কুমিল্লার মুরাদনগরে ঘরে ঢুকে গলায় ছুরি ধরে এক নারীকে ধর্ষণের ঘটনার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত প্রধান আসামি ফজর আলীকে (৩৮) রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর আগে ভিডিও ভাইরাল করা তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এছাড়া ধর্ষিতার বিবস্ত্র ভিডিওধারন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে আরও চারজনকে জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রবিবার (২৯ জুন) সকালে বিষয়টি ভয়েস অফ এশিয়াকে নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খান।
ভিডিও ধারণকারী অনিক, সুমন, রমজান, বাবু এবং মামলার প্রধান আসামি ফজর আলী সবাই মুরাদনগরের পাঁচকিত্তা এলাকার বাসিন্দা।
জেলা পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খান জানান, মূল অভিযুক্ত ফজর আলীকে ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ভিডিও ধারণকারী ও সরবরাহকারীদের কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে আলাদা একটি মামলা করা হবে। মূল অভিযুক্ত ফজর আলী আহত অবস্থায় থাকায় তাকে আইন অনুযায়ী চিকিৎসা দেয়ার পর আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
এরআগে শুক্রবার (২৭ জুন) এ ঘটনায় নিজেই বাদী হয়ে মুরাদনগর থানায় অভিযুক্ত ফজর আলীকে আসামি করে একটি ধর্ষণ মামলা করেছিলেন ভুক্তভোগী। গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার রামচন্দ্রপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
এর আগে, নির্যাতনের ৫১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও শনিবার রাত থেকে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায় বিবস্ত্র অবস্থায় ১০/১২ জন যুবক ওই নারীকে মারধর করছে। এ সময় ওই নারী বাঁচার জন্য চিৎকার করলেও কেউ তাকে রক্ষা করেনি।
পুলিশ বলছে, ভিডিও ভাইরাল হওয়ার আগে ওই নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের বিষয়টি কেউ পুলিশকে অবহিত করেনি। ওই নারী তাকে ধর্ষণের অভিযোগে শুক্রবার মামলা দায়ের করেছেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) দিবাগত রাতে উপজেলার রামচন্দ্রপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের বাহেরচর পাচকিত্তা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ওই নারী (২৫) নিজেই মুরাদনগর থানায় অভিযুক্ত ফজর আলীকে (৩৮) আসামি করে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত পলাতক ছিলেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ঘটনার রাতে তার বাবা-মা বাড়ির বাইরে ছিলেন। ওই সময় ফজর আলী ঘরের বাইরে এসে দরজা খুলতে বলেন। ভুক্তভোগী দরজা না খুললে অভিযুক্ত কৌশলে ঘরে প্রবেশ করে এবং জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে ফজর আলীকে আটক করে মারধর করে এবং ঘটনার ভিডিও ধারণ করে। পরে ওই নারীকে উদ্ধার করা হয়।














