ঢাকা, -

আলোচিত সংবাদ

আনিস-মঞ্জুর নেতৃত্বে নতুন জোট হতে যাচ্ছে আজ

ছবি- সংগৃহীত

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

জাতীয় পার্টির একাধিক অংশসহ কিছু রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে নতুন জোট হতে যাচ্ছে।

আজ সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর গুলশানে একটি পার্টি সেন্টারে নতুন এই জোটের বিষয়ে ঘোষণা দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে জোটের নাম নির্ধারণ করা হয়েছে ‘জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক জোট’।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই জোটের উদ্যোক্তা হচ্ছেন জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। তবে গোলাম মোহাম্মদ কাদেরের (জিএম কাদের) নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি এখনো এই জোট গঠন প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়নি।

এই জোটের বেশিরভাগ দলই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী। শেখ হাসিনা সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যও ছিলেন কেউ কেউ। স্বৈরাচার এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি ছিল আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর। হাসিনার সময়ে অনুষ্ঠিত তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনের বৈধতা দিয়েছিল এ দলটি। ওই তিন নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদে জাতীয় পার্টি প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করে। ২০০৯ সালে আওয়ামী সরকারের সঙ্গীও ছিল জাপা। জেপি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটেরও শরিক।

আরও পড়ুন  কক্সবাজারে মাছ ধরার ট্রলার থেকে ১০ মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার ২

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর তার ভাই জিএম কাদের জাতীয় পার্টির সভাপতি হন। এ সময় রওশন এরশাদের নেতৃত্বে অপর একটি অংশ আলাদা কমিটি গঠন করে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হাসিনার পতনের বছরখানেকের মাথায় জিএম কাদের তার অংশের মহাসচিব মজিবুল হক চুন্নুসহ দলের প্রভাবশালী বেশ কজনকে দল থেকে অব্যাহতি দেন। চুন্নুকে বাদ দিয়ে ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীকে মহাসচিব করা হয়।

এদিকে অব্যাহতি পাওয়া শীর্ষ নেতারা কাউন্সিল করে জাতীয় পার্টির নতুন কমিটি গঠন করেন। এ অংশের সভাপতি হন ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং মহাসচিব নির্বাচিত হন এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার।

আরও পড়ুন  রাজপথে শিবির, পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা

গত ১৪ জুলাই এরশাদের মৃত্যুবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে জাতীয় পার্টির একাধিক অংশের নেতাদের নিয়ে একটি অনুষ্ঠান করার মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে ঐক্য সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়। ওই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই নতুন জোট গঠন হচ্ছে।

জাতীয় পার্টি (আনিস), জাতীয় পার্টি (রওশন) ও জাতীয় পার্টি (জেপি) ছাড়াও এই জোটে আরো যেসব দল যুক্ত হতে পারে, সেগুলো হলো- জনতা পার্টি, মুসলিম লীগের একাংশ, এনপিপির একাংশ, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির একাংশ, বাংলাদেশ ইসলামিক জোট, জাতীয় সংস্কার জোট, মানবাধিকার পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) একাংশ, বাংলাদেশ সর্বজনীন দল, পিস অ্যালায়েন্স, ন্যাপ ভাসানীর একাংশ, বাংলাদেশ গণঅধিকার পার্টি, ডেমোক্রেটিক পার্টি ও গণতান্ত্রিক জোট বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন  র‌্যাবের নিষেধাজ্ঞা তোলার সময়সীমার কোন ইঙ্গিত দেননি লু: মার্কিন দূতাবাস

এছাড়াও জাতীয় পার্টির আরও দু-একটি খণ্ডিত অংশও এই জোটে রয়েছে বলে জানা গেছে। পর্যায়ক্রমে নতুন এই জোটে আরো কয়েকটি দল সম্পৃক্ত হতে পারে।

অবশ্য জাতীয় পার্টি ও জেপি ছাড়া অন্য দলগুলো নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত নয়। রাজনৈতিক অঙ্গনেও খুব একটা পরিচিত নয়।

জোট গঠন প্রক্রিয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ভয়েস অফ এশিয়াকে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী দলগুলোর সমন্বয়ে এই জোট গঠন হতে যাচ্ছে। কতগুলো দল এই জোটে যুক্ত হবে- সেটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। অনেকের সঙ্গে এখনো আলোচনা চলছে। সোমবার জোটের আত্মপ্রকাশ হবে। আমরা এই জোটকে আরো সম্প্রসারণ করব। তবে জিএম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি এই জোটের সঙ্গে নেই।

আলোচিত সংবাদ

এ বিভাগের আরও

সর্বশেষ