চট্টগ্রাম নগরীর জুবিলী রোডের চাঞ্চল্যকর ডাকাতি মামলার অন্যতম ‘মুলহোতা’ মিরাজ আহমেদকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকালে কোতোয়ালীর ব্রীজঘাট বিআইডব্লিওটিএ অফিস সংগলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম ওবায়েদুল্লাহ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তার মিরাজ আহমেদ কোতোয়ালীর ২২ নম্বর এনায়েত বাজার ওয়ার্ডের কামাল আহমেদ প্রকাশ ডাইল কামালের ছেলে।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ৯ জুলাই কোতোয়ালীর জুবিলী রোডের রয়েল টাওয়ারের সামনে রাস্তার উপর মারামারির নাটক সাজিয়ে ৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা ডাকাতির ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় মামলা হয়। উক্ত ঘটনায় নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইতোপূর্বে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে তাদের হেফাজত থেকে লুণ্ঠিত ৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এরমধ্যে পাঁচজন আসামি আদালতে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
পুলিশ জানায়, তাদের জবানবন্দি এবং মামলার তদন্তকালে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী মিরাজ আহমেদের নাম উঠে আসে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ দীর্ঘদিন অভিযান অব্যাহত রাখে। অবশেষে গতকাল শনিবার বিকালে মিরাজ আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়।। জিজ্ঞাসাবাদে সে তার নাম ঠিকানা প্রকাশসহ ঘটনার কথা স্বীকার করে।
কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম ওবায়েদুল্লাহ বলেন, আসামি সংঘবদ্ধ একটি ডাকাত চক্র। মিরাজ তার সহযোগীদের সহায়তায় বড় বড় ব্যবসায়ীদেরকে টার্গেট করে এবং ব্যবসায়ীদের ব্যাংকিং লেনদেনের বিষয়ে খোঁজখবর নিতে থাকে। ব্যবসায়ীদের টাকা কে কখন কোন ব্যাংকে জমা দিতে যায়, কে উত্তোলন করতে যায় তাদেরকে টার্গেট করে তাদের গতিবিধি নজরদারিতে রাখে। একপর্যায়ে যে ব্যক্তি ব্যাংকে টাকা জমা দিতে বা উত্তোলন করতে যায় তাকে টার্গেট করে পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে রাখা স্থানে পৌঁছামাত্রই মারামারির পরিস্থিতি সৃষ্টি করে যাতে কোন পথচারী বাঁচানোর চেষ্টা না করে। মারামারির একপর্যায়ে সুযোগ বুঝে নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তারা বেশিরভাগই চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলে।
তিনি আরও বলেন, মিরাজের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে ডবলমুরিং মডেল থানায় একটি খুনের মামলাসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।