চট্টগ্রামের রাউজানে বিনাজুরী গ্রামে ১৯৬০ সালের ২০ নভেম্বর অমৃতেন্দু মুহুরী ও বেনু মুহুরীর ঘরে যে কন্যা শিশুর জন্ম হয়েছিল, তিনিই যে সময়ের পরিক্রমায় হয়ে উঠবেন দেশের প্রখ্যাত অটিজম বিশেষজ্ঞ, সে কথা ভাবেনি কেউ। শুধু তা-ই নয়, মেডিক্যাল কলেজে এমবিবিএস ও পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন শিক্ষায় ‘অটিজম’ বিষয়টি সম্পৃক্ত করে শিক্ষার্থীদের তিনি পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন শিশুর বৃদ্ধিতে সেন্সরি ইন্টিগ্রেশনের (পরিবেশ থেকে মস্তিষ্কে ইন্দ্রিয় উদ্দীপনা) ভূমিকা সম্পর্কে।
কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানে গবেষণার হাজারও বিষয় থাকতে কেন অটিজমকে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিলেন, কেনইবা এ ধরনের সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের কল্যাণে নিলেন নানান উদ্যোগ-তা জানলে বিস্মিত হতেই হবে। একজন মা তাঁর সন্তানের জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, সেটা চিকিৎসক সমাজে বিরল।
তবে সে গল্প পাঠের আগে ফিরে যাই তাঁর শৈশবে।
স্মৃতির ঝাঁপি খুলে অধ্যাপক ডা. বাসনা মুহুরী বলেন, মধ্যবিত্ত পরিবারে আমার জন্ম। পরিবারে দ্বিতীয় সন্তানও মেয়ে হওয়ায় সবাই অসন্তুষ্ট। কিন্তু পরদিন ঠাকুরদা’র চাকরিতে পদোন্নতি হওয়ায় সবাই বলেছিলেন- মেয়েটা ভাগ্যবতী।
শৈশবে ছেলেদের মতো মার্বেল, ডাংগুলি খেলতাম। স্কুল জীবন শুরু হয় বিনাজুরী হরিপদ স্মরণী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। কাদামাটি মাড়িয়ে খালি পায়ে স্কুলে যেতাম। পাঁচ ভাই-বোনের সবাই ক্লাসে প্রথম হতো।
সেসময় ছেলে-মেয়েদের আলাদা স্কুল ছিলো না। আমার পরীক্ষার ফলাফল থাকতো এক থেকে তিনের মধ্যে। পঞ্চম শ্রেণিতে বৃত্তি পেয়েছিলাম। বিনাজুরী নবীন উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে অটোপ্রমোশন পেয়ে ৭ম শ্রেণিতে ভর্তি হলাম। শিক্ষকরা খুব স্নেহ করতেন।
বাবা-ঠাকুরদা’র চাকরির সুবাদে পরিবারে কোনোকিছুর অভাব ছিলো না। ওই সময়েই শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। শরণার্থী হয়ে আমরা চলে যাই ভারতে। যুদ্ধপরবর্তী সময়ে দেশে ফিরে পরিবার পড়লো আর্থিক সংকটে। পরনের কাপড় ছাড়া আমাদের আর কিছুই ছিলো না। এরপরও পড়ালেখা বন্ধ হয়নি।
‘১৯৭৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় পুরো রাউজান থানায় প্রথম স্থান অর্জন করি। খবর পেয়ে অনেকেই আমাকে দেখতে এসেছিলেন। বাবা তখন রামকৃষ্ণ মিশনে। ভর্তি হই কুণ্ডেশ্বরী বালিকা মহাবিদ্যালয়ে। বিজ্ঞানের ছাত্রী ছিলাম। আমাদের বাড়ি থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার হেঁটে গিয়ে সেখানে ক্লাস করতাম। বর্ষাকালে স্যান্ডেল হাতে নিয়ে যেতে হতো। ঠাকুরমা অর্ধেক রাস্তা এগিয়ে দিতেন, সন্ধ্যায় আমার ফেরার অপেক্ষায় থাকতেন।