ঢাকা, -

আলোচিত সংবাদ

ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে মারধর ও হেনস্থার নেপথ্যে সোনা চোরাচালানের তথ্য

ছবি- সংগৃহীত

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে মারধর ও হেনস্থার নেপথ্যে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। মূলত সোনা চোরাচালানের তথ্য ছিল পুলিশের কাছে।

যা চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী থানার ওসি থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও জানতেন। কিন্তু ভুল করে ফেলেন খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম। তিনি নাঈম হাসানকে সন্দেহভাজন মনে করে হেনস্থা ও মারধর করেন। এতে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় এ বিষয়ে তথ্যানুসন্ধান করতে গিয়ে উঠে আসে এ তথ্য।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম বলেন, সিএনজি অটোরিকশাটির বিরুদ্ধে স্বর্ণ চোরাচালানের তথ্য ছিল। তবে তথ্যটির সত্যতা এবং অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে নিয়মকানুন অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে, ঘটনায় কিছু ভুলত্রুটি রয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ সদস্য যেই হোক না কেন, এ বিষয়ে জিরো টলারেন্স অবস্থানে আছি।

সূত্র জানায়, শুক্রবার (১২ জুন) ঢাকায় অবস্থানরত খুলশী থানার এসআই মনিরুল ইসলাম একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় সোনার চোরাচালান আসার তথ্য দেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসআই শফিকুল ইসলাম লালখান বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। কিন্তু ওই অটোরিকশায় ছিলেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসান। অভিযানে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাকে চিনতে পারেননি। নাঈম পরিচয় দেওয়ার পরও দেরি হয়ে যায়। পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি তামিম ইকবাল ফোন করলে পুলিশ নড়েচড়ে বসে।

আরও পড়ুন  বগুড়ায় পুলিশ-বিনপির সংঘর্ষ: বিএনপির দাবি ৭ নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ

এই ভুলের শাস্তি হিসেবে এসআই শফিকুলসহ দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে দামপাড়া পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয় এবং পরে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পুলিশের সোর্স সোহেলকেও আটক করা হয়েছে।

সিএমপি কমিশনার মোহাম্মদ শওকত আলী জানান, এ ঘটনা সিরিয়াসলি আমলে নেওয়া হয়েছে। তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাদের ৫ কর্মদিবসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নাঈমের বড় ভাই সাব্বির হাসান অভিযোগে জানান, শুক্রবার রাতে নাঈমকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে তল্লাশির পাশাপাশি গলা টিপে ধরে পুলিশ। পাইপ দিয়ে আঘাত করা হয়। সোর্স সোহেলও নাঈমকে মারধর করেন এবং নিজেকে ডিবি পরিচয় দেন। কিন্তু পরিচয়পত্র দেখাতে ব্যর্থ হন। পরে স্থানীয়রা তাকে থানায় নিয়ে যায়।

সাব্বির আরও জানান, খবর পেয়ে গভীর রাতে তাদের বাবা থানায় গেলে তাকে বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে ভেতরে ঢোকার পর দেখা যায়, সোর্স সোহেল ওসির পাশে বসে এসির বাতাস খাচ্ছেন।

আরও পড়ুন  বেইলি রোডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রাণ হারালেন 'গণমাধ্যম' কর্মী

এই ঘটনায় নাঈমের বড় ভাই সাব্বির হাসান খুলশী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাতে সোহেলকে তিন নম্বর আসামি দেখানো হয়। অপর দুজন হলেন এসআই শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল রাসেল। দুজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

পুলিশের এ আচরণের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর আজ (শনিবার) বেলা ১১টার দিকে নাঈম হাসানের সঙ্গে দেখা করতে তার বাসায় যান সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। সেখানে তিনি স্বীকার করেন, পুলিশ সদস্যরা চরম অপেশাদার আচরণ করেছেন।

কমিশনার বলেন, জাতীয় দলের একজন ক্রিকেটারের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযুক্ত তিন পুলিশ সদস্যকে ইতোমধ্যেই দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযুক্ত একজনকে আটক করা হয়ছে। এ ঘটনায় বিভাগীয় মামলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সিএমপির একাধিক সূত্র জানায়, ২০১৯-২০ সালের দিকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে পরিদর্শক আরিফুর রহমান দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এলাকা কোম্পানিগঞ্জ থানার ওসির দায়িত্বে ছিলেন। ওই সময়ে চট্টগ্রাম রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ ওসিও নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। ২০২১-২০২২ সালে কুমিল্লার দেবিদ্বার থানার ওসি ছিলেন আরিফুর। ওইসময় ওই এলাকার চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. জসিম উদ্দিন সরকারের কাছ থেকে স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে ১ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছিলেন। বিষয়টি পরবর্তীতে জানাজানি হলে পুলিশ সদরদপ্তর তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক ব্যবস্থা নেয়। পরবর্তীতে সিএমপির বিশেষ শাখাতেও কাজ করেন তিনি।

আরও পড়ুন  লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন হলে হঠাৎ নিজেকে ছাত্রদলের সাবেক নেতা বলে পরিচয় দিতে থাকেন তিনি। এই পরিচয়ে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানায় যোগ দেন তিনি। সেখানেও ভূমি দখল এবং মাদক কারবারিদের সহায়তার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এ সময়ে তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনও করেন ভুক্তভোগীরা। এ ছাড়া নিজের সহকর্মী ও পার্শ্ববর্তী থানা পাঁচলাইশের ওসি মোহাম্মদ সোলাইমানকে নিয়ে বিষোদগার করেন তিনি। তালিকাভুক্ত এক সন্ত্রাসীর সঙ্গে ওসি আরিফের একটি কথোপকথন ছড়িয়ে পড়লে সহকর্মীকে নিয়ে তার নানা আপত্তিকর মন্তব্যও শোনা যায়।

আলোচিত সংবাদ

এ বিভাগের আরও

সর্বশেষ