কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে ভারত সফরে আছে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল।
সোমবার (৭ আগস্ট) প্রতিনিধি দলটি সাক্ষাত করেছে বিজেপির জাতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডার সঙ্গে।
প্রতিনিধি দলে আরও আছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য মেরিনা জাহান কবিতা এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আরমা দত্ত।
আর কয়েক মাস পরেই বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন। এই পরিস্থিতিতে বিজেপি’র সদরদফতরে এসে আওয়ামি লীগ নেতাদের নাড্ডার সঙ্গে আলোচনা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন একটা বার্তা স্পষ্ট যে ভোটের আগে বিজেপি পুরোপুরি আওয়ামী লীগের পাশে আছে।
সূত্র জানায়, বিজেপি সভাপতি জে পি নাড্ডা জানিয়েছেন, তাদের সাফল্যের অন্যতম প্রধান কারণ হলো সংগঠন। বিজেপি’র এই সংগঠন একেবারে বুথ পর্যায় থেকে কেন্দ্রীয় পর্যন্ত ছড়ানো। বিশ্বের বৃহত্তম দল হলো বিজেপি। খাতায় কলমে তাদের সদস্যসংখ্যা ১৮ কোটির বেশি। তবে সংগঠনের কাজে নিয়োগ করা হয় দলের পুরো সময়ের কর্মীদের। সেই সঙ্গে থাকেন অন্য কর্মীরাও, যারা পুরো সময় দিতে না পারলেও কাজের পাশাপাশি অনেকটা সময় দেন।
সূত্র জানায়, দুই দলের মধ্যে সহযোগিতার বিষয়টি নিয়েও আলোচনায় খুবই গুরুত্ব পায়। বিজেপি নেতারা জানিয়ে দিয়েছেন, তারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে চান।
বৈঠকের পর বিজেপি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, আওয়ামী লীগ নেতাদের নাড্ডা বিজেপির সাংগঠনিক কাঠামোর বিষয়ে জানিয়েছেন।
তিনি বুঝিয়েছেন, বিজেপি কীভাবে তৃণমূল স্তরে কাজ করে। বিজেপির কাজের ধরণ, ভিশন এবং ভারতের উন্নতিতে তাদের দলের অবদানের কথা জানানো হয়েছে।
ও পি জিন্দল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত মনে করেন, ভারত বরাবরই শেখ হাসিনার পক্ষে। ভারত মনে করে, শেখ হাসিনা নিরাপত্তার বিষয়টি ভালো বোঝেন। আর সে অনুযায়ী ভালো ব্যবস্থা নেন। আর ভারতের অতীত অভিজ্ঞতা হলো, আওয়ামী লীগের বিরোধীরা বা বিএনপি ক্ষমতায় এলে নিরাপত্তার বিষয়টি বুঝবে, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেবে না। এই ধারণা থেকেই তারা হাসিনার পাশে থাকে।
প্রবীণ সাংবাদিক শুভাশিস মৈত্র মনে করেন, ভারত যে বংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকারকে চায় এটা তো ওপেন সিক্রেট। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না থাকলে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ হতে পারে। যেটা ভারত কখনই চাইবে না। তাই আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিজেপি যে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করতে চাইবে, ভোটের আগে শেখ হাসিনার দলের পাশে থাকবে সেটাই স্বাভাবিক।














