ফটিকছড়ির হারুয়ালছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন চৌধুরীর বিরুদ্ধে আনা ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন খোদ নিজে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে ইফতার পূর্ব সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন চৌধুরী বলেন, আমি জনপ্রতিনিধি হিসেবে এলাকার কৃষিজমি ও পরিবেশ রক্ষায় কাজ করছি। চাঁদা দাবির অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও হয়রানিমূলক।
একটি অবৈধ ও আদালত নিষিদ্ধ ভাটার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অবস্থানকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই এমন মামলা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ফটিকছড়ি বিল আমাদের শস্যভাণ্ডার। এখানে ইটভাটার কারণে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পরিবেশেরও অপূরণীয় ক্ষতি হয়। আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভাটা চালানোর চেষ্টা করা হলে তা প্রতিহত করা আমাদের নৈতিক ও আইনগত দায়িত্ব।
জানা গেছে, উপজেলার ভুজপুর থানাধীন এলাকায় অবস্থিত ‘মেসার্স এনএসবি ব্রিক ফিল্ড’-এর মালিক মো. শফিউল আলম সম্প্রতি চট্টগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন চৌধুরীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও হামলার অভিযোগ আনা হয়। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে সংশ্লিষ্ট ব্রিকফিল্ডটিকে ঘিরে আগে থেকেই রয়েছে আদালতের নিষেধাজ্ঞা।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে আদালতের নির্দেশে হারুয়ালছড়ি এলাকার উক্ত ব্রিকফিল্ড বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে মালিকপক্ষ পুনরায় চালুর চেষ্টা করলে পরিবেশ অধিদপ্তর সেটি গুঁড়িয়ে দেয়। বর্তমানে রায়বিরোধী আপিল বিচারাধীন রয়েছে এবং পূর্ণাঙ্গ রায় না আসা পর্যন্ত সেখানে কোনো কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই।
তবুও সম্প্রতি নতুন করে চিমনি নির্মাণ ও কাঁচা ইট প্রস্তুতের খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীমের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে কয়েক হাজার কাঁচা ইট ধ্বংস করা হয়।
অভিযানের সময় ভাটার সাথে জড়িত শ্রমিকরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, আদালতের নির্দেশে ব্রিকফিল্ডটি বন্ধ রয়েছে এবং মামলাটি বিচারাধীন। পূর্ণাঙ্গ রায় না আসা পর্যন্ত সেখানে কোনো ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না। গোপনে কাজ চলার খবর পেয়ে অভিযান চালানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতে কাজের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।














