অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর আজ (বুধবার, ১৪ মে) প্রথমবার নিজ জেলা চট্টগ্রামে আসছেন শান্তিতে নোবেল বিজয়ী, বিশ্ব বরেণ্য ব্যক্তিত্ব, অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
সরকার প্রধান যোগ দেবেন চবির সমাবর্তনে। পরিদর্শন করবেন বন্দর। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন নতুন কালুরঘাট সেতুর।যাবেন পৈতৃক বাড়ি। হস্তান্তর করবেন হার্ট ফাউন্ডেশনের জমির দলিল।
চবির সমাবর্তন অনুষ্ঠান শেষে ড. ইউনূস তার পৈতৃক বাড়ি হাটহাজারী উপজেলার ১৪নং শিকারপুর ইউনিয়নের বাথুয়া গ্রামে আসবেন। নিজ এলাকার সন্তান, প্রধান উপদেষ্টাকে বরণ করে নিতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন স্থানীয়রা। পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রধান উপদেষ্টা বিকাল ৫টায় তার পৈতৃক (হাজি মোহাম্মদ নজু মিঞা সওদাগর) বাড়ির অদূরে নুরালী বাড়ি উপ-ডাকঘর সংলগ্ন কবরস্থানে শায়িত তার দাদা-দাদির কবর জেয়ারত করবেন এবং পাশের মাঠে আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর সাথে কুশল বিনিময় করবেন।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর সর্বশেষ ২০১৭ সালে গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন তিনি। এ সময় শিকারপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তার বাল্যবন্ধু মোহাম্মদ শফি।
প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথম গ্রামের বাড়িতে আসছেন তিনি। প্রধান উপদেষ্টার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগদানকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অক্সিজেন-হাটহাজারী সড়কের দুই পাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার পাশাপাশি পুরো এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে।
১৮৮৮ সালে ব্রিটিশ আমলে ‘চিটাগাং পোর্ট কমিশনার্স অ্যাক্ট’ গঠনের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দর। বর্তমানে এটি বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ৯২ শতাংশ পরিচালনা করে, যার বার্ষিক মূল্য প্রায় ১২৫ বিলিয়ন ডলার।
‘অর্থনীতির স্বর্ণদ্বার’ খ্যাত এই বন্দরকে আধুনিকায়ন ও এর সক্ষমতা ধরে রাখতে বে-টার্মিনালের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার দাবি জানিয়ে আসছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি বন্দরের আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব ও পরিচালনার গতানুগতিক পদ্ধতির কারণে এর সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না বলেও মত ব্যবহারকারীদের।
বিজিএমইএর সাবেক সহ-সভাপতি রাকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, যেভাবে বন্দরকে আধুনিকায়নের কথা বলা হয়েছিল, তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। এখনও পুরনো পদ্ধতিতে পণ্য লোড-আনলোড চলছে। সুবিধা বাড়িয়ে এই অবস্থা পরিবর্তন করতে হবে।
ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরামের চেয়ারম্যান এস এম আবু তৈয়বের বক্তব্য, বন্দরকে আরও গতিশীল করতে হলে উন্নত যন্ত্রপাতি স্থাপন জরুরি। এই বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করছি।
নীতিনির্ধারকদের সরাসরি তদারকিতে বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা চলমান রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রামে গিয়ে সরেজমিনে এই বন্দর পরিদর্শন করবেন অধ্যাপক ইউনূস। একই সঙ্গে তিনি মতবিনিময় করবেন ব্যবসায়ী ও বন্দর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে।
তবে সম্ভাবনা সত্ত্বেও দক্ষ জনবল, অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ঘাটতির কারণে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। এমন অবস্থায় বিদেশি বিনিয়োগকে আশার আলো হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা।