খাগড়াছড়িতে গ্রামের সহজ সরল মেয়েদের কাজ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে জোরপূর্বক দেহ ব্যবসা করানোর অভিযোগে ৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
বুধবার (১৭ মে) রাতে অভিযুক্তদের নিজ বাড়ি খাগড়াছড়ি সদরের গামারীঢালা থেকে তাদের আটক করা হয়েছে।
খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আটককৃতরা হলেন- আমেনা বেগম, তার মা সেতেরা বেগম পুটি, শামিমা আক্তার, ইসমাইল হোসেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, আমেনা বেগম কাজ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে জেলা সদরের গামারীঢালা এলাকার তার নিজ বাড়িতে এক কিশোরীকে নিয়ে গিয়ে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করেন। কিশোরীকে জোরপূর্বক আটকে রেখে চালানো হয় পাশবিক নির্যাতন।
ভিকটিম কিশোরী জানায়, কাজের সন্ধানে তিনি খাগড়াছড়ি বাজারে আসেন। তখন এক নারী তাকে মাসে ৪ হাজার টাকা বেতনে কাজের প্রস্তাবে বাড়িতে নিয়ে যান। বাড়ি নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক তাকে পতিতাবৃত্তির কাজে বাধ্য করা হয়। তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হতো ওই নারীর বাড়িতে। গত মঙ্গলবার সুযোগ পেয়ে ভিকটিম পালিয়ে আশ্রয় নেন গামারীঢালা বাজারে। পরে স্থানীয় এক নারীর সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয়। বুধবার সকালে জেলা সদরের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভিকটিমের পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে নেওয়া হয় পুলিশ হেফাজতে।
খাগড়াছড়ি ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের প্রোগ্রাম অফিসার রনজিৎ সরকার জানান, ভিকটিম কিশোরীকে বুধবার সকালে সদর হাসপাতালে আনা হলে তাকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হয়। পরে আইনি সহায়তার জন্য সদর থানা হেফাজতে পাঠানো হয়।
ওসি আরিফুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় কিশোরী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে। মামলার অভিযোগের ভিত্তিতে এখন পর্যন্ত ৪ জনকে আটক করা হয়েছে।