আজ ১৫ সেপ্টেম্বর, আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ২০০৭ সালে সদস্যভুক্ত দেশগুলোতে গণতন্ত্র সম্পর্কে আগ্রহ সৃষ্টি এবং গণতন্ত্র চর্চাকে উৎসাহিত করার জন্য প্রচলিত একটি বিশেষ দিন পালনের সিদ্ধান্ত হয়। এর পর থেকেই প্রতি বছর ১৫ সেপ্টেম্বর দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।
আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসের পটভূমি হলো ১৯৯৭ সালে ফ্রান্সের রাজনীতিকদের মধ্যে সংলাপের মাধ্যম হিসেবে পরিচিত ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ) ‘ইউনিভার্সাল ডিক্লারেশন অন ডেমোক্রেসি’ নামের একটি প্রস্তাব আনে। এতে গণতন্ত্রের নীতি, আদর্শ, উপাদান, গণতান্ত্রিক সরকারের চর্চা এবং গণতন্ত্র সম্প্রসারণে আন্তর্জাতিক সুযোগ ও সম্ভাবনা তৈরির বিষয়ে ঘোষণা দেওয়া হয়। ফ্রান্সের এ প্রস্তাবের আগেও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন হয়।
ফিলিপাইনে ফার্ডিনান্ড মার্কোসের ২০ বছরের স্বৈরশাসনের পতনের মধ্য দিয়ে দেশটিতে গণতন্ত্র ফিরে আসার পর এই সম্মেলন হয়। সম্মেলনটির নাম ছিল দি ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন নিউ অ্যান্ড রিস্টোর্ড ডেমোক্রেসিজ তথা আইসিএনআরডি। ২০০৬ সালে আইসিএনআরডির ষষ্ঠতম সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয় কাতারের রাজধানী দোহায়।
পরবর্তীকালে কাতারের নেতৃত্বে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসের প্রস্তাবটি উপস্থাপন করা হয়। সেই সঙ্গে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে এ বিষয়ে পরামর্শ ও প্রস্তাব আহ্বান করা হয়। পরে ফ্রান্সের আইপিইউ ১৫ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস হিসেবে নির্ধারণের প্রস্তাব করলে তা ২০০৭ সালের ৮ নভেম্বর সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়। সে সময় গণতন্ত্রের সকল প্রকার দায় দায়িত্বপূর্ণ প্রধান প্রতিষ্ঠান হিসেবে সংসদ বা পার্লামেন্টকে ঘোষণা করা হয়।
এ বছর দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালনের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসের বার্তায় বলেন, এবার আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসের ১৬তম বার্ষিকী পালিত হতে হচ্ছে। তবুও সারা বিশ্বে গণতন্ত্র পিছিয়ে যাচ্ছে। নাগরিক অধিকার সঙ্কুচিত হচ্ছে। অবিশ্বাস ও অপতৎপরতা বাড়ছে। আর মেরুকরণ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে ক্ষুণ্ন করছে।
যুক্তরাজ্যের ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ) প্রকাশিত সর্বশেষ গণতন্ত্র সূচকে ১৬৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৭৩তম।