ঢাকা, -

আলোচিত সংবাদ

মিয়ানমার থেকে আসা গুলিতে টেকনাফে কিশোরী নিহত

ছবি- সংগৃহীত

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

মিয়ানমার থেকে ছোড়া মর্টার শেলের আঘাতে টেকনাফের এক শিশু শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। নিহত শিশু আফনান আক্তার (১০) টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ গ্রামের জসিম উদ্দিনের মেয়ে ও তেচ্ছিব্রিজ হাজী মো. হোছাইন সরকারি প্রাথামিক স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী।

এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষুদ্ধ জনতা টেকনাফ-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করেছে। এলাকায় উত্তপ্ত অবস্থা বিরাজ করছে। ঘটনাস্থলে বিজিবি, পুলিশসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা রয়েছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নিহত শিশুর চাচা শিক্ষক আলী আকবর সাজ্জাদ জানান, গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আফনান আক্তার অন্য শিশুদের সাথে উঠানে খেলছিল। এ সময় ওপারে মিয়ানমার অভ্যন্তরে প্রচণ্ড গোলাগুলি হচ্ছিল। হঠাৎ মর্টার শেল এসে আফনান আক্তারের মাথায় পড়ে। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে নেয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন  কলমাকান্দায় জমিতে পড়েছিল সাবেক ইউপি সদস্যের লাশ

স্কুল ছাত্রীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষুদ্ধ জনতা টেকনাফ-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে। টেকনাফ সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গ্রুপ, আরাকান আর্মি ও দেশটির সেনাবাহিনী ত্রিমুখীর ড্রোন হামলা ও গুলিবর্ষণের শব্দে আতঙ্কিত এপারের মানুষ।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে রবিবার (১১ জানুয়ারি) সকাল পর্যন্ত টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তের খুব কাছে রাখাইনে এ সংঘর্ষ হচ্ছে। এখনো বোমা বিস্ফোরণ এবং শতশত গোলাগুলি চলমান। টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্ত থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

রবিবার সকালেও প্রচুর গোলাগুলি হয়েছে। এসময় বুলেট এসে পড়েছে টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্ত গ্রাম লম্বাবিলে। হোয়াইক্যং সীমান্তের ওপারে যে হারে বোমা বিস্ফোরণ ও গোলাগুলি হচ্ছে, সারারাত এপারের লোকজন জেগে ছিল। একেকটা বিস্ফোরণে বাড়িঘর কেঁপে উঠছে। নারী ও শিশুরা ভয়ে কাঁদছে। হোয়াইক্যং সীমান্তের কাছে পরিস্থিতি ভয়াবহ। এপারের সাধারণ মানুষ অনিরাপদ মনে করছে। বাড়ি-ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছে।

আরও পড়ুন  স্ত্রীকে হত্যাচেষ্টা মামলায় স্বামী গ্রেপ্তার

হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু বলেন, গত তিনদিন হোয়াইক্যংয়ের ওপারে রাখাইন সীমান্তে দিনে-রাতে গোলাগুলি ও বোমা বিস্ফোরণ হচ্ছে। শনিবার সন্ধ্যা থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত শতশত রাউন্ড গুলি ও একের পর বোমা বিস্ফোরণের শব্দে এপারের বাসিন্দাদের স্বাভাবিক চলাফেরা ব্যাঘাত ঘটছে। সেখান থেকে ছোড়া গুলি এপারে এসে পড়ছে। মানুষের চিংড়ি ঘেরে ও চাষের জমিতে গুলি এসে পড়ছে। এখনো গোলাগুলি ও বোমার বিস্ফোরণ হচ্ছে।

আরও পড়ুন  বাড়লো বিদ্যুতের দাম

উখিয়া ব্যাটালিয়ন ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল জহিরুল ইসলাম বলেন, সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির বিষয়টি আমরা অবগত আছি। বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইনামুল হাফিজ নাদিম বলেন, সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির ঘটনার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে সতর্কতার সঙ্গে অবস্থান করতে বলা হয়েছে। এছাড়া বিষয়টি নিয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে উপজেলা প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে।

আলোচিত সংবাদ

এ বিভাগের আরও

সর্বশেষ