন্নমত দিয়েছেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি হলো, এই সুরক্ষাগুলো অস্থায়ী ছিল এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এগুলো বাতিলের এক্তিয়ার রয়েছে। তাদের মতে, বাইডেন প্রশাসন অত্যধিক হারে প্যারোল মঞ্জুর করায় আইনগত প্রক্রিয়া উপেক্ষা করা হয়েছে।
মামলাটি এখন প্রথম সার্কিট আপিল কোর্টে পুনর্বিবেচিত হবে। তবে সুপ্রিম কোর্টের সাময়িক রায়ের ফলে বহু অভিবাসীকে হয় দেশত্যাগ অথবা বেআইনি অবস্থানে থাকার কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই রায়ের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি মানবিক সংকট তৈরি করবে।
এই রায় ট্রাম্পের অভিবাসন-বিরোধী এজেন্ডাকে শক্তি দিয়েছে, যা ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে একটি বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।













