- ভয়েস অফ এশিয়া - https://voiceofasiabd.net -

‘ভারতে বসে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফেরার ছক কষছেন আওয়ামী লীগ’

বাংলাদেশে শেখ হাসিনার পতনের পর প্রথম জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ভারত থেকে রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের পরিকল্পনা করছে আওয়ামী লীগের প্রবাসী নেতারা। ভারতের কলকাতায় অবস্থানরত দলটির নেতাদের দাবি, শেখ হাসিনা আবারও দেশে ফিরতে পারবেন এবং তাঁকে ‘নায়ক’ হিসেবেই গ্রহণ করবে সমর্থকরা।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর দলের শত শত নেতা-কর্মী বাংলাদেশ ছাড়েন। তাদের একটি বড় অংশ বর্তমানে কলকাতায় অবস্থান করছেন। অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশের আদালতে তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ, হত্যা, রাষ্ট্রদ্রোহ ও দুর্নীতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের মে মাসে অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের সব রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত করে এবং দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। ফলে দলটি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে বা প্রচারণা চালাতে পারছে না।

আরও পড়ুন  ভারতে পুলিশ হেফাজতে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু, থানায় আগুন দিলো উত্তেজিত জনতা

এদিকে গত বছরের শেষ দিকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তবে শেখ হাসিনা ওই রায়কে ‘ভুয়া’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন এবং ভারত থেকেই দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

কলকাতায় অবস্থানরত আওয়ামী লীগের নেতারা জানান, দিল্লিতে গোপন আশ্রয়কেন্দ্র থেকে শেখ হাসিনা নিয়মিত দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক ও ফোনালাপ করছেন। দল পুনর্গঠন এবং আসন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রস্তুতি নিয়েই এসব যোগাযোগ চলছে।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, শেখ হাসিনা প্রতিদিন দীর্ঘ সময় দলীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং তিনি দেশে ফেরার ব্যাপারে আশাবাদী।

আরও পড়ুন  বাজার নিয়ন্ত্রণে ১৩ ধরনের জ্বালানি তেলে কর কমছে

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শেখ হাসিনার সময় অনুষ্ঠিত শেষ দুইটি নির্বাচন ব্যাপক কারচুপির অভিযোগে বিতর্কিত ছিল। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার- নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে- আগামী নির্বাচনকে এক দশকের মধ্যে প্রথম অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হিসেবে উপহার দিতে চান।

তবে আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, তাদের নির্বাচন থেকে বাইরে রাখা হলে ওই নির্বাচন গণতান্ত্রিক বৈধতা পাবে না। দ্য গার্ডিয়ানেকে দলটির সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক জানান, দলীয় কর্মীদের নির্বাচন বর্জনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনার শাসনামলে বিরোধী মত দমন, গুম, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। যদিও আওয়ামী লীগ নেতারা এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছেন।

আরও পড়ুন  মির্জা ফখরুলের জামিন নামঞ্জুর

জাতিসংঘের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বিক্ষোভকারীদের ওপর শেখ হাসিনার সরকারের দমন-পীড়নে আনুমানিক ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হয়েছিলেন।

ভারত থেকে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক তৎপরতা চালানো নিয়েও দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সম্প্রতি দিল্লিতে শেখ হাসিনার এক বক্তব্য ঘিরে বাংলাদেশ সরকার প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানায়।

কলকাতায় অবস্থানরত আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা দাবি করেছেন, আসন্ন নির্বাচন ব্যর্থ হলে জনগণ আবারও আওয়ামী লীগের দিকেই ফিরে তাকাবে। তাদের প্রত্যাবর্তনের কৌশল মূলত সেই সম্ভাবনার ওপরই নির্ভর কর