কক্সবাজারে নেতৃত্বের পরিবর্তনের জন্য নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি। এই আসনের সাধারণ মানুষ তাদের নেতৃত্বের পরিবর্তন চায়। এই আসনের ভোটারদের মধ্যে অনেক অভিযোগ আছে, অশান্তি আছে। এ আসনে যেহেতু নৌকার প্রার্থী নেই, তাই ভোটারদের আমার হাতঘড়ি মার্কায় ভোট দিতে সুবিধা হবে। এজন্য এই আসনে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহিম।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী সব প্রার্থীর প্রতি সম্মান এবং শ্রদ্ধা রয়েছে। নৌকা ও ধানের শীষ সবার সমর্থন এবং ভোট পাব বলে আশা করছি। কক্সবাজারে নিজের নির্বাচনি এলাকায় প্রার্থী হিসেবে নতুন হলেও সেটি ‘ওভারকাম’ করার পরিকল্পনা আছে।
সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে প্রতীক পাওয়ার পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সেনাবাহিনীর সাবেক এই মেজর জেনারেল বলেন, আমাকে নৌকা ও ধানের শীষের নেতৃস্থানীয় ও গণ্যমান্য যারা তারা চিনবেন। এর কারণ, ব্যক্তি ইবরাহিমের আলাদা একটি পরিচয় ছিল এবং আছে। এখন পরিচয় হাতঘড়ি মার্কার প্রার্থী।
আমি বিশ্বাস করি, পরিচয়টা বড় সমস্যা হবে না। যতটুকু হয়, মিনিমাম সেটা ওভারকাম করার জন্য আমরা আমাদের পরিকল্পনা করেছি। ইনশাল্লাহ সেটা আমরা করে ফেলব। এবার তিনি চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত কক্সবাজার-১ আসনে প্রার্থী হয়েছেন। যে নির্বাচনি এলাকাটি তার জন্য নতুন।
সাংবাদিকদের ইবরাহিম বলেন, আমার বিরুদ্ধে যত অভিযোগ আর সমালোচনা করুক না কেন তাদের বিরুদ্ধে আমার কোনো ক্ষোভ বা রাগ নেই। আছে শ্রদ্ধা এবং তাদের কাছে দোয়া কামনা করছি। আমি হাসিখুশি মনে সবকিছু গ্রহণ করেছি, সামনেও করবো। মত প্রকাশের অধিকার সবার আছে। এটা সমুন্নত রাখতে চাই।
শেষ খবরে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত তালিকায় আছেন ৭জন। তারা হলেন- বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহিম, এই আসনের বর্তমান এমপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ জাফর আলম, জাতীয় পার্টি (এরশাদ) প্রার্থী হোসনে আরা আরজু, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির হাজী আবু মোহাম্মদ বশিরুল আলম, ইসলামি ফ্রন্টের প্রার্থী বেলাল উদ্দিন ছিদ্দিকী, স্বতন্ত্র প্রার্থী এমপি জাফর আলমের ছেলে তানভীর আহমেদ ছিদ্দিকী তুহিন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী কমেডিয়ান কমরউদ্দিন আরমান।
লোকমুখে শোনা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগের বিকল্প প্রার্থী হিসেবে কক্সবাজার-১ আসনে ভোটের মাঠে থাকবেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল অব সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহিম। তিনি মনোনয়নপত্র দাখিলের পর প্রথমবারের মতো নির্বাচনী এলাকা চকরিয়ায় এসে শনিবার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন। চকরিয়া কৌরক বিদ্যাপীঠ স্কুল মিলনায়তনে এ মতবিনিময় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অন্যদিকে রোববার ১৭ ডিসেম্বর শেষদিনে এই আসন থেকে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন অন্যতম হেভিওয়েট প্রার্থী জেপির প্রেসিডিয়াম সদস্য সালাহউদ্দিন মাহমুদ এবং বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মহাসচিব আবদুল আউয়াল মামুন। একইদিন প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী কমেডিয়ান কমরউদ্দিন আরমান।
অপরদিকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত হলেও এই আসন থেকে অনুষ্ঠিতব্য দ্বাদশ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান এমপি ও চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ জাফর আলম। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন ভোটের মাঠে থাকবেন।
জাফর আলমের পক্ষে কথা বলেছেন ছেলে তানভীর আহমেদ ছিদ্দিকী তুহিন। তিনি বলেন, আমার বাবা জাফর আলম বা আমি কেউই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করিনি। আমরা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চকরিয়া-পেকুয়াবাসীর পক্ষে লড়ে যাবো। এই বীরত্বের লড়াইয়ে হারানোর কিছু নেই। বরং চকরিয়া-পেকুয়াবাসীকে দেওয়ার অনেক কিছুই আছে।














