- ভয়েস অফ এশিয়া - https://voiceofasiabd.net -

নির্বাচন নাকি সংস্কার আগে, রাজনৈতিক দলগুলো কী চায়?

দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কার করে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে সংসদ নির্বাচন করার রোডম্যাপ না দিলে মাঠের আন্দোলন শুরু করতে পারে বিএনপি।

সদ্য গঠিত দল এনসিপিও শুরু করতে পারে আন্দোলন৷ তবে তারা আগে চায় সংস্কার ও জাতীয় পরিষদ নির্বাচন।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী এখন মাঝামাঝি অবস্থানে। তারা বলছে, নির্বাচন এবং সংস্কার সমান গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার আমলের অন্তিম লগ্নে নিষিদ্ধ হওয়া এবং এখনো নিবন্ধন না হওয়া দলটি মনে করে, আগামী বছরের জুনের মধ্যেই নির্বাচন ও সংস্কার সম্ভব।

তবে ২৫ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস ও পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, নির্বাচনের ব্যাপারে আমি আগেও বলেছি, আবারো বলছি, এ বছর(২০২৪) ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যে নির্বাচন হবে।

তিনি আরো বলেন, আমরা চাই, আগামী নির্বাচনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচাইতে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হোক। এজন্য নির্বাচন কমিশন সব ধরনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক দলগুলো ব্যাপক উৎসাহ, উদ্দীপনায় নির্বাচনের জন্য তৈরি হতে শুরু করবে বলে আশা করছি।

আরও পড়ুন  বিরোধী দল ইস্যুতে স্বতন্ত্ররাই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু

২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্বাচনের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য ‘অস্পষ্ট’।

তিনি আরো বলেন, ডিসেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাস। এখনো কোনো রোডম্যাপ দেয়া হয়নি। আমরা বার বার স্পষ্ট রোডম্যাপ এবং দ্রুত নির্বাচনের কথা বলে আসছি। তা না হলে যেসব সংকট সৃষ্টি হচ্ছে, সেগুলো কাটবে না।

তবে একই দিনে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, সংস্কার ও বিচার ছাড়া নির্বাচন দিলে মেনে নেয়া হবে না।

বিএনপির পক্ষ থেকে বার বার চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে সংসদ নির্বাচনের দাবি করা হচ্ছে। তারা সংবিধান পরিবর্তন করতে হবে বলে গণপরিষদ নির্বাচনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

রাজনীতিতে এখন এখন গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর এনসিপি। গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া ছাত্র-তরুণদের এই দলটি ‘কিংস পার্টি’ হিসাবেও পরিচিতি পাচ্ছে। সরকারের ইচ্ছার প্রতিফলন এখন এই দলটির মাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ।

আরও পড়ুন  প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে থাই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার ডয়চে ভেলেকে জানান, সংস্কার এবং বিচার নিয়ে আমরা আমাদের কর্মসূচি ঠিক করেছি৷ আমরা এখন যে গণসংযোগ করছি, সেখানেও এটাকেই গুরুত্ব দিচ্ছি। আমরা জাতীয় নির্বাচনের আগে গণপরিষদ নির্বাচন নিয়েও কাজ করছি।

এজন্য আমরা লংমার্চসহ আরো যেসব রাজনৈতিক কর্মসূচি আছে, সেগুলো নিয়ে চিন্তা করছি। আমরা আমাদের দাবি নিয়ে মাঠে থাকবো। ঈদের পর সেটা আপনারা দেখতে পাবেন। এর মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের দলের নিবন্ধনসহ অন্য বিষয়গুলোও শেষ করবো।

তার কথা, সবাই আন্তরিক হলে আগামী বছরের জুনের মধ্যে সংস্কার এবং নির্বাচন সম্ভব।

বিএনপি মনে করে, নির্বাচন নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করা হচ্ছে। আর অন্তর্বর্তী সরকারের কারণেই সেই অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে বলে মনে করে তারা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ এর আগে স্পষ্ট করেই ডয়চে ভেলেকে বলেছেন,গণপরিষদ নির্বাচনের কোনো দরকার নেই, যুক্তিও নেই। সেকেন্ড রিপাবালিকের ধারণাও অমূলক। এখন কী কোনো রিবাপলিক নেই? আর নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারের বাইরে কোনো সংস্কার এখন দরকার নেই। সংবিধান সংস্কার করবে নির্বাচিত সরকার।

আরও পড়ুন  ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার লক্ষ্য ছিল আমাকে হত্যা করা: প্রধানমন্ত্রী

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, অতি দ্রুত নির্বাচন দিতে হবে। দেশে যে একটা অস্থিরতা, বিশৃঙ্খলা, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পাঁয়তারা দেখতে পাচ্ছি, সেটা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার হলে আর থাকবে না।তাই আমরা সরকারকে বলেছি, প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে অতি দ্রুত নির্বাচন দিতে।

সরকারকে আমরা নির্বাচনের রোডম্যাপ দিতে বলছি। রোডম্যাপ ছাড়া তাদের অবস্থান স্পষ্ট হবে না। নির্বাচনের ব্যাপারে সরকারের অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়। সরকার নানা কথায় নানা ধোঁয়াশা তৈরি করছে। আগে বলেছে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন। আর এখন বলছে ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যে নির্বাচন। সরকার তার অবস্থান পরিবর্তন করছে। এটা আরো সংকট তৈরি করবে, বলেন তিনি।

তার কথা, সরকার অতি দ্রুত যদি নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা না করে, তাহলে আমাদের ঈদের পরেই রাস্তায় নামতে হতে পারে।

তথ্যসূত্র- ডয়চে ভেলে।