চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী-বায়েজিদ) আসনে জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) জোটের সভাপতি ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের প্রস্তাবক ও সমর্থককে প্রকাশ্যে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এই অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আসন্ন নির্বাচনের অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেন।
আনিসুল ইসলাম মাহমুদ জানান, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মনোনয়ন যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে গেলে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মীর হেলালের সমর্থকরা তাঁদের বাধা দেন ও নাজেহাল করেন। পরে কোতোয়ালি থানা পুলিশ তাঁদের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রবেশে সহযোগিতা করে। কিন্তু পুলিশ চলে যাওয়া মাত্রই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে তাঁর প্রস্তাবক ও সমর্থককে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়।
অবশ্য পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে অপহৃতদের উদ্ধার করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি না হলে কোনোভাবেই অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্ভব নয়।
জাতীয় পার্টির একাংশের এই নেতা আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই তাঁকে এবং তাঁর দলের নেতাকর্মীদের নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। গত ১৯ ডিসেম্বর তাঁর গ্রামের বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা তারই প্রমাণ। এ সময় জাতীয় পার্টির নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, আমাদের পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের, প্রস্তাবককারী ও সমর্থককারীদের উপর যেভাবে চট্টগ্রামে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হামলা করা হয়েছে, তা গণতন্ত্রের উপর সরাসরি আঘাত।
চট্টগ্রামে আমাদের জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের আর্তনাদ শুনে, আমি গভীরভাবে ব্যথিত হয়েছি। আমার কাছে মনে হয়, সরকার সম্পূর্ণরূপে নিরপেক্ষতা হারিয়েছেন। তিনি বলেন, ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ- একজন সাধারণ মানুষ নন।
এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সকল দলের সমান অধিকার থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবতা আজ ভিন্ন। আমার কাছে প্রতীয়মান হয়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, তিনি একটি লাইন ড্র করেছেন। তার পেছনের শক্তির সন্ধানে, আমি যা দেখি, তার এই শক্তি, অপব্যবহার করা উচিত না।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো- চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট কাজী ফিরোজ রশিদ, নির্বাহী চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক চুন্নু, কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, শাহিদুর রহমান টেপা, মোস্তফা আল মাহমুদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত মাসরুর মাওলা, প্রেসিডিয়াম সদস্য- মোঃ জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া, মোঃ আরিফুর রহমান খান, সরদার শাজাহান, ফখরুল আহসান, শাহাজাদা নূরুল ইসলাম ওমর।
আনিস ও হাওলাদারের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি ও জেপির নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট ১১৯ আসনে প্রার্থী দিয়েছে। ইতোমধ্যেই পার্টির মহাসচিবসহ বেশ কয়েকজন প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। অন্যদিকে আনিসুল ইসলাম মাহমুদের প্রার্থীতা অবৈধ ঘোষণা করেছে রির্টানিং অফিসার।
চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে দাখিল করা মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর জটিলতার কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।














