বাংলাদেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে গত এক বছর ধরেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নসহ পশ্চিমা দেশগুলো বেশ তৎপর।
বিভিন্ন সময় তারা বাংলাদেশের গণতন্ত্র, সুশাসন, মানবাধিকার ইত্যাদি নিয়ে কথা বলেছে এবং উচ্চ পর্যায়ের মার্কিন এবং পশ্চিমা প্রতিনিধি বাংলাদেশ সফর করেছেন। বাংলাদেশে আগামী নির্বাচন যেন অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক হয় সে ব্যপারেও তারা অনেক মাথা ব্যথা দেখিয়েছে।
ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস বাংলাদেশে আগামী নির্বাচন কিভাবে হবে এ নিয়ে প্রকাশ্যে বিভিন্ন সময় বক্তৃতা বিবৃতি দিয়েছেন। এমনকি দুই দলের নেতৃবৃন্দকে আমন্ত্রণ জানিয়ে তাদের অভিপ্রায়ের কথা বলেছেন। কিন্তু সম্প্রতি বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা যে দাতা দেশগুলোর যে চাপ ছিল, সে চাপ কমে যেতে শুরু করছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বেদান্ত প্যাটেল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, জাতীয় নির্বাচন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আগামী সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন হিসেবে দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নির্বাচন বিষয়ে এর বেশি কিছু বলার নেই।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এমন বক্তব্য বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নমনীয় অবস্থানকেই নির্দেশ করে।
অন্যদিকে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে একই মনোভাব ব্যক্ত করেছে বন্ধু দেশ জাপান। ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইওয়ামা কিমিনোরি বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না তিনি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিন দেশ সফরে এখন দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের প্রেক্ষাপটেই বাংলাদেশে আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক মনোভাব পাল্টে গেছে বলে মনে করছেন কুটনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, এই সফরের মধ্য দিয়ে নির্বাচন সম্পর্কে সরকারের অবস্থান এবং অঙ্গীকার সুস্পষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। ফলে নির্বাচন নিয়ে যে কূটনীতি এবং বাংলাদেশকে চাপে ফেলার যে চেষ্টা সেই চাপ এখন অনেকটাই নমনীয় হয়েছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল এমন একটি নির্বাচনের আয়োজন করা যে নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবে। কোন দল অংশগ্রহণ করল কোন দল অংশগ্রহণ করল না সেটি বড় বিষয় নয়। বরং অর্থপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করাই এখন সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ।














