বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশজুড়ে নদী-নালা, খাল ও জলাশয় খনন এবং পুনর্খনন কর্মসূচির মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। আগামী ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় এই কর্মযজ্ঞের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের জানান, বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সারা দেশে মোট ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলাশয় খনন করা হবে।
তিনি বলেন, আগামী ১৬ মার্চ দিনাজপুরে প্রধানমন্ত্রী মূল কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। একই দিনে দেশের আরও ৫৪টি জেলায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে এই কর্মসূচির সূচনা করবেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, চার বছরমেয়াদি এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সমন্বয় করবে সরকারের চারটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়: পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং কৃষি মন্ত্রণালয়।
এবারের খনন কর্মসূচিতে যান্ত্রিক এক্সকাভেটরের চেয়ে মানুষের শ্রমকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী চান সাধারণ মানুষ এবং শ্রমিকরা সরাসরি এই কাজের সুফল ভোগ করুক। এটি একটি জনবান্ধব রাজনৈতিক অঙ্গীকার।
মীর শাহে আলম জানান, কাজের অন্তত ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ সাধারণ শ্রমিকদের মাধ্যমে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এমনকি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং হাইস্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদেরও এই জাতীয় কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত করার বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
অতীতে খাল খনন প্রকল্পের নামে অর্থ লোপাটের অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আমরা জনসম্পৃক্ততা বাড়াচ্ছি। যেহেতু মাঠপর্যায়ে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা সরাসরি তদারকি করবেন এবং শ্রমনির্ভর পদ্ধতিতে কাজ হবে, তাই অনিয়মের সুযোগ থাকবে না।