সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর নির্যাতনে বিরাম নেই বাংলাদেশে। দুর্গাপুজোর মুখে সেদেশে ফের ভাঙচুর হল একের পর এক নির্মীয়মান দুর্গাপ্রতিমা। এবার অভিযোগ উঠেছে ফরিদপুর জেলার ভাঙা উপজেলায়।
সেখানে একটি মন্দিরে ৮টি নির্মীয়মান দুর্গাপ্রতিমা ভাঙচুর হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে সেদেশের পুলিশ। তবে এখনও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি তারা।

সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে ভাঙ্গা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি স্বপন চন্দ্র সাহা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ফরিদপুরের ভাঙা উপজেলার সদর বাজার এলাকায় একটি হরি মন্দিরে চলছিল আসন্ন দুর্গাপুজোর প্রতিমা নির্মাণের কাজ। সেখানে একাধিক দুর্গাপ্রতিমা তৈরি হচ্ছিল বলে জানা গিয়েছে।
হরি মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক তরুণচন্দ্র সাহা বলেন, কয়েকদিন আগে মৃৎশিল্পীরা মাটির কাজ শেষ করে গিয়েছেন। বৃষ্টি বাদল শেষে প্রতিমা রং করার কাজ শুরুর পরিকল্পনা করছিলাম। মোট ১৪টি প্রতিমা রয়েছে সেখানে। তার মধ্যে ৮টি প্রতিমা ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। কোনওটার হাত, পা, কোনওটার আবার মাথা ভেঙে দিয়ে গিয়েছে। আমরা পুলিশকে বিষয়টা জানিয়েছি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আমরা এর বিচার চাই।

দুর্গাপুজোর মধ্যে এই ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে বাংলাদেশের হিন্দুদের মধ্যে।
এই ঘটনায় ২০২২ সালে দুর্গাপুজোর মধ্যে বাংলাদেশে হিন্দুবিরোধী হিংসার স্মৃতি ফিরে এসেছে অনেকের মনে। ওই বছর বাংলাদেশে দুর্গাপুজো চলাকালীন গুজবের ওপর ভিত্তি করে ব্যাপক হিংসা হয়। ভাঙচুর করা হয় একের পর এক দুর্গামণ্ডপ ও মন্দির। অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল বহু মণ্ডপে। সেই ঘটনায় মোট ১০ জন সংখ্যালঘু হিন্দুর মৃত্যু হয়েছিল।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোকসেদ হোসেন জানান, ভাঙ্গায় দুটি মন্দিরে নির্মাণাধীন প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে। তবে কে বা কাহারা ভাঙচুর করেছে কাউকে শনাক্ত করা যায়নি। তবে একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
