ঢাকা, -

আলোচিত সংবাদ

বিএনপি নির্বাচনে আসছে….!

ছবিঃ সংগৃহীত

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস আজ (মঙ্গলবার) প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়ালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। সেখানে তিনি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ, নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি, নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সাথে বৈঠক শেষে বের হয়ে তিনি গণমাধ্যম কর্মীদেরকে অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন এবং নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর শর্তহীন সংলাপের উপর গুরুত্বারোপ করেছেন। পিটার হাস সকল পক্ষকে সহিংসতার পথ পরিহার করার আহ্বান জানিয়েছেন।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাসের নির্বাচন কমিশনে যাওয়াটাকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক করতে চায়। আর এই অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের অন্যতম শর্ত হলো প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো যেন অংশগ্রহণ করে। আর এই কারণেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চাইছে যে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় বিএনপি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে আসতে পারে এমন একটি গুঞ্জন এখন বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন  ১৫ নভেম্বর বৈঠকে বসছেন বাইডেন-জিনপিং

উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। নির্বাচন কমিশন যেন নিরপেক্ষভাবে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করে সে ব্যাপারে মার্কিন রাষ্ট্রদূত গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক প্রতিনিধি ঢাকায় এসে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা এবং স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে, নির্বাচন কমিশন যদি স্বচ্ছ নিরপেক্ষ থাকে, প্রশাসন যদি নিরপেক্ষ থাকে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি পক্ষপাতমূলক আচরণ না করে তাহলে দেশে অবাধ সুষ্ঠ নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব। এমনটি মনে করেন কোন কোন দেশের কূটনৈতিকরা। আর এরকম পরিস্থিতি যদি হয় তাহলে বিএনপির নির্বাচনে যাওয়াই উচিত, এমনটাই মনে করছেন পশ্চিমা দেশের কূটনৈতিকরা।

বিএনপি নির্বাচনে যাওয়ার পর যদি নির্বাচন নিরপেক্ষ না হয়, নির্বাচনে যদি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ওঠে, এমনকি নির্বাচন নিয়ে যদি কোনও রকম সহিংসতা বা ভোট কারচুপির ঘটনা ঘটে, সেক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতি এবং অন্যান্য বিধি নিষেধগুলো প্রয়োগ হতে পারে। আর এ জন্যই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চায় বিএনপি নির্বাচনে আসুক এবং তারা এলে নির্বাচনের প্রকৃত অবস্থা কি হয় তা সকল মহল দেখুক।

আরও পড়ুন  পুনর্বাসনের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি অগ্রাধিকার দেবে সরকার: ত্রাণ উপদেষ্টা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো মনে করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলের অংশগ্রহনের ফলে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব।

কিন্তু বিএনপি নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে এখন আন্দোলন করছে। এই আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের দাবি আদায় সম্ভব নয়। আর বিএনপি যদি নির্বাচনে না আসে তাহলে আওয়ামী লীগ বা নির্বাচন কমিশন চুপচাপ বসে থাকবে না।

ইতিমধ্যেই আজ প্রধান নির্বাচন কমিশন মার্কিন রাষ্ট্রদূতকেও জানিয়েছেন, নির্বাচনের পরিবেশ অনুকূল হোক বা প্রতিকূল হোক নির্বাচন করতেই হবে। এটি তাদের সাংবিধানিক বাধ্য বাধকতা। এই কারণেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সব পক্ষকে নির্বাচনে আনার জন্য এটি মধ্যস্থতা করছে বলে বিভিন্ন সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছে।

আরও পড়ুন  অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আরও ৫ উপদেষ্টার শফথ আজ

এর মধ্যে প্রথম ধাপ হলো একটি সংলাপ আয়োজন করা। এই সংলাপটি নির্বাচন কমিশনও করতে পারে। ক্ষমতাশীল রাজনৈতিক দলও করতে পারে। সংলাপের মধ্য দিয়ে বিএনপি যদি নির্বাচনে আসে এবং তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পুরো নির্বাচনের পরিস্থিতি অর্থাৎ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচন পর্যন্ত ঘটনাবলীকে পর্যবেক্ষণ করবে এবং এই পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তারা দেখবে যে অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন হচ্ছে কিনা।

শেষ পর্যন্ত যদি অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ হয় তাহলে সেই নির্বাচনকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্বীকৃতি দেবে। আর যদি নির্বাচনে কোন কারচুপি হয় সে ব্যাপারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার পূর্বে ঘোষিত সতর্কতা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ কারণেই বিএনপির নির্বাচনে আসা প্রয়োজন। আর তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন বিএনপিকে নির্বাচনে আনার ক্ষেত্রে একরকম চাপ দিচ্ছে বলেই মনে করেন কোনও কোনও মহল।

ট্যাগঃ

আলোচিত সংবাদ

এ বিভাগের আরও

সর্বশেষ