আর কিছুক্ষণ পরেই শুরু হবে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। টানা ২০ বছরের বেশি সময় ধরে দেশটির ক্ষমতায় রয়েছেন প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। এবারই তিনি বড়ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন বিরোধীদের।
রবিবার (১৪ মে) এই নির্বাচনে এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি জনমত জরিপে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইংগিতও মিলছে।
তুরস্কের বর্তমান প্রেসিডেন্টকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন যেই ব্যক্তি তিনি হলেন দেশটির গান্ধী হিসেবে পরিচিত সেক্যুলার নেতা কামাল কিরিচদারোগলু। রিপাবলিকান পিপলস পার্টির নেতা হিসেবে এরদোয়ান বিরোধী ছয় দলের সম্মিলিত মনোনয়নধারী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী তিনি।
তুরস্কে চলমান অর্থনৈতিক অস্থিরতার ফলে সৃষ্ট মূদ্রাস্ফীতি, এ ছাড়া চলতি বছরেই তুরস্কে যে জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হানে তাতে সঠিক ভূমিকা রাখতে পারেনি এরদোয়ান সরকার। তুরস্কের জনগণ এমনটাই মনে করছে। এসব কারণেই সাম্প্রতিক সময়ে এরদোয়ানের জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে।
কামাল মূলত তুরস্কের জনগণকে বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নয়ন ও ইউরোপীয় ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। নির্বাচনি প্রচারণায় ইউরোপীয় মানবাধিকার নীতি মেনে চলার বিষয়েও প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
এ ছাড়া তুরস্কে চরম আবাসন সঙ্কট রয়েছে। বিদেশিদের কাছে বাড়ি বিক্রির সুযোগ চালু করার পর থেকে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। এমন অবস্থার জন্য কামাল, এরদোয়ানের দলের পুঁজিবাদী মনোভাবকেই দায়ী করেছেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ক্ষমতায় আসতে পারলে তুরস্কের জনগণের আবাসন পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ার আগ পর্যন্ত বিদেশীদের কাছে বাড়ি বিক্রির নিয়ম স্থগিত করবেন।
তবে এরদোয়ান ও তার দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি কিরিকদারোগলুর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ করছেন। দলের অনেক জ্যৈষ্ঠ নেতা কিরিচদারোগলুকে সমকামি হিসেবেও আখ্যায়িত করেছেন। এরদোয়ান বলেছেন, পরিবার গঠন ও পারিবারিক মূল্যবোধ তুরস্কের ঐতিহ্য যা বিরোধী নেতা ধ্বংস করতে চান। তবে নির্বাচনি প্রচারণায় কোনো ধরণের ব্যুক্তি আক্রমণ থেকে বিরত ছিলেন কামাল।
পাশাপাশি নির্বাচনে এগিয়ে থাকতে তুরস্কের এই অর্থনৈতিক দূরাবস্থার মধ্যেও কর্মীদের বেতন ৪৫ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন এরদোয়ান।














