আনোয়ারায় গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঘরের আড়ায় ফাঁস দিয়ে বিয়ের ৪ মাসের মাথায় মারজানা আকতার (১৯) নামে এক নববধূ আত্মহত্যা করেছেন।
রবিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ফকির মোহাম্মদের বাড়ির গৃহবধূর বসত ঘর থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর্জা মুহাম্মদ হাছান।
মারজানা আকতার রায়পুর ইউনিয়নের ফকির মোহাম্মদের বাড়ির মোহাম্মদ সোহেলের স্ত্রী। সে পাশ্ববর্তী বারশত ইউনিয়নের চাপাতলী এলাকার মৃত আবদুল লতিফের মেয়ে। গত জানুয়ারিতে নুরুল হকের পুত্র মোহাম্মদ সোহেল (৩৩) সঙ্গে পারিবারিক ভাবে বিবাহ হয়।
জানা গেছে, শনিবার রাতে খাবার শেষে নিজের ঘরে দরজা বন্ধ করে ঘুমাতে যান। সকাল দশটার দিকে তার শাশুড়ি মারজানাকে ডাকতে যান। কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি ঘরের ভেন্টিলেটর দিয়ে ঘরের আড়ার সাথে ঝুলতে দেখেন। পরে স্থানীয়রা থানায় খবর দিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। নিহতের শাশুড়ি হাফিজা খাতুন (৫৮) বলেন, প্রতিদিনের ন্যায় গতকাল শনিবার রাতেও একসঙ্গে ভাত খেয়ে আমি আমার রুমে এবং আমার ছেলের বউ তার রুমে চলে যায়। সকাল দশটার পর্যন্ত ঘুম থেকে না উঠায় তার রুমের দরজার সামনে গিয়ে কয়েক বার ডাকি। কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে ভেন্টিলেটর দিয়ে দেখতে পাই ফাঁসিতে ঝুলে আছে। তিনি আরো বলেন, শুক্রবার পরিবারের সবার সঙ্গে পারকিতে বেড়াতেও গিয়েছে সে। বিয়ে হয়েছে ৪ মাস কোনোদিনও কোনো ঝগড়াঝাটি হয়নি আমাদের সঙ্গে। কেন যে এমনটায় করলো কিছু বুঝতে পারছি না। ঘরের মধ্যে আমার ছেলে (তার স্বামী) ছিলো না।
তবে নিহত মারজানা আকতারের ভাই মো. মহিউদ্দিন (৩৫) যৌতুকের দাবিকৃত টাকা না পাওয়ায় শ্বশুর বাড়ির লোকজনরা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে বলে দাবি করে বলেন, বিয়ে হয়েছে মাত্র ৪ মাস হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে টাকা দাবি করত স্বামীসহ তার পরিবারের লোকজনরা। ঈদে আমার বোনকে বাপের বাড়িতেও যেতে দেয়নি তারা। তিনি বলেন, রবিবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে আমার বোনের দেবর ও ননদ আমাকে ফোন করে জানায় যে-আমার বোন ফাঁসি খেয়েছে ঘরের মধ্যে। এটা শুনার পর আমি থানা পুলিশের কাছে গিয়ে পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে আসি। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
ওসি মীর্জা মুহাম্মদ হাছান বলেন, গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যা করেছে।