প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে যেকোনও মূল্যে। তিনি বলেন, জনগণ বিএনপির আন্দোলন উপেক্ষা করে অবাধে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে।
শনিবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর কাওলার সিভিল এভিয়েশন মাঠে ঢাকা উত্তর আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপির মতো লুটেরা, দুর্নীতিবাজ, খুনি, ডাকাত ও চোরেরা ক্ষমতায় এলে তারা শুধু দেশকে ধ্বংস করে দেবে। তারা যেন দেশকে ধ্বংস না করে, এজন্য একমাত্র নৌকা প্রতীকই পারে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে। আপনাদের প্রতি আমার আহ্বান আগামী নির্বাচনে নৌকার পক্ষে ভোট দিন।
বিএনপিকে নিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য তাদের নেতা কে হবেন? তাদের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন? সেই দুর্নীতিবাজ পলাতক অপরাধী নাকি এতিমদের টাকা আত্মসাৎকারী তা স্পষ্ট নয়।
বিএনপি আগামী জাতীয় নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা খুব ভালো করেই জানে, নির্বাচনে নৌকামার্কায় ভোট দিলে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসবে এবং দেশের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।
তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচন বানচাল করে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চেয়েছিল। আমি জনগণকে সতর্ক থাকার অনুরোধ করব, যাতে তারা (বিএনপি) তা করতে না পারে।
জনগণ যদি নৌকার পক্ষে ভোট দেয়, তা হলে ক্ষমতায় থাকবেন, তা না হলে থাকবেন না জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, তবে আমি জনগণের কল্যাণে আমার কাজ চালিয়ে যাব।
তিনি বলেন, আপনারা যদি উন্নয়ন চান তা হলে ভোট দিন, যদি ধ্বংস চান তাহলে বিএনপি-জামায়াতকে ভোট দিন।
খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিতে বিএনপির আন্দোলনের বিষয়ে সরকারপ্রধান বলেন, এই আন্দোলন কোনো ফল বয়ে আনবে না।
শেখ হাসিনা আরও বলেন, জনগণের ক্ষমতাই শ্রেষ্ঠ শক্তি, আমি জনগণের শক্তিতে বিশ্বাস করি। জনগণের ওপর আমার আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে।
জনসভায় বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী ড. মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, যুগ্ম সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম, স্থানীয় সংসদ সদস্য (ঢাকা-১৮) হাবিব হাসান।
এ ছাড়া আরও বক্তব্য দেন- আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী আরাফাত, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মান্নাফি।
ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমানের সভাপতিত্বে সঞ্চালনা করেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি।
এদিন সকাল থেকেই রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ডসহ বিভিন্ন রঙের টি-শার্ট ও টুপি পরে নেতা-কর্মীরা সমাবেশস্থলে জড়ো হন।