তিনি ছিলেন শিক্ষিত, বলতেন- আমি পঞ্চম শ্রেণিতে পুরস্কার পেয়েছি, তুইও অনেক বড় হবি”। এইচএসসিতে প্রথম স্থান অর্জন করলাম। ইচ্ছে ছিলো পদার্থবিজ্ঞান বা রসায়নের শিক্ষক হওয়ার। অনার্সে ভর্তির জন্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম কলেজে পরীক্ষা দিলাম। বিশ্ববিদ্যালয় দূরে হওয়ায় চট্টগ্রাম কলেজে রসায়ন বিভাগে ভর্তি হলাম। বাবা হেমসেন লেইনে একটি দুই কক্ষের বাসা নিলেন। শুরু হলো বাবা-মেয়ের সংসার। খরচ চালানোর জন্য যোগ হলো আমার বৃত্তির একশ টাকা।রসায়নের ছাত্রী কীভাবে ডাক্তার হলেন-এ তথ্যও জানা গেল তাঁর বর্ণনায়। বললেন, ‘চট্টগ্রাম কলেজে ভর্তি হওয়ার তিন মাস পর একদিন বাবা একটা ফরম এনে বললেন, এটাতে স্বাক্ষর করে দাও। দেখলাম মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির ফরম। বাবা পুরো ফরমটা পূরণ করে দিলেন, আমি শুধু নিচে স্বাক্ষর করলাম। ফরমটা জমাও দিলেন বাবা। যেদিন মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির ফলাফল দেয়, সেদিন চট্টগ্রাম কলেজ বন্ধ থাকায় আমি ছিলাম বাড়িতে। পরে হেমসেন লেইনের ভাড়া বাসায় এসে দেখি- একটা পত্রিকা।লাল কালি দিয়ে বাবা লিখে রেখেছেন, আমার মা জয় করেছে। খুব কেঁদেছিলাম সেদিন। ডাক্তার হওয়ার এই সুযোগ পেয়েছিলাম আমার বাবার কারণেই। সেই বাবাকে হারিয়েছি করোনাকালে। ২০২৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি সকালে হারালাম ৯০ বছর আয়ু পাওয়া মা বেনু মুহুরীকে। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে অধ্যয়নকালে প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষা থেকে ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষা পর্যন্ত আমাকে কোনো সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা দিতে হয়নি। প্রথম ২০ জনের মধ্যে প্রথম থেকেছি সবসময়। চমেক ফরেনসিক বিভাগের প্রধান প্রয়াত প্রফেসর ডা. নুরুল ইসলাম স্যারের কাছে পেয়েছিলাম পেশাগত নৈতিক শিক্ষা। ইন্টার্নশিপ শেষ হওয়ার পর সরকারি চাকরিতে যোগ দেই ১৯৮৪ সালে।
১৯৮৮ সালে ডা. বাসনা মুহুরীর বিয়ে হয় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের তৎকালীন অর্থোপেডিক্স বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. অলক কান্তি বিশ্বাসের সাথে। অধ্যাপক পি. বি রায় তাঁর আপন মামা শ্বশুর। তিনি ডা. বাসনাকে স্নেহ করতেন। বিয়ের সম্বন্ধটা তাই ঠিক করে দেন তাঁর ভাগিনার সাথে। বর্তমানে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিক্যাল কলেজে অর্থোপেডিক্স বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন অধ্যাপক ডা. অলক।

