- ভয়েস অফ এশিয়া - https://voiceofasiabd.net -

শীতলক্ষ্যায় তেলের জাহাজে বিস্ফোরণ, মারা গেলেন ৩ জন

নারায়ণগঞ্জের রুপগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীতে তেলের জাহাজের ইঞ্জিন রুমে বিস্ফোরণে ৮ জন দগ্ধের ঘটনায় দগ্ধ আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

রবিবার (১১ জুন) ভোরে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে রুবেল ও শনিবার দিবাগত রাত ১০টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় হুমায়ুন কবির।

মৃতরা হলেন- হুমায়ুন কবির (৫৪) ও রুবেল (৫৪)। এনিয়ে এই ঘটনায় ৩ জনের মৃত্যু হলো।

রুবেলের বাড়ি ভোলার লালমোহন উপজেলার ফুলবাগিচা গ্রামে। তার বাবার নাম আব্দুর রহমান। আর হুমায়ুনের বাড়ি সাভারের পলাশবাড়ি। তার বাবার নাম মৃত আলী আকবর তালুকদার।

আরও পড়ুন  অনুমতি ছাড়া রাস্তা কাটলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে চসিক

চিকিৎসকের বরাত দিয়ে তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া।

তিনি জানান, রুবেলের শরীরের ৪৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। আর হুমায়ুনের ৩০ শতাংশ। এরআগে গত মঙ্গলবার দুপুরে চিকিৎসধীন ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে মারা যায় তাজুল ইসলাম লিমন (২০)।

গত ৩ জুন দিবাগত রাত ১টার দিকে রুপগঞ্জে গাজী ব্রিজ সংলগ্ন দড়িকান্দি ডকইয়ারে “ওটি সাংহাই-এইট” নামে জাহাজে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

এতে দগ্ধ হন জাহাজটির স্টাফ তাজুল ইসলাম লিমন (২০), আ. মান্নান রাহাদ (২৩), হুমায়ুন কবির (৫৪), ইমতিয়াজ আহমেদ (৪২), রুবেল (৩৮), সোহেল (৩৮), নাজমুল (৩৩) ও রাকিব (২৪)।

আরও পড়ুন  চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ষাটোর্ধ বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার

জাহাজটির স্টাফ আ. মান্নান রাহাদ জানান, তারা জাহাজটিতে করে চট্টগ্রাম থেকে নরসিংদীতে তেল নিয়ে যান। সেখানে তেল আনলোড করে তারা জাহাজটি নিয়ে রূপগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীতে তাদের ডকইয়ারে গিয়ে ভেড়ান। শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে তারা যখন জাহাজটির ডেকের উপরে ছিলেন তখন ইঞ্জিন রুমে হঠাৎ বিকট বিস্ফোরণ হয়। তাদের শরীরে মুহূর্তে আগুন ধরে যায়। সঙ্গে সঙ্গে তারা নদীতে লাফিয়ে পড়ে। এরপর সাঁতরে পাড়ে উঠেন। তখন সহকর্মীরা তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

আরও পড়ুন  শরীয়তপুরে শিক্ষার্থীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ

বার্ন ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মো. তরিকুল ইসলাম ঘটনার দিন জানান, জাহাজের আগুনের ঘটনায় মোট ৮ জন রোগীকে বার্ন ইন্সটিটিউটে নিয়ে আসা হয়েছিল। এদের মধ্যে ৩ জনকে ওইদিনই প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। বাকি ৫ জনকে ভর্তি রাখা হয়।

এই ঘটনায় ইমতিয়াজের ৩০ শতাংশ ও সোহেলের ৪৫ শতাংশ দগ্ধ নিয়ে ভর্তি আছেন।