- ভয়েস অফ এশিয়া - https://voiceofasiabd.net -

ধেয়ে আসছে ‘মোখা’ ১৫ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের প্রবল সম্ভাবনা

ঘূর্ণিঝড় মোখার যাত্রাপথ বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ভৌগলিক অবস্থান ও আকৃতির কারণে কক্সবাজার জেলার উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ১৫ থেকে ২০ উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের প্রবল সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

এ তথ্য জানিয়েছেন কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে আবহাওয়া ও জলবায়ুবিষয়ক পিএইডি গবেষক এবং আবহাওয়াবিদ মোস্তফা কামাল পলাশ।

শুক্রবার (১২ মে) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ আবহাওয়াবিদ বলেছেন, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে কক্সবাজার জেলার উপকূলীয় এলাকাগুলো ১৫ থেকে ২০ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে। এছাড়া নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ১০ থেকে ১২ ফুট, বরিশাল বিভাগের জেলাগুলোতে ৮ থেকে ১২ ফুট ও খুলনা বিভাগের জেলাগুলোতে  ৭ থেকে ১০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও পড়ুন  গোপালগঞ্জের সহিংসতা নিন্দনীয় ও অমার্জনীয়: প্রধান উপদেষ্টা

তিনি আরও বলেন, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের মডেল অনুসারে ঘুর্নিঝড় মোখার কেন্দ্রে বেশিভাগ অংশ কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের উপর দিয়ে অতিক্রম করার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। আঘাতের সময় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ থাকতে পারে ঘণ্টায় ১৬০ থেকে ১৯০ কিলোমিটার।

এদিকে বাংলাদেশের আবহাওয়া অফিস বলছে, ঘূর্ণিঝড় মোখা সিডরের চেয়েও শক্তিশালী হতে পারে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আরও পড়ুন  মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের

সন্ধ্যা ৬টায় দেয়া আবহাওয়ার বিশেষ বুলেটিনে বলা হয় ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ১২ ফুটের বেশি উচ্চতার জ্বলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

এছাড়া উপকূলীয় জেলা ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৭ ফুটের বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

এদিকে সন্ধ্যায় আবহাওয়া দফতর কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত নামিয়ে ৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলেছে।

আরও পড়ুন  বৈঠক বসেছেন ফুমিও কিশিদা ও শেখ হাসিনা

সন্ধ্যার বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় মোখা উত্তর- উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় (১৪.৫° উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮.৫° পূর্ব দ্রাঘিমাংশ) অবস্থান করছে। এটি সন্ধ্যা ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।

ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতি থেকে বাঁচতে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।