স্বামী-স্ত্রী দুজনই তখন চন্দনাইশ উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সে কর্মরত। ১৯৮৯ সালে তাঁদের ১ম ছেলে অর্ণব বিশ্বাসের জন্ম হয় চমেক হাসপাতালে। জন্মের সময় মাতৃগর্ভে অবস্থান ছিলো উল্টো। ওজন, বৃদ্ধি-সবকিছু স্বাভাবিক কিন্তু চেহারা অস্বাভাবিক। যতই বড় হচ্ছে ততই তার আচরণে দেখা যাচ্ছে ভিন্নতা। হাঁটতে শিখলো ২০-২২ মাসে। বয়স যখন প্রায় দুই বছর, তখন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে বেশ পরিচিত (বর্তমান মেয়র) ডা. শাহাদাত হোসেনকে দেখানো হলো। বয়স অনুযায়ী অর্ণবের ওজন, স্বাস্থ্য সব ঠিক আছে। কিন্তু ডাকলে সাড়া দেয় না। তিনি অভয় দিলেন। দুই বছর বয়সে সে কথা বলা শুরু করলো। রবীন্দ্র সংগীত পছন্দ করতো। কথা বলার সময় রবীন্দ্র সংগীত গাইতো। বড়রা গান গাইলে সে শুনতো। ঠাম্মা, মেজদি, মামণি, বাবা বলে ডাকতে শিখেছে। আড়াই-তিন বছরেও সে হাঁটে না, পায়ের গোড়ালি না বসিয়ে আঙুলের ওপর ভর দিয়ে দৌড়ায়। একা একা খেলতে পছন্দ করে। অন্য শিশুদের সাথে খেলার আগ্রহ নেই। ডা. বাসনা তখন চন্দনাইশে গাইনোকোলজিস্ট হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার চেষ্টায়। এফসিপিএস-পার্ট ওয়ান পরীক্ষা দিয়েছেন। ছেলেকে নিয়ে দৌড়াদৌড়ি আর চাকরির ব্যস্ততায় প্রথমবার ব্যর্থ হলেন। সেসময় একশ জনে পাস করতো একজন বা দুইজন।
এরমধ্যে চমেক শিশু বিভাগে কোর্সে থাকা ডা. পরিমল পরামর্শ দিলেন, অধ্যাপক এখলাসুর রহমান অর্ণবের সমস্যার সমাধান দিতে পারবেন। ছেলেকে নিয়ে মা তাঁর চেম্বারে গেলেন। শিশুদের খেলার জোনে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলো। বেশ কিছুক্ষণ সে খেললো। মাঝে মাঝে ডাক দেয়। তিনি অর্ণবের এ অবস্থা লক্ষ্য করে বললেন, ‘এটা হলো অটিজম’। প্রেসক্রিপশনে লিখে দিলেন- অটিস্টিক চাইল্ড উইথ ডেভেলপমেন্টাল ডিলে।

সেই মুহূর্তের অবস্থা বর্ণনা করে ডা. বাসনা মুহুরী বলেন, মনে হলো আমি পুরোটাই চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছি। এই শব্দ আমার কাছে অচেনা। এই রোগ আমার অজানা। চিকিৎসা কী জানতে চাইলে বললেন, এখনো পর্যন্ত এর কোনো চিকিৎসা নেই। তিনি আমাকে ঢাকায় সাইকিয়াট্রিস্ট ডা. মাহফুজুর রহমানের ঠিকানা দিলেন। পরদিন ঢাকা গেলাম। ডা. মাহফুজুর রহমান পাঠালেন প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনে। ওখান থেকে ডা. শামীম মতিনের কাছে। তিনিও বললেন একই কথা। সেসময় আমাদের আর্থিক অবস্থাও এমন ছিলো না যে- ছেলেকে দেশের বাইরে কোথাও নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করাবো। নিজেদের সংসারের পাশাপাশি বাবা-মা, পরিবারের দায়িত্বও আমাদের কাঁধে। গাইনোকোলজিস্ট হওয়ার যে ইচ্ছে আমার ছিল, সেটা পালিয়ে গেল।
১৯৯৩ সালে চন্দনাইশ থেকে বদলি হয়ে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের ফার্মাকোলজি বিভাগে লেকচারার হিসেবে যোগ দিলাম। আমার স্বামীও সার্জারি বিভাগের আউটডোরে। এর মধ্যে নিজের পড়াও চালিয়ে যাচ্ছি। আবার এফসিপিএস পরীক্ষা দিলাম পেডিয়াট্রিক্সে। একশ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬ জন নির্বাচিত হলো, আমি দ্বিতীয় স্থানে। শুরু হলো শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ হওয়ার যুদ্ধ। ওই সময় এফসিপিএস পড়তে পিজি হাসপাতালে থাকতে হতো। আমি চলে গেলাম। আমার ছেলেকে দেখাশোনার জন্য শ্বশুর-শাশুড়ি আর কেয়ারটেকার ছিলেন। এভাবে ছয় মাসের