বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া ঘূর্ণিঝড় মোখা রবিবার ভোরের দিকে আঘাত হানতে পারে। ‘অতি প্রবল’ ঘূর্ণিঝড়টি আছড়ে পড়তে পারে বাংলাদেশ এবং মিয়ানমারের উপকূলে। এ সময় বাতাসের গতিবেগ থাকতে পারে ঘণ্টায় ২০৪ কিলোমিটার।
শুক্রবার (১২ মে) সকালে গণমাধ্যমকে আমেরিকার নৌবাহিনী পরিচালিত জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টারের পূর্বাভাসের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছেন কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ুবিষয়ক গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের সবশেষ নয় নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার; যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।
মোখার অবস্থান সম্পর্কে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তার কাছাকাছি এলাকায় অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড়টি সামান্য উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় (১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮ দশমিক ০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশ) অবস্থান করছে।
অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে ভোর ৩টার সময়কার ঘূর্ণিঝড়টির গতি-প্রকৃতি তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, শুক্রবার ভোর ৩টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ১২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে আরও ঘনীভূত হতে পারে।
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ২ নম্বর দূরবর্তী সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। সাগরে অবস্থানরত জেলেদের নৌকা ও ট্রলার নিয়ে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে তাদের গভীর সাগরে চলাচল করতে নিষেধ করা হয়েছে।
মোস্তফা কামাল পলাশ বলেন, মোখা কক্সবাজার ও মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের উপকূলে আঘাত হানলেও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকাগুলো ১০ থেকে ২০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের সম্মুখীন হতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টির যাত্রাপথ ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান ও আকৃতির কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হবে বলে জানান তিনি।
পলাশ বলেন, কক্সবাজার জেলার উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ১৫ থেকে ২০ ফুট উচ্চতার, নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ১০ থেকে ১২ ফুট, বরিশাল বিভাগের জেলাগুলোতে ৮ থেকে ১২ ফুট ও খুলনা বিভাগের জেলাগুলোতে ৭ থেকে ১০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।
এদিকে মোখার প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় কী ধরনের জলোচ্ছ্বাস হতে পারে জানতে চাইলে আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, এখন কিছুই বলা যাচ্ছে না। ৪৮ ঘণ্টা আগে মডেল রান দিয়ে জানাতে পারব। তবে আমাদের ধারণা জলোচ্ছ্বাস কম হবে।
শুক্রবার (আজ) সকাল থেকেই বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলে মোখার প্রভাব শুরু হবে জানিয়ে উপকূলীয় এলাকার মানুষকে সরিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে বলেছেন তিনি।
বলেন, শনিবার দুপুরের মধ্যে কক্সবাজার জেলার সকল দ্বীপ এলাকার মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে হবে। সন্ধ্যার পূর্বে নিশ্চিত করতে হবে সকল মানুষ ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে পৌঁছে গেছে। সেন্টমার্টিন দ্বীপের মানুষজনকে কুঁড়েঘরে না রেখে বাণিজ্যিক হোটেলগুলোতে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। সম্ভব হলে অনেক মানুষকে সরিয়ে নিতে হবে টেকনাফে।
এদিকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও ময়মনসিংহসহ ৮ বিভাগেই বৃষ্টি, বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তীব্র তাপপ্রবাহ কিছুটা কমেছে। আজ দেশের ৪৭ জেলা ও অঞ্চলে মৃদু থেকে মাঝারি মানের তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।














