বাঁশখালীতে হত্যাকাণ্ডের ৬ ঘণ্টার মধ্যে ব্যাটারিচালিত রিকশাচালক মো. জাহিদুল ইসলাম (২০) খুনের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।
শনিবার (১ মার্চ) রাত ১০টার দিকে সরল ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের কানুনগোখীল গ্রামের বেড়িবাঁধ সংলগ্ন সরল ব্রিজের পূর্ব পাশে সংঘটিত এ ঘটনার সাথে জড়িত ঘাতক আরমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নিহত জাহিদুল ইসলাম বাঁশখালী পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের ভাদালিয়া গ্রামের বাচুর বাপের বাড়ির মৃত হাবিব উল্লাহর ছেলে।
পুলিশ জানায়, শনিবার রাত ১০টার দিকে সরল ইউনিয়নের কানুনগোখীল মাউচ্চাপাড়া খালের পাড়ে একজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থলে ভুক্তভোগীর অটোরিকশাটি এবং তার ব্যবহৃত মোবাইলটি পড়েছিল। পরবর্তীতে নিহতের আত্মীয়-স্বজন হাসপাতালে এসে লাশ শনাক্ত করেন।
এদিকে এ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া বাটন মোবাইলের সূত্র ধরে সরল ইউনিয়নের দক্ষিণ জালিয়াঘাটা এলাকার কানুনগোখীল গ্রামের আনু মিয়ার ছেলে মো. আরমানকে (২১) শনাক্ত করা হয়। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় এবং গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ঘাতক মো. আরমানকে চট্টগ্রাম শহরের পাঁচলাইশ থানার আতুরারডিপু এলাকা থেকে রবিবার (২ মার্চ) ভোর ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরমান জানায়, তার নিকট থাকা পরিবারের ৩৫ হাজার টাকা সে জুয়া খেলে নষ্ট করে ফেলে। মো. জাহিদুল ইসলামের চালিত অটোরিকশাটি বিক্রি করে উক্ত টাকা পরিশোধ করার জন্য ১৫০ টাকায় ভাড়া করে বাঁশখালীর মিয়ার বাজার এলাকা থেকে শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কানুনগোখীল মাউচ্চাপাড়া সরল ব্রিজের অনুমান ৪০০ গজ পূর্ব-উত্তর পাশে খালের পাড়ে নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে সেখানে আরমান আনুমানিক রাত সাড়ে ৯টার দিকে মো. জাহিদুল ইসলামকে তার অটোরিকশাটি থামাতে বলে। তখন আরমান অটোরিকশা চালকের আসনে বসে থাকা অবস্থায় পেছন দিক থেকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করলে একপর্যায়ে জাহিদ চালকের আসন থেকে নিচে পড়ে উচ্চস্বরে চিৎকার দিতে থাকলে ঘাতক হতভম্ব হয়ে তার ছুরিটি পার্শ্ববর্তী জলকদর খালে ফেলে দিয়ে চলে যায়।
বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় নিহতের মা সাদেকা বেগম বাদী হয়ে এজাহার দায়েরের পর থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামি আরমানকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।














