- ভয়েস অফ এশিয়া - https://voiceofasiabd.net -

অবশেষে পদত্যাগ করলো বুলগেরিয়া সরকার 

দেশজুড়ে দুর্নীতি দমনে ব্যর্থতার অভিযোগ এবং টানা বিক্ষোভের মুখে অবশেষে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছে বুলগেরিয়ার সরকার।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) কয়েক দিন ধরে চলতে থাকা প্রতিবাদের জেরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী রোসেন ঝেলিয়াজকভ আনুষ্ঠানিকভাবে জানান, তার সরকার দায়িত্ব ছাড়ছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি।

রাজধানী সোফিয়া থেকে কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী বিভিন্ন নগর- সবখানেই হাজারো মানুষ দুর্নীতিবিরোধী স্লোগানে রাস্তায় নামেন। শুরুতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও দ্রুতই তা সরকারবিরোধী আন্দোলনের রূপ নেয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবচেয়ে দরিদ্র সদস্য রাষ্ট্রটিতে গত কয়েক দিন ধরেই বড় আকারে এসব বিক্ষোভ হয়েছে।

আরও পড়ুন  সরকার দেশটাকে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য বানিয়েছে: মির্জা ফখরুল

ক্ষমতাসীন জোটের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী ঝেলিয়াজকভ সাংবাদিকদের বলেন, ‘সরকার আজ পদত্যাগ করছে।’ ক্ষমতায় আসার এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে তার রক্ষণশীল সরকার জনঅসন্তোষের চাপে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হলো।

সংগৃহীত ছবি

বিক্ষোভের বিস্তারে বড় ভূমিকা রাখে গত সপ্তাহে প্রকাশিত ২০২৬ সালের বাজেট পরিকল্পনা। প্রথমবারের মতো ইউরোতে প্রণীত সেই প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক সুরক্ষা খাতে অবদান এবং লভ্যাংশের ওপর কর বাড়ানোর বিষয়টি সামনে আসে। বিরোধী দলসহ বিভিন্ন সংগঠন অভিযোগ তোলে- কর বাড়িয়ে অতিরিক্ত ব্যয় মেটানোর সিদ্ধান্ত জনগণের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে। বাজেট পরিকল্পনা প্রকাশের পরপরই দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, যা চাপের মুখে সরকার পরে প্রত্যাহার করে নেয়।

আরও পড়ুন  মার্চে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন, জানুয়ারিতেই তপসিল ঘোষণা

তবে বাজেট সংশোধনের সিদ্ধান্ত বিক্ষোভ থামাতে পারেনি। বরং বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন, দুর্নীতি ও অস্বচ্ছ রাজনৈতিক পরিবেশ দূর না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। গত চার বছরে সাতটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এই সঙ্কট আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচন হয়েছিল ২০২৪ সালের অক্টোবরে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আইটি পেশাজীবী অ্যাঞ্জেলিন বাহচেভানোভ বলেন, ‘বুলগেরিয়াকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরানোর এখনই সময়। আমরা যেন অলিগার্কি, মাফিয়া ও তাদের প্রতিনিধিত্বকারী শক্তির হাত থেকে মুক্ত হতে পারি।’

আরও পড়ুন  ঢাকা, সিলেট ও কুমিল্লায় ‍ভূমিকম্প অনুভূত

দুর্নীতি, অর্থনৈতিক চাপ এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার মিশ্রণে বুলগেরিয়ার চলমান সঙ্কট নতুন এক মোড় নিলো- সরাসরি সরকারের পদত্যাগে। এখন দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন দিকে এগোয়, তা নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে ইউরোপজুড়ে।