কোর্স শেষ করলাম। পরীক্ষার আগে হঠাৎ দেখা দেয় ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস। দুই পায়ের রক্তনালি ব্লক হয়ে রক্ত চলাচল বন্ধ। আমার চিকিৎসা শুরু হলো অ্যান্টিকোয়াগুলেন্ট দিয়ে। খবর রটে গেছে-আমি মারা গেছি। সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদে বেঁচে ফিরে আসলাম। ছয় মাস পর আবার পরীক্ষা দিয়ে পার্ট ওয়ান পাস করলাম। ঢাকা থেকে ফিরে চমেক হাসপাতালের শিশু বিভাগে যোগদান করলাম, পেলাম কোয়ার্টার।
১৯৯৫ সালে এক লাখ টাকা জমিয়ে ছেলে অর্ণবকে নিয়ে কলকাতা যান ডা. বাসনা। নীলরতন হাসপাতালের ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগের প্রধান তাঁর বাবার পিশতুতো ভাই। তিনি একজন নিউরোলজিস্টের কাছে পাঠালেন। ডাক্তার দেখলেন অর্ণবকে। এমআরআই করালেন। মস্তিষ্কে কোনো অসুবিধা নেই, শুধু ব্রেন মেটারটা একটু বড়। তিনি লিখে দিলেন, মা তুমি ডাক্তার। তোমার হাজবেন্ড ডাক্তার। তোমরা বাংলাদেশে চলে যাও। এখানেও অটিজমের চিকিৎসা নেই। কোনো কেন্দ্র এখনও গড়ে ওঠেনি। তোমাদেরকেই তৈরি করতে হবে সবকিছু।
কলকাতা থেকে ফিরতে হলো। ১৯৯৬ সালে এফসিপিএস-পার্ট টু পরীক্ষা দেওয়ার জন্য ঢাকায় যেতে হলো পুরো পরিবার নিয়ে। তাঁর স্বামীর পোস্টিং হলো ঢাকা মেডিক্যালে। সাথে ছিল দুই সহায়তাকারী বোন। ওরা তাঁর চন্দনাইশের এক রোগীর মেয়ে। পিজিতে পার্ট টু-তে যাওয়ার আগে ১৯৯৫ সালে অর্ণবের বয়স সাড়ে পাঁচ, তখন এলো দ্বিতীয় সন্তান সৌমিক। সেই ছেলেটা এখন ডাক্তার হয়েছে।

শিক্ষক, সহপাঠীসহ সবার পরামর্শে ঢাকার মগবাজারে ‘কল্যাণী’ নামে একটি অটিস্টিক শিশুদের স্কুলের খবর মিললো। স্কুলটির প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর নায়লা জামানের মা সুলতানা জামান- যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাইকোলজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান ছিলেন। অর্ণবকে কল্যাণীতে ভর্তি করানো হলো। সেখানে মাঝেমধ্যে সন্তান লালন-পালন বিষয়ে অভিভাবকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। ডা. বাসনা ও তাঁর স্বামী প্রশিক্ষণে যোগ দিতেন। তবে ওরা অটিজম সম্পর্কে বেশি জানতো না, জানতো-এসব শিশু প্রতিবন্ধী।
অধ্যাপক ডা. এখলাসুর রহমান তাঁকে অনেকগুলো তথ্য-উপাত্ত দিয়েছিলেন। এরমধ্যে ১৯৮৩ সালে ব্রিটিশ জার্নালে প্রকাশিত একটি আর্টিক্যাল ছিল, যেখানে অটিজম কী, এর কারণ কী মনে করা হয়, কীভাবে এটি মোকাবেলা করতে হয়- এসব বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা ছিল। সেই আর্টিক্যাল পড়ে নির্দেশনা অনুযায়ী ঘরে শুরু হয় অর্ণবকে লালন-পালনের চেষ্টা।
ডা. বাসনার ভাষায়, অর্ণব ছিল খুব অস্থির। নিজেকে নিজে কামড় দিতো, চিৎকার করতো। সবাইকে মারতো। কি খাবে বুঝাতে পারতো না। ঘুমাতো না। আমরা ডাকছি, সে অন্যদিকে তাকায়। এটাই সেন্সরি সমস্যা। আমাদের যে পঞ্চ ইন্দ্রিয় আছে, সে ইন্দ্রিয়ের উদ্দীপনা তার মধ্যে নেই। এটাই বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।
