ঢাকা, -

আলোচিত সংবাদ

৬তলা ভবন থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু, পরিবারের দাবি পরিকল্পিত হত্যা

ছবি- সংগৃহীত

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আনোয়ারায় ছয়তলাবিশিষ্ট একটি ভবন থেকে পড়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ভোরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে হাশেম কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত যুবক হলেন মো. মহিম (২৫)। তিনি কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়নের দৌলতপুর এলাকার মো. আবুল কামালের পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন বারখাইন ইউনিয়নের শোলকাটা গ্রামে বসবাস করে আসছিলেন।

জানা গেছে, নিহত মো. মহিম স্থানীয় কিশোর গ্যাং ‘সম্রাট গ্রুপ’ এর সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত। আনোয়ারা থানায় দাগী সন্ত্রাসী হিসেবে মহিমের ছবি ও নাম টাঙানো আছে। এর আগে চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় তিনি একাধিকবার গ্রেফতার হন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভোরে সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত অবস্থায় মহিমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. জাহির তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুতে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে জড়ো হতে থাকে তার স্বজনরা। এক পর্যায়ে পুলিশের সাথে বাকবিতন্ডায় লিপ্ত হয় নিহতের সঙ্গী ও স্বজনেরা। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দরজায় ঘুষি দিয়ে আঘাত করে ভেঙে ফেলে এবং হাসপাতালের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেয়। এতে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আরও পড়ুন  নারী এনজিওকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

এ ঘটনায় পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল থেকে তার বাড়ির আধা কিলোমিটারের মধ্যে হওয়ায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

নিহতের মা মনোয়ারা বেগম অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলে রাত দশটায়ও ঘরে ছিলো। রাত দেড়টার দিকে একজন লোক তাকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যায় এবং সকালে খবর পাই যে আমার ছেলে ভবন থেকে মাটিতে পড়ে মারা গেছে। আমার বিশ্বাস, আমার ছেলেকে পরিকল্পিত হত্যা করা হয়েছে। আমি এর সুষ্টু বিচার দাবি করছি।

আরও পড়ুন  ‘ব্যাডমিন্টন খেলা নিয়ে তর্কাতর্কির জেরে’ প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত ২ যুবক

ভবন মালিক আবুল হাশেম গণমাধ্যমকে বলেন, আমি শহরে থাকি। ঘটনাস্থলে গেলে বলতে পারবো প্রকৃত ঘটনা।

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহতাবউদ্দিন চৌধুরী বলেন, সকালে পুলিশ নিহত মহিমকে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর খবরে তার সঙ্গী ও স্বজনেরা হাসপাতালে জড়ো হতে থাকেন। পুলিশের সাথে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে এক যুবক জরুরি বিভাগের দরজা-গ্লাস ভাঙচুর করে।

আরও পড়ুন  জাকসুর ফলাফল প্রকাশ দুপুরে

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আমরা নিহতকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি ওই ভবনে চুরি করতে গিয়ে মাটিতে পড়ে তার মৃত্যু ঘটেছে। তার বিরুদ্ধে আনোয়ারা থানায় চারটি মামলা রয়েছে। তার মৃত্যুতে হাসপাতালে উত্তেজিত জনতা ভাঙচুর করলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আলোচিত সংবাদ

এ বিভাগের আরও

সর্বশেষ