২০২৬ সালের ৮ এপ্রিল এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল (SNSC) যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘদিনের উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের কঠোর অবস্থানের ফলেই ওয়াশিংটন আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে এবং তেহরানের প্রস্তাবিত শর্তগুলো বিবেচনায় নিতে বাধ্য হয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের উত্থাপিত ১০ দফা প্রস্তাব আলোচনার ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। এসব প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে- ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসন না চালানোর নিশ্চয়তা, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকণ কার্যক্রমের স্বীকৃতি।
চুক্তি অনুযায়ী, উভয় পক্ষ দুই সপ্তাহের জন্য সব ধরনের সামরিক হামলা স্থগিত রাখবে। এই সময়ের মধ্যেই কূটনৈতিক আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শুক্রবার থেকে সম্ভাব্য বৈঠক শুরু হওয়ার কথা, যেখানে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।
তবে যুদ্ধবিরতির মধ্যেও সতর্ক অবস্থান বজায় রাখার কথা জানিয়েছে তেহরান। ইরানি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, পরিস্থিতি অবনতি ঘটলে তারা দ্রুত প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত থাকবে।
এদিকে, এই ঘোষণার পর রাজধানী তেহরানে বহু মানুষ রাস্তায় নেমে উদযাপন করেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর কূটনৈতিক তৎপরতার ফলেই এই সাময়িক সমঝোতা সম্ভব হয়েছে। ইসলামাবাদের আসন্ন বৈঠকগুলোই নির্ধারণ করবে এই সংঘাত দীর্ঘমেয়াদে কোন দিকে এগোবে।