- ভয়েস অফ এশিয়া - https://voiceofasiabd.net -

মরক্কোয় ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮২০

মরক্কোতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২০ জনে। এছাড়া আহত হয়েছে আরও কমপক্ষে ৬৭২ জন।

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়। রিখটার স্কেলে ওই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৮। এছাড়া আহত হয়েছে আরও ৩২৯ জন।

স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে (৯ সেপ্টেম্বর) ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।

এর আগে ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ২৯৬ জন এবং ১৫৬ জন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। স্থানীয় সময় শুক্রবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে ভূ-কম্পনটি হয়।   ভূমিকপ্তের উৎপত্তিস্থল মরক্কোর ঐতিহাসিক শহর মারাকাশের ৪৪ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ত্ব জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)।

আরও পড়ুন  শপথ নিলেন নোমান আল মাহমুদ এমপি

সংস্থাটি জানায়, শক্তিশালী ভূকম্পনটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৬ দশমিক ৮। কম্পনটির গভীরতা ছিল ১৮ দশমিক পাঁচ কিলোমিটার। ভূমিকম্পটি ২০ সেকেন্ড পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। ফলে মারাকাশের বেশ কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উত্তর রিফ পর্বতমালার আল হোসেইমার কাছে ২০০৪ সালের ভূমিকম্পের পর থেকে মরক্কোর সবচেয়ে মারাত্মক ভূমিকম্প এটি। এখন পর্যন্ত ৬৩২ জন প্রাণহানির খবর রেকর্ড করা হয়েছে। অবশ্য মরক্কোর জিওফিজিক্যাল সেন্টার জানিয়েছে, হাই এটলাসের ইঘিল এলাকায় ৭ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ভূমিকম্পে ধসে গেছে রাবাত ও মারাকাশের বহু বাড়ি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধসে যাওয়া বাড়ি, রাস্তার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশ নিয়ে ওয়াশিংটনের সাথে কথা বলবেন নয়াদিল্লি

ভিডিওগুলোতে দেখা যাচ্ছে, ভূমিকম্পের ফলে অনেক ভবনের দেয়াল ফেটে গেছে। আতঙ্কে মানুষ বেরিয়ে আসেন রাস্তায়। এসময় চারিদিকে ধোঁয়ার কুন্ডলী ছড়িয়ে  পড়ে।

মারাকাশের বাসিন্দা আব্দেলহক এল আমরানি বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেছেন, আমি ভবন নড়তে দেখছিলাম। তখন আমি বাইরে বের হয়ে দেখি রাস্তায় অসংখ্য মানুষ। মানুষ আতঙ্কিত ও হতবিহ্বল হয়ে পড়েছিল। শিশুরা কান্নাকাটি করছিল। ভূমিকম্পের পর ১০ মিনিটের জন্য বিদ্যুৎসহ মোবাইল নেটওয়ার্ক চলে গিয়েছিল। বিদ্যুৎ এলেও কেউ আর নিজ ঘরে ফেরেননি।

আরও পড়ুন  ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত নিয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় 'রেমাল'

এদিকে রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানা গেছে, এ ভূমিকম্পে বেশিরভাগ প্রাণহানি পাহাড়ি এলাকায় হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় এক কর্মকর্তা। আরও পশ্চিমে তারউদান্টের কাছের গ্রামের শিক্ষক হামিদ আফকার বলছিলেন যে, ভূকম্পনের সময় তিনি তার বাড়ি থেকে দৌড়ে বেরিয়ে পড়েন। এবং বেশ কয়েকটি ঝাঁকুনি অনুভব করেন। তিন বলেন, পৃথিবীটি প্রায় ২০ সেকেন্ডের জন্য কেঁপে উঠল। আমি দ্বিতীয় তলা থেকে নিচে নেমে আসার সাথে সাথে দরজা নিজেই খুলে গেল এবং বন্ধ হয়ে গেল।

অ্যাটলাস পর্বতমালায় ‘তির্যক-বিপরীত ফল্টিং’ এ ভূমিকম্পের কারণ বলে ব্যাখ্যা করেছে ইউএসজিএস। স্পেন ও পর্তুগালেও কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে খবর।