ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে এবং আওয়ামী লীগের নেতা সজীব ওয়াজেদ জয় অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশের বড় দুটি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার জন্য ‘বিদেশ থেকে একটি খেলা’ চলছে।
তিনি বিবিসি বাংলাকে একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, এই তৎপরতা গণতান্ত্রিক নয়।
সজীব জয় বলেন, এখানে তিনি মূলত আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির নেতৃত্ব পরিবর্তনের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেননি, এই খেলার সঙ্গে কে বা কোন দেশ জড়িত।
তিনি আরও বলেন, তার পরিবারের কেউ শেখ হাসিনার পরে দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করবে না। দলের নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণভাবে দলের সিদ্ধান্ত এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
তিনি জানান, বর্তমান সময়টি খুবই সংকটপূর্ণ। ৫ আগস্টের পর থেকে আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে বড় ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অধিকাংশ নেতা বা গ্রেপ্তার হয়েছেন বা দেশে থাকতে পারছেন না। এমন পরিস্থিতিতে নতুন কোনও নেতৃত্বকে সামনে আনা বা ‘রিফাইন্ড’ আওয়ামী লীগ নিয়ে আলোচনা হয়। তবে সজীব জয় স্পষ্ট করেন, তিনি এমন কোনও ধারণায় বিশ্বাস করেন না।
তিনি বলেন, দেশের বড় দুই দল- আওয়ামী লীগ ও বিএনপিরই নির্দিষ্ট ভোটব্যাংক রয়েছে। ক্ষমতায় গেলে এই দুই দলেরই প্রধান আসনে যেতে হবে। তাই কিছু বিদেশি শক্তি ও কয়েকজন সুশীল ব্যক্তি এই নির্ধারণে যুক্ত হতে চাচ্ছেন যে, কে প্রধানমন্ত্রী হলে রিফাইন্ড হবে। কিন্তু আমি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। নেতৃত্ব নির্বাচন করবে দল এবং জনগণ।
সজীব জানান, বর্তমানে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন এবং আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে কোনও পরিবর্তন হয়নি। তিনি বলেন, দলের সভাপতি এখনও তার মা। দলের অধিকাংশ নেতা ও কর্মী সমর্থন দিচ্ছেন, তাই দল ইউনাইটেড রয়েছে।
বর্তমানে দেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ। মামলার ভয় ও গ্রেপ্তারের কারণে নেতাকর্মীরা দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। সজীব নিজে বিদেশ থেকে দলের কার্যক্রমে তৎপর। তিনি বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে নেতৃত্ব নিতে চান না, বরং দেশের গণতন্ত্র ও শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করছেন।
এ ছাড়া তিনি অভিযোগ করেছেন, তার পরিবারের সদস্যদের নির্বাচনে অযোগ্য করার জন্য মিথ্যা মামলা করা হচ্ছে। তবে তার দাবি, আওয়ামী লীগের ওপর এখনও জনগণের সমর্থন রয়েছে এবং তারা স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাসী।
শেখ পরিবারের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে সজীব জানিয়েছেন, দলের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়টি সবসময় ঐক্যবদ্ধভাবে পরিচালিত হয়। তিনি বলেন, আমরা কখনো সিদ্ধান্ত নিইনি যে শেখ হাসিনার পরে কে নেতৃত্ব নেবে। ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্বাচন হবে দলের মধ্যে ব্যালট পদ্ধতিতে। যে নেতা বেশি ভোট পাবে, সে হবে নেতা।
সজীব জয় স্পষ্টভাবে জানান, তার মা এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও, তিনি ব্যক্তিগতভাবে সরাসরি নেতৃত্ব গ্রহণ করতে চাইছেন না।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার জুলাই আন্দোলনের সময় কিছু ভুল করেছে, তবে সব বিষয়ে ক্ষমা চাওয়া মানে হবে না।














