ঢাকা, -

আলোচিত সংবাদ

কালুরঘাট সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন আগামী ১৪ মে

ছবি- সংগৃহীত

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

কর্ণফুলী নদীর ওপর কালুরঘাটে আগামী ১৪ মে নতুন রেল ও সড়ক সেতুর নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম (বীরপ্রতীক)।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস কালুরঘাট সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন বলেও জানান তিনি।

আগামী ১৪ মে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে প্রধান উপদেষ্টা চট্টগ্রামে আসবেন। ওইদিন কালুরঘাট সেতু নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধনের কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীরপ্রতীক।

বুধবার (২ এপ্রিল) চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ইঞ্জিনিয়ার ওমরের কবর জিয়ারত ও ওমরের পরিবারের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন উপদেষ্টা। শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, শহীদ পরিবার তাদের প্রিয়জনকে আর ফিরে পাবেন না, তবে আমরা তাদের পাশে আছি। অন্যায় করলে বিচার হবে না, এমনটি হতে পারে না।

ফারুক-ই-আজম বলেন, আগামী ১৪ মে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আসবেন চট্টগ্রামের সন্তান প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। খুব সম্ভাবনা রয়েছে এ সময় তিনি এই সেতু নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করবেন।

আরও পড়ুন  চট্টগ্রামের জালালাবাদে পাহাড় কেটে ড্রেন করার অভিযোগ

তিনি বলেন, শহীদ পরিবার তাদের প্রিয়জনকে আর ফিরে পাবেন না, তবে আমরা তাদের পাশে আছি। অন্যায় করলে বিচার হবে না, এমনটি হতে পারে না।

বৃটিশ আমলে নির্মিত বিদ্যমান পুরোনো কালুরঘাট সেতুর ৭০ মিটার উজানে হবে নতুন রেল-কাম রোড সেতু। এতে দুই লেনের রেলপথ এবং দুই লেনের সড়কপথ থাকবে। যদিও সেতু নির্মাণের জন্য এখনো শুরু হয়নি ভূমি অধিগ্রহণ।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী ৭-৮ মাসের মধ্যে শেষ হবে প্রকল্পের পরামর্শক নিয়োগ। এরপর বিশদ নকশা প্রণয়ন এবং ভূমি অধিগ্রহণের কাজ। তারপর ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে দৃশ্যমান হবে সেতু নির্মাণ কাজ। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে চলতি বছরের গত ৯ ফেব্রুয়ারি প্রকল্প পরিচালক হিসেবে প্রেষণে নিয়োগ পেয়েছেন আবুল কালাম চৌধুরী।

কালুরঘাট সেতুর প্রকল্প পরিচালক রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রকৌশলী আবুল কালাম চৌধুরী জানিয়েছেন, কোরিয়ান প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রস্তাব চেয়ে ইওআই (এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট) কল করা হয়েছে। গত ১৭ মার্চ ছিল আগ্রহীদের কাছ থেকে প্রস্তাব গ্রহণের শেষ সময়। আগ্রহীদের দেওয়া প্রস্তাব যাচাইবাছাই হবে। এরপর ডিটেইল ডিজাইন চূড়ান্তকরণ, ভূমি অধিগ্রহণ, টেন্ডার ও ঠিকাদার নিয়োগের পর সেতু নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।

আরও পড়ুন  বান্দরবানে সেনা কর্মকর্তাসহ ৩ জন অপহরণের দায় স্বীকার কেএনএফ'র

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, সেতুটি নির্মাণে প্রয়োজন হবে প্রায় ১৪১ একর জমি। যা অধিগ্রহণ করার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এসব প্রক্রিয়া শেষে দরপত্র আহ্বান করা হবে নির্মাণ কাজের। দরপত্রে শুধুমাত্র কোরিয়ান ঠিকাদার বা জয়েন্ট ভেঞ্চারের (জেভি) মাধ্যমে অন্যরা অংশগ্রহণ করতে পারবে। এ সেতু নির্মাণ কাজের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০৩০ সাল।

জানা গেছে, নতুন সেতুটি হবে সড়ক ও রেলের স্ট্যান্ডার্ড ডাবল লাইনের। মূল সেতুটি ৬০ ফুট প্রশস্ত ও দৈর্ঘ্য ৭০০ মিটার। উচ্চতায় নদীর পানির সর্বোচ্চ লেভেল থেকে ১২ মিটার। উচ্চতার সাথে লেভেল ঠিক রাখার জন্য এই প্রকল্পের সাথে সংযুক্ত করা হবে উভয়পাশে প্রায় ৫ কিলোমিটার করে ১০ কিলোমিটার সড়ক। সেতুতে রেল চলাচলের জন্য ৩০ ফুটের মধ্যে ডাবল লাইন এবং সড়ক পরিবহন চলাচলের জন্য ৩০ ফুটের ডাবল লাইন নির্মাণ করা হবে। মূল প্রকল্পের মধ্যে থাকছে ৬ দশমিক ২০ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট নির্মাণ, ২ দশমিক ৪০ কিলোমিটার সড়ক ভায়াডাক্ট, ৪ দশমিক ৫৪ কিলোমিটার বাঁধ, ১১ দশমিক ৪৪ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ এবং আনুষঙ্গিক কাজ।

আরও পড়ুন  বিচারকের বাসভবনের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সেতু থেকে ৭০ মিটার উজানে কোরিয়ার আর্থিক সহায়তায় কালুরঘাট নতুন সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়। গত বছরের ৭ অক্টোবর ‘কালুরঘাটে কর্ণফুলী নদীর উপর একটি রেল-কাম রোড সেতু নির্মাণ’ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন দেয়া হয়। এর আগে ওই বছরের জুন মাসে প্রকল্প বাস্তবায়নের অর্থায়ন নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সরকারের ঋণচুক্তি হয়েছিল।

এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১১,৫৬০ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৪,৪৩৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা দিবে বাংলাদেশ সরকার এবং বাকি ৭,১২৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা আসবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা তহবিল (ইডিসিএফ) এবং ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট প্রমোশন ফ্যাসিলিটিজ (ইডিপিএফ) কোরিয়া থেকে। ঋণ চুক্তির শর্ত অনুযায়ী দরপত্রে দক্ষিণ কোরিয়ার পরামর্শক নিয়োগে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। পরামর্শক নিয়োগের পরপরই ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হবে।

আলোচিত সংবাদ

এ বিভাগের আরও

সর্বশেষ