এই জীবনযুদ্ধে পাশে ছিল না কোনো আত্মীয়-স্বজন। ছিলেন শুধু স্বামী। অথচ তারাই অর্ণবের এই অবস্থার জন্য ডা. বাসনাকে দোষী বানালেন। অভিযোগ, চাকরি আর রোগী দেখা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় বাচ্চাকে সময় দেওয়া হয় না। সেই সময় যারা এসব কথা বলতো, তারা এখন আর ওসব বলে না। কারণ, অর্ণব এখন আগের চেয়ে অনেকটাই সুস্থ। শিক্ষকরা বলতেন, ‘সি ইজ অ্যা ফাইটিং গার্ল।
এর মধ্যে দুই বছর কেটে গেলো। ফাইনাল পরীক্ষা দিয়ে একবারেই পাস করলেন ডা. বাসনা। অনেকেই বললেন ঢাকায় থেকে যেতে। কিন্তু তিনি চট্টগ্রাম চলে এসে উঠোন আছে এমন একটা বাসা ভাড়া নিলেন। ছেলে যাতে অন্যদের সাথে খেলতে ও মিশতে পারে। পাশাপাশি ছেলেকে সামার ফিল্ড স্কুলে ভর্তি করানো হলো। কিন্তু তাকে নিয়ে অভিভাবকদের অভিযোগ, ‘এটা পাগল ছেলে, আমাদের বাচ্চারাও ওর মতো হয়ে যাবে’। এক সপ্তাহও যায়নি, ছেলেকে ওখান থেকে নিয়ে আসতে হলো। ১৯৯৭ সালে আবার চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে যোগ দিলেন। চট্টগ্রামে অটিস্টিক বাচ্চাদের স্কুল সুইড বাংলাদেশ (সোসাইটি ফর দ্য ওয়েলফেয়ার অব ইন্টেলেকচুয়াল ডিজেবল) এর প্রতিষ্ঠাতাও ঢাকার কল্যাণী’র সুলতানা জামান। তখন হেলথের ডিজি ছিলেন প্রফেসর ডা. নুরুন্নবী। তিনি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে ডা. বাসনার শিক্ষক ছিলেন। তাঁর পরামর্শে সুইড বাংলাদেশ স্কুলে গিয়ে ক্লাসরুমগুলো ঘুরে দেখা হলো। ওখানে অটিজম শিশু আছে কিনা জানতে চাওয়ার পর বুঝলেন- তারা জানে না অটিজম একটি আলাদা সমস্যা। বুদ্ধি প্রতিবন্ধী, ডাউন সিনড্রোম, সেরিব্রাল পালসির চেয়ে অটিজম বাচ্চারা আলাদা। স্কুল ঘুরে দেখা গেল, ১০-১২জন অটিস্টিক বাচ্চা ওখানে আছে যারা কোনো সেবা পাচ্ছে না। তিনি স্কুল কমিটির সাথে কথা বললেন। ঢাকার রেফারেন্স দিয়ে অর্ণবকে সেখানে ভর্তি করে কমিটির সদস্য হয়ে গেলেন। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আউটডোরে এবং সুইড বাংলাদেশে এক ঘন্টা করে ট্রেনিং ক্লাসে বিভিন্ন বই ও নিজের লেখা বইয়ের মাধ্যমে প্রেজেন্টেশন দিতেন- অটিজম কী, কেন হয়; তা নিয়ে। এরমধ্যে তিনি দিল্লি থেকে ট্রেনিং নিয়ে আসলেন। একদিন তাদের প্রস্তাব দিলেন- অটিজম বাচ্চাদের জন্য একটা থেরাপি রুম লাগবে। অটিস্টিক বাচ্চারা যে লাফায়, চিৎকার করে, থুতু দেয়, মারে- এসব হলো সেন্সরি সমস্যা।

ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিসের চিকিৎসার জন্য তিনি সিঙ্গাপুর গিয়ে সেখানেও দুটি সেন্টার দেখে কিছু অভিজ্ঞতা ও ছবি তুলে নিয়ে এসেছিলেন। স্কুল কমিটিকে ছবিগুলো দেখানোর পর তারা সিদ্ধান্ত নিলেন, দোতলার দুটি রুম ভেঙে একটা জায়গা দেবেন। তিনি নিজের টাকায় সেখানে থেরাপি রুম করবেন। ওই সময় ডাক্তার শাহাদাত হোসেন তাঁকে ইউএসটিসিতে নিয়ে যান। কনসালটেন্ট হিসেবে ১৯৯৮ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত দুই বছর ওখানেই ছিলেন। পরে আবার চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে ফিরে আসেন শিশু বিভাগের কনসালটেন্ট হয়ে। ২০০০ সালের দিকে তিনি সেই অকুপেশনাল থেরাপি রুম তৈরি করেন। এখনও ‘অর্ণব সেন্সরি থেরাপি ইউনিট’ নামে সেই রুম রয়ে গেছে। এরমধ্যে চাকরির পাশাপাশি তিনি মেট্রোপলিটন হাসপাতালে চেম্বার শুরু করলেন। আয়ের একটা অংশ দিয়ে সুইড বাংলাদেশ ইনস্টিটিউটের জন্য কিনলেন ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, চেয়ার, ওয়াল বোর্ড, থেরাপি শিক্ষার বিভিন্ন জিনিসপত্র। কমিটিতে প্রথমে তিনি ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক, পরে ভাইস প্রেসিডেন্ট হন। কোভিডের আগ পর্যন্ত সেই পদেই ছিলেন।
ডা. বাসনা মুহুরী বলেন, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে শিশুরোগ বিভাগের প্রধান তখন প্রফেসর চৌধুরী বি মাহমুদ। তাঁকে বললাম- স্যার অটিজম এখন বিশাল এক সমস্যা। বিভিন্ন লিটারেচারে দেখেছি- আমাদের দেশেও এর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। আমার ছেলের স্কুলেই আছে ৩০ জনের মতো। হয়তো ঘরে ঘরে এরকম বাচ্চা আছে যাদের প্রকাশ্যে আনতে ভয় পাচ্ছে। আমরা ফিজিসিয়ানরা যদি এটা না জানি কীভাবে আইডেন্টিফাই করবো? যে সমস্ত বাচ্চা অটিস্টিক তাদের অভিভাবকদের জানাতে হবে কোথায় কী করতে হবে। সেসময় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশনের ক্লাস হতো। স্যার আমার বাচ্চাকে একদিন সেই ক্লাসে নিয়ে আসতে বললেন। আমি নিয়ে আসলাম অর্ণবকে। তখন তার বয়স ১০-১১ বছর। ক্লাসে সে স্থির হয়ে বসে নেই। সব ডাক্তার তার এসব কর্মকাণ্ড দেখলেন। আমি আমার ছেলেকে দিয়েই প্র্যাকটিক্যালি ডাক্তারদের অটিজম জিনিসটা বোঝালাম। ২০০৩ সালের দিকে স্যারকে সেমিনার করার প্রস্তাব দিলাম। ২০০৫ সালের প্রথমদিকে সেই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
আমার প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে সবাই সেদিন শুনলেন- অটিজম কী। অনেক পড়ে আমি বুঝেছি অটিজমের কারণ এখনো অজানা, এর জন্য মা-বাবা কেউই দায়ী নয়। এরমধ্যে আমি সিডিসি আমেরিকা এবং একটা অটিজম স্পিকসের সন্ধান পেয়েছি, যারা রিসার্চ করে জেনেছে- এটি কিছু জেনেটিক, কিছু পারিপার্শ্বিক পরিবেশের কারণে হয়। মায়ের যদি কোনো ভাইরাস জ্বর হয়, যদি ডায়াবেটিস থাকে, প্রি ম্যাচিউরড ডেলিভারি হয়, মাল্টিপল প্রেগনেন্সি হয়, মা যদি মানসিক অশান্তিতে থাকে, লো বার্থ ওয়েট বেবি- এগুলো মূল কারণ না হলেও পরোক্ষ কারণ হতে পারে। অটিজম চিকিৎসার জন্য কোনো ওষুধ পৃথিবীতে নেই। তবে যাদের কমরবিডিটি (একই সময়ে কিংবা পরপর দুই বা ততোধিক অসুস্থতা) আছে, তাদের মৃগী থাকতে পারে, ঘুমের সমস্যা থাকতে পারে, খিটখিটে হয়ে থাকতে পারে। এগুলোর জন্য কিছু ওষুধ দেন চিকিৎসকরা।

