চট্টগ্রাম রাউজানে পিয়ার মোহাম্মদ চৌধুরী বাবু (৩৮) নামে সাবেক এক ছাত্রদল নেতা দুর্বৃত্তের গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছেন। অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় রাউজান উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর গুজরা গ্রামের শ্রী শ্রী অন্নদা ঠাকুর আদ্যপীঠ রামকৃষ্ণ সংঘ মন্দির সংলগ্ন পুকুর পাড়ে এই গুলির ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ পিয়ার মোহাম্মদ রাউজান সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের খানখানাবাদ গ্রামের পিয়ার মোহাম্মদ চৌধুরীর বাড়ির হাফেজ মাওলানা নুর মোহাম্মদের ছেলে।
তিনি রাউজান কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রী নেতা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী।
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়া হযরত চাঁদ শাহ (রা.) এর বার্ষিক ওরসকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আরফাত।
প্রত্যক্ষর্দী আরফাত বলেন, আমাকে নিয়ে বাবু ভাই আদ্যপীঠ মন্দিরের সামনের পুকুর সেচ কাজ দেখতে যাই। পরে আমরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরে বেসরকারি হাসপাতাল এভার কেয়ারে নিয়ে আসি। উনার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
পিয়ার মোহাম্মদের মা মোরশেদা বেগম বলেন, আমার ছেলে রোজা মুখে নিয়ে পুকুর সেচের কাজ দেখার কথা বলে ঘর থেকে বের হয়েছিল। ১১টার পর খবর পাই ছেলেকে গুলি করে ফেলে গেছে। আমার নিরহ ছেলের উপর যারা গুলি চালিয়েছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শান্তি চাই।
অন্নদা ঠাকুর আদ্যপীঠ রামকৃষ্ণ সংঘ মন্দির পৌরহিত তপন চক্রবর্তী বলেন, মন্দিরের সামনের পুকুরে ঘাট তৈরির জন্য সরকারি বরাদ্দ এসেছে। সাব কন্ট্রাক্টর হিসেবে পিয়ার মোহাম্মদ কাজটি শুরু করার জন্য পুকুরের পানি সেচ দিচ্ছেন। সে কাজ দেখবাল করতে আসার পর গুলি চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। সংবাদ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে আসি। আমার প্রতিষ্ঠানে সিসি ক্যামেরা আছে। পুলিশ ক্যামেরার হার্ডডিস্ক নিয়ে গেছে।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, আমরা সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসি। ঘটনাস্থল থেকে ৫-৬ রাউন্ড খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। অপরাধীদের শনাক্তকরণের কাজ চলছে বলেও দাবি তার। সিসি টিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
ছাত্রদলের একজন সাবেক নেতা, উনি এখন বিএনপি করেন, ঠিকাদারিসহ বিভিন্ন ব্যবসা করেন, উনাকে দুর্বৃত্তরা গুলি করে আহত করেছে। কারা গুলি করেছে, সেটা আমরা এখনও পুরোপুরি শনাক্ত করতে পারিনি। তবে দলীয় অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধ অথবা ব্যবসা-টাকাপয়সার বিরোধে এ ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা করছি, যোগ করেন এ পুলিশ কর্মকর্তা।