ঢাকা, -

আলোচিত সংবাদ

করোনার নতুন উপধরন জেএন-১, শঙ্কা ও ভয় বাড়ছে বাংলাদেশে

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

প্রতিবেশী দেশ ভারতে করোনাভাইরাসের ওমিক্রন ধরনের নতুন উপধরন জেএন-১ এর প্রকোপ দেখা দেওয়ায় শঙ্কা ও ভয় বাড়ছে বাংলাদেশে। তবে এখনও এ বিষয়ে দেশে কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। উদ্যোগ নেওয়া হয়নি এ উপধরন শনাক্তের।

এ অবস্থায় করণীয় নির্ধারণে শিগগিরই সভা ডাকার কথা জানিয়েছে কোভিড-১৯ জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি।

শঙ্কার কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের যাতায়াত ঘটে। সেক্ষেত্রে ভারত থেকে যদি জেএন-১ উপধরণ শরীরে বহন করে কোনও ব্যক্তি বাংলাদেশে প্রবেশ করে, তবে তা এ দেশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই উপধরনকে আলাদাভাবে ‘ভ্যারিয়্যান্ট অব ইন্টারেস্ট’শ্রেণিভুক্ত করেছে। কারণ খুবই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এটি। এছাড়া শীতে এর সংক্রমণ বৃদ্ধি পেতে পারে বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

যদিও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইতোমধ্যেই করোনাভাইরাসের ওমিক্রন ধরণের নতুন উপধরন জেএন-১ ছড়িয়ে পড়েছে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য বলছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম শনাক্ত হওয়া এই উপধরণ এরই মধ্যে চীনেও শনাক্ত হয়েছে। তবে ভারতে এর প্রকোপ ক্রমেই বাড়ছে এবং মারাও যাচ্ছে। ফলে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশেও এ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। দেশের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন  শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অগ্রিম বেতন গ্রহণ চলবে না: মাউশি

যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) জানিয়েছে দেশটিতে জেএন-১ সম্প্রতি সবচেয়ে বেশি দ্রুত ছড়াচ্ছে।

এদিকে, দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এই উপধরনটি প্রতিবেশী দেশ থেকে বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। কারণ দেশে শীতের এই সময়ে ধর্মীয় এবং সামাজিক অনুষ্ঠানসহ বিয়ের কেনাকাটার উদ্দেশ্যে বা ভ্রমণে প্রতিবেশী দেশ ভারতে যাওয়ার পরিমাণ বেড়ে যায়। এছাড়া আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও জনসমাগম হবে। ফলে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

করোনার নতুন এ উপধরনটি নিয়ে দ্রুত বৈঠক আয়োজন করার কথা জানিয়ে কোভিড-১৯ জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লা গণমাধ্যমকে বলেন, বেশ কিছুদিন স্বস্তিতে থাকার কারণে মিটিং করা হয়নি। তবে করোনার নতুন উপধরণটি (জেন-১) বেশি পাওয়া যাচ্ছে সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া এবং ভারতে। এই উপধরনটি সম্পর্কে একেবারেই প্রাথমিক তথ্য এসেছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতের তথ্যগুলো আমাদের দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই এখন থেকেই তাদের কাছ থেকে তথ্যগুলো সংগ্রহ করতে হবে। এই তথ্য-উপাত্তগুলো বিশ্লেষণ করে আমাদের দেশের জন্য এ উপধরণ কতটা ঝুঁকিপূর্ণ তা দেখতে হবে এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কী করণীয় তা নির্ধারণ করতে হবে। এছাড়া শীতের এই সময়টায় জনসমাগম বেড়ে যায়। যখনই সামাজিক যোগাযোগ বাড়বে অন্যান্য ভাইরাল ইনফেকশনের মতো করোনা ইনফেকশনও ছড়ানোর শঙ্কা বেশি। তবে আমাদের জন্য এখন গুরুত্বপূর্ণ হলো, প্রতিবেশী দেশ ভারতে করোনার নতুন উপধরণ এসেছে। এ ব্যাপারে এখনই আমাদের সতর্ক থেকে পরবর্তী সময়ে আরও তথ্য উপাত্ত জোগাড় করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। সেজন্য এই কমিটি মিটিংয়ে বসবে।

আরও পড়ুন  ১০ মার্চ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

দেশে নতুন উপধরনটি শনাক্তের জন্য কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে কী না সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, করোনার নতুন উপধরনটি শনাক্তের জন্য পরীক্ষা করা শুরু হয়নি। এখনই যেহেতু কমিটির মিটিং হয়নি তাই আমার ব্যক্তিগত মতামত হলো- জ্বর, সর্দি কাশি ও মাথাব্যাথা- এসব উপসর্গ থাকলে করোনা পরীক্ষা করানো উচিত কী না সে সম্পর্কে ভাবার সময় এসেছে।

প্রতিবেশী দেশ ভারতে করোনার নতুন উপধরন শনাক্তের কারণে এদেশের প্রবেশপথগুলোতে নজরদারি বাড়ানোসহ সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে সতর্কবার্তা দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এবং অধিদপ্তরের এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন  সুদানে বাংলাদেশ দূতাবাস ও রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে গুলি

এ বিষয়ে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্টটি অন্যান্য দেশসহ ভারতেও ছড়িয়েছে। তাই এদেশেও যেকোনো সময় ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা থাকে। তবে এখনও এই ভ্যারিয়েন্টটি নিয়ে সবার ধারণা স্পষ্ট না। হয়তো কয়েকদিন যাওয়ার পর বোঝা যাবে। আমাদের সুবিধা হলো দেশে করোনার টিকাগুলো দেয়া হয়েছে। তবুও সংক্রমণ থেকে বাঁচার পথ হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং পুরনো অভ্যাসগুলো (হাত ধোয়া, মাস্ক পড়া) ফিরিয়ে আনা।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্তের ঘোষণা দেয় সরকার। আর করোনায় প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ওই মাসের ১৮ তারিখে।

তিন বছর পর গত মে মাসে করোনার কারণে জারি করা বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করার ঘোষণা দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এ সময়ের মধ্যে দেশে করোনায় আক্রান্ত হয় ২০ লাখের বেশি মানুষ। মৃত্যু হয় ২৯ হাজারের বেশি মানুষের।

আলোচিত সংবাদ

এ বিভাগের আরও

সর্বশেষ