২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় লে. কর্নেল তোফায়েল আহমদ সার্কিট হাউসে অটিজম শিশুদের অভিভাবকদের নিয়ে কর্মশালা করলেন। ডা. বাসনা মুহুরী সেখানে মূল বক্তব্য দেন। সেদিন একটা কমিটি হলো, মুরাদপুরের মির্জারপুল এলাকায় যাত্রা শুরু হলো ‘অটিস্টিক চিলড্রেন ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টাল ফাউন্ডেশন, চট্টগ্রাম’ নামের স্কুলের। তাঁর কাছে প্রস্তাব রাখা হলো- এই স্কুলের মনোবিকাশ কেন্দ্রের পরিচালক হওয়ার। তিনি সেখানে দাতা সদস্য হলেন। এভাবে চট্টগ্রামে অটিজম নিয়ে তাঁর যাত্রা শুরু। মেডিক্যাল কারিকুলামে কমিউনিটি মেডিসিন বিষয়ে পড়ার সময় বাস্তব প্রশিক্ষণ ও গবেষণা করতে হয়। তিনি শিক্ষার্থীদের সুইড বাংলাদেশের সাথে সেতুবন্ধন তৈরি করে দেন, যাতে তারা অটিজম ছাড়াও প্রতিবন্ধিতা সম্পর্কে জানতে পারে। একইভাবে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশনরতরা সেখানে গবেষণার সুযোগ পাচ্ছে। এফসিপিএসে বিসিপিএস (বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান অ্যান্ড সার্জনস) এর থিসিস ডিজার্টেশন করতে হয়। বাংলাদেশ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী যারা এমডি বা এফসিপিএস পড়ছেন, তারাও চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের অধীনে ‘রিস্ক ফ্যাক্টর অব অটিজম’, ‘মেন্টাল কন্ডিশন অব দ্য প্যারেন্টস অব হেভিং স্পেশাল নিড চাইল্ড’ বিষয়ে গবেষণা শুরু করলেন। এই গবেষণা তিনি শুধু মেডিক্যালে সীমাবদ্ধ রাখেননি, অভিভাবকদেরও এতে যুক্ত করেছেন। পাশাপাশি চললো কাউন্সেলিং।
২০১০ সালে ডা. বাসনা মুহুরী আবারও ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিসে আক্রান্ত হলেন। প্রথমে রয়েল হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকালে তাঁকে অ্যান্টিকোয়াগুলেন্ট ওষুধ দিয়ে ফ্লাইটে স্কয়ার হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেও যখন অবস্থার কোনও উন্নতি হচ্ছিল না তখন সিদ্ধান্ত হয় সিঙ্গাপুর যাওয়ার। মৃত্যুর সাথে লড়াই করে সেখান থেকে ফিরে আসেন তিনি। এখনও রিভারেক্স নামের একটা ওষুধের সাহায্যে বেঁচে আছেন প্রোটিন এস ডিফেসিয়েন্সির সাথে লড়াই করে।
সেই বছরই তৎকালীন সরকারের কাছ থেকে ই-মেইলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং অটিজমের সেন্ট্রাল প্রতিনিধি স্বাক্ষরিত একটি চিঠি পেলেন। ২০১১ সালে ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন অটিজম-এ যোগদান করতে হবে। ওই কনফারেন্সে প্রথম সায়েন্টিফিক সেশনে তিনি ছিলেন মডারেটর। চট্টগ্রামে সব বিশেষায়িত স্কুলের শিক্ষক-অভিভাবকরা তিনদিনের কনফারেন্সে গেছেন। ওই বছরেই তাঁর পক্ষ থেকে চট্টগ্রামের সবগুলো প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে বিএমএ ভবনে ওয়ার্কশপ আয়োজন করা হয়। স্পেশাল এডুকেটর, অকুপেশনাল থেরাপিস্ট, স্পিচ ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্টদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করে দেন তিনি। ২০১৩ সালে নিউ ডেভেলপমেন্টাল আইন, প্রতিবন্ধিতা আইন বাস্তবায়নের গঠিত টেকনিক্যাল কমিটিতে তাঁকে রাখা হয় পরামর্শক হিসেবে।
