টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল ঘটেছে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে অপসারিত হওয়া ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে পুনরায় তাদের স্বপদে বহাল করার আদেশ দিয়েছে আদালত।
আদালতের এই নির্দেশনার পর সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নগুলোতে নিযুক্ত প্রশাসকদের নিয়োগ বাতিল করে সাবেক চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখার উপ-পরিচালক মাহফুজুল আলম মাসুম স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রের মাধ্যমে এই পুনর্বহালের তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঘাটাইল উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সরকারের ওই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে চেয়ারম্যানরা উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করেন।
সেই রিটের শুনানি শেষে আদালত প্রশাসক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন বাতিল করে তাদের স্বপদে ফেরার পথ প্রশস্ত করে। বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের নির্দেশনা ও আদালতের রায়ের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন এই নতুন পরিপত্র জারি করে।
পুনর্বহাল হওয়া চেয়ারম্যানদের তালিকায় রয়েছেন- দেউলাবাড়ি, ঘাটাইল সদর, জামুরিয়া, লোকেরপাড়া, আনেহলা, দিগড়, দেওপাড়া, সন্ধানপুর, রসুলপুর, ধলাপাড়া, সংগ্রামপুর, লক্ষিন্দর এবং সাগরদিঘী ইউনিয়নের চেয়ারম্যানবৃন্দ।
তবে দিঘলকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম মটু সেই সময় কারাগারে থাকায় আইনি প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেননি, ফলে তার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।
পুনর্বহাল হওয়া এই চেয়ারম্যানদের প্রায় সবাই আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত।
এদের মধ্যে সুজাত আলি খান ও শহিদুল ইসলাম হেসটিংস উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি, তালুকদার মোহাম্মদ শাহজাহান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং ফারুক হোসেন ফনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন।
অন্যান্য চেয়ারম্যানদের অনেকেই স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ঘাটাইল উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানদের পুনরায় দায়িত্ব বুঝে নিতে দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব দায়িত্ব গ্রহণের ছবি ছড়িয়ে পড়লে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
সাগরদিঘী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুল্লাহ বাহার গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। উচ্চ আদালতের রায়ের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে আমরা পুনরায় দায়িত্ব বুঝে নিয়েছি। জনগণের সেবায় আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে কাজ করে যাব।
টাঙ্গাইল স্থানীয় সরকার শাখার উপ-পরিচালক মাহফুজুল আলম মাসুম জানান, আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ও বিভাগীয় কমিশনারের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই এই পুনর্বহালের আদেশ কার্যকর করা হয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী এখন থেকে তারা তাদের স্ব-স্ব ইউনিয়নে দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করবেন।














