মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের (সরকারিকরণ) দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে চলা শিক্ষকদের অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষকেরা। এ সময় পুলিশের লাঠির আঘাতে কয়েকজন শিক্ষক আহত হয়েছেন বলে সাংবাদিকদের কাছে জানিয়েছেন তাঁরা।
সোমবার (১৭ জুলাই) শিক্ষকদের লাগাতার অবস্থান কর্মসূচির সপ্তম দিনে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ থাকলেও পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে বলে অভিযোগ করেন আন্দোলনকারী শিক্ষকরা। এই ঘটনায় প্রেসক্লাবের সামনের রাস্তায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ কাওছার আহমেদ বলেন, গত ১১ জুলাই থেকেই আমরা মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছি। আন্দোলনের অংশ হিসেবে আমাদের শিক্ষকরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। তাদের দাবির কথা তুলে ধরেন। কিন্তু শিক্ষকদের এমন শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশ অন্যায়ভাবে লাঠিচার্জ করেছে।
তিনি আরও বলেন, পুলিশ আমাদের ভাই। আমাদের দাবি-দাওয়া পূরণে তাদের সহযোগিতা কামনা করেছিলাম। কিন্তু তার পরিবর্তে তাদের দ্বারা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে শিক্ষকরা। শিক্ষকদের এ শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে আমাদের প্রায় অর্ধশত শিক্ষককে পেটানো হয়েছে। আপনারা দেখতে পাচ্ছেন অনেক শিক্ষক রক্তাক্ত হয়ে পড়ে আছে। কয়েকজনকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।
শেখ কাওছার আহমেদ বলেন, শিক্ষকরা জাতির মেরুদণ্ড। অথচ জাতির মেরুদণ্ডরা আজ রাস্তায় লাঠিপেটা খাচ্ছে। খেয়ে না খেয়ে আন্দোলন করছে। স্কুলে স্কুলে তালা ঝুলছে। কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা প্রশাসনের উপর মহলের কেউই আমাদের কথা কানে নিচ্ছেন না। এ কেমন প্রহসন?
তিনি আরও বলেন, আমি পুলিশের কাছে অনুরোধ জানাবো আপনারা আমাদের পাশে থাকুন। আমাদের শান্তিপূর্ণ অবস্থানে সহায়তা করুন।
এ বিষয়ে প্রেসক্লাব এলাকায় দায়িত্বরত একজন পুলিশ সদস্য বলেন, আসলে সব রাস্তা বন্ধ করে দিচ্ছিলেন শিক্ষকেরা। এ জন্য অন্তত এক পাশের রাস্তা যেন সচল রাখা যায়, সে জন্য তাঁদের সরে যেতে বলা হয়েছিল।
বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির ডাকে ১১ জুলাই থেকে অবস্থান কর্মসূচি চলছে।














