কক্সবাজারে নাজিরারটেক ভেসে আসা মাছ ধরার ট্রলার থেকে ১০ মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) সকালে মহেশখালী থেকে বাইট্টা কামাল ও মাঝি করিম সিকদারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার পুলিশ সুপার মাহফুজুল ইসলাম।
গ্রেপ্তারকৃতরা মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি ইউনিয়নের সাইরার ডেইল গ্রামের মুহাম্মদ ইলিয়াছের পুত্র বাইট্যা কামাল (৩৮) এবং হোয়ানক ইউনিয়নের করিম সিকদার মাঝি (৪৮)।
কক্সবাজার পুলিশ সুপার মাহফুজুল ইসলাম বলেন, চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় বাইট্টা কামাল ও করিম সিকদার নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে।
এর আগে নিহত ট্রলারের মালিক শামসুল আলমের স্ত্রী রোকেয়া আক্তার বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৫০/৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। ওই মামলায় বাইট্টা কামাল ১ নম্বর এবং করিম সিকদারকে ৪ নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
গত ৭ এপ্রিল সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ১১ মাঝিমাল্লাসহ নিখোঁজ হয় মহেশখালী উপজেলার শামশুল আলমের মালিকানাধীন এফবি কালু নামের একটি ট্রলার। ওই ট্রলারে মহেশখালীর ৮ জন এবং চকরিয়ার ৩ জন জেলে ছিলেন বলে জানান শামশু মাঝির স্ত্রী রোকেয়া বেগম।
নিখোঁজরা হলেন—মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের ছনখোলা পাড়া গ্রামের আবু জাফরের পুত্র শামশুল আলম, মোহাম্মদ মুসা ও শাপলাপুর ইউনিয়নের মিটাছড়ি গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের পুত্র সাইফুল ইসলাম (১৮), জাফর আলমের পুত্র শওকত উল্লাহ (১৮), মুসা আলীর পুত্র ওসমাণ গনি (১৭), শাহাব মিয়ার পুত্র সাইফুল্লাহ (২৩), মোহাম্মদ আলীর পুত্র পারভেজ মোশাররফ (১৪), মোহাম্মদ হোসাইনের পুত্র নুরুল কবির (২৮) এবং চকরিয়া উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের কবির হোসাইনের পুত্র সাইফুল ইসলাম, শাহ আলমের পুত্র শাহজাহান (৩৫), জসিম উদ্দীনের পুত্র তারেক (২৫)।
এদিকে ভাসমান ট্রলারটি শামশুল আলমের মালিকানাধীন এফবি কালু বলে শনাক্ত করেছেন তারই স্ত্রী রোকেয়া।
এরপর স্বজনরা মর্গে গিয়ে শামশুল আলম, শওকত উল্লাহ, ওসমান গনি, নুরুল কবির, শাহজাহান ও তারেকের মরদেহ শনাক্ত করেন। পরে তাদের কাছে শনাক্ত করা মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হয়।
বাকি ৪ মরদেহের একাধিক দাবিদার থাকায় ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান পুলিশ সুপার।