সিঙ্গাপুর থেকে ফিরে আসার পর চট্টগ্রামের বাসিন্দা প্রকৌশলী ঝুলন কুমার দাশসহ কয়েকজন অটিস্টিক সন্তানের পিতা নিয়ে আসেন ‘অটিস্টিক চিলড্রেন ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব। তাদের কথা রাখতে হলো। মূল উদ্যোক্তা প্রকৌশলী ঝুলন। কাতালগঞ্জে ওই প্রতিষ্ঠানের অধীনে যাত্রা শুরু হলেও পরবর্তীতে প্রবর্তক সংঘের চারতলায় নিয়ে আসা হয় সব কার্যক্রম। একপর্যায়ে নাম পরিবর্তন করে নিষ্পাপ অটিজম ফাউন্ডেশন হলো। সেটির অধীনে চালু হয় নিষ্পাপ অটিজম স্কুল। শুরুতে ছিল চারটা বাচ্চা, সেই নিষ্পাপে এখন ১০৮ জন বাচ্চা। দুই শিফটে তারা সেখানে বিকশিত হচ্ছে। অনেকে স্বাভাবিক স্কুলে গেছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক আছেন ২৫ জন। দিল্লি থেকে আম্রপালি লাহিড়ী নামের বিশ্বখ্যাত একজন থেরাপিস্টকে প্রশিক্ষক হিসেবে আনা হয়েছিল। এই প্রশিক্ষণে শুধু নিষ্পাপ নয়, চট্টগ্রামের সব প্রতিষ্ঠানও পেয়েছে অংশগ্রহণের সুযোগ। ২০১৩ থেকে করোনা সংক্রমণের আগে প্রতিবছর এই প্রশিক্ষণ চলেছে। ঢাকা থেকেও আসতেন প্রশিক্ষকরা। এই স্কুলে সুফী মিজান ফাউন্ডেশন ও বিএসআরএম দুটি মাইক্রোবাস উপহার দেয়। ওষুধ কোম্পানিসহ বিভিন্নজনের কাছ থেকে এসেছে আর্থিক সহায়তা।
করোনাকালে করোনা আক্রান্ত হয়ে ১৮ দিন আইসিইউতে ছিলেন ডা. বাসনা মুহুরী। ম্যাক্স হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে নিষ্পাপ অটিজম ফাউন্ডেশনের মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্স গড়ার লক্ষ্যে স্বপ্ন মেলে এক প্রকল্পের, যার নাম দেন ‘মায়াকানন’। সুফী মিজান ফাউন্ডেশনসহ কয়েকজনের আর্থিক সহায়তায় ৬৫ লাখ টাকা খরচ করে কেনা হলো একটা জায়গা। চসিক ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের উত্তর ফতেয়াবাদ নন্দীরহাটে স্থায়ী ঠিকানা গড়েছে এই ‘মায়াকানন’। অটিজম ও অন্যান্য নিউরোডেভলপমেন্ট বৈশিষ্ট্য সম্পন্নদের জীবনমান উন্নয়ন, স্বাবলম্বী করা, কারিগরী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি যেতে চায় বহুদূর।

ডা. বাসনা মুহুরী পেয়েছেন অনেক প্রশংসাপত্র ও সম্মাননা। অটিজম উত্তরণে ভূমিকা রাখায় ২০১৮ সালে সম্মাননা পেয়েছে নিষ্পাপ অটিজম ফাউন্ডেশন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবসে ফাউন্ডেশনের পক্ষে এই সম্মাননা গ্রহণ করেন তিনি। এছাড়াও পেয়েছেন মেয়র পদক, শীর্ষস্থানীয় ১০ নারী সম্মাননা-২০২২, সমাজসেবা পদক-২০২৩। পেয়েছেন দেশ-বিদেশের প্রশংসাপত্র।
২০১৯ সালের ১৯ অক্টোবর চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর তিনি যোগ দেন মেরিন সিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শিশুরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে। তিনি বলেন, ‘আমি হয়তো একজন গাইনোকোজিস্ট হিসেবে প্র্যাকটিস চালিয়ে যেতাম। কিন্তু অর্ণব আমার ভাবনার জগৎ পাল্টে দিয়েছে। আমি শুধু ওর মা নই, আমাকে বাংলাদেশের প্রতিটি অটিস্টিক বাচ্চার মা বানিয়ে দিয়েছে অর্ণব।
তথ্যসূত্র- বাংলানিউজ